Whatsapp News: হোয়াটসঅ্যাপ কি আর নিরাপদ? সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা ও জুকারবার্গের ফাঁস হওয়া চ্যাট ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক
সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটের মুখে। একদিকে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে মেটা (Meta)-কে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে টেলিগ্রামের সিইও পাভেল দুরভ ফেসবুক ও মেটা-র প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের একটি পুরনো চ্যাট জনসমক্ষে এনে গোপনীয়তা বা 'প্রাইভেসি' নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। এই দুই ঘটনার জেরে হোয়াটসঅ্যাপের প্রায় ৪০০ কোটি (৪ বিলিয়ন) ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি বা প্রাইভেসি পলিসি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মেটা এবং হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ করেছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার হওয়া সত্ত্বেও এখানে ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে সংস্থাটি উদাসীন। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছে, যারা ভারতের সংবিধান ও আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হবে, তারা প্রয়োজনে দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারে। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, ব্যবহারকারীদের ডেটা প্রাইভেসি বা গোপনীয়তাকে বিচার বিভাগ কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই তিরস্কারের মাঝেই আগুনে ঘি ঢেলেছেন টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পাভেল দুরভ। তিনি মার্ক জুকারবার্গের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ের একটি পুরনো ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং চ্যাট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। ২০০৪ সালের সেই চ্যাটে দেখা যায়, জুকারবার্গ তার বন্ধুদের বলছেন যে তার কাছে হাজার হাজার ইমেল, ছবি এবং ঠিকানা রয়েছে।
যখন অপর প্রান্ত থেকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে মানুষ কেন তাকে এসব তথ্য দিচ্ছে, তখন জুকারবার্গের উত্তর ছিল:
"আমি জানি না কেন। তারা আমাকে বিশ্বাস করে। নির্বোধের দল (Dumb f**ks)।"
পাভেল দুরভ দাবি করেছেন, যদিও এই কথোপকথনটি ২০ বছরের পুরনো, কিন্তু মেটা বা ফেসবুকের মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। দুরভ টুইটারে (বর্তমানে X) লিখেছেন:
"এই কথোপকথনের পর থেকে যা বদলেছে তা হলো কেবল স্কেল বা আয়তন। আজ হোয়াটসঅ্যাপের মালিক ব্যক্তিগতভাবে ৪ হাজার নয়, বরং ৪ বিলিয়ন মানুষকে নিয়ে হাসছেন—যারা তার গোপনীয়তার দাবিতে (যেমন হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশন) অন্ধভাবে বিশ্বাস করেন।"
হোয়াটসঅ্যাপ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের প্ল্যাটফর্মে 'এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন' (End-to-End Encryption) ব্যবস্থা রয়েছে। এর অর্থ হলো, বার্তা প্রেরক এবং প্রাপক ছাড়া মাঝখানের কোনো তৃতীয় পক্ষ (এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ নিজেও) সেই বার্তা পড়তে পারে না।
কিন্তু পাভেল দুরভ এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এনক্রিপশন থাকলেও হোয়াটসঅ্যাপ প্রচুর পরিমাণে 'মেটাডেটা' (Metadata) সংগ্রহ করে। এই মেটাডেটার মধ্যে থাকে:
- আপনি কার সাথে কথা বলছেন।
- কখন কথা বলছেন।
- কতক্ষণ ধরে কথা বলছেন।
- আপনার লোকেশন এবং ডিভাইসের তথ্য।
দুরভের মতে, মেসেজের বিষয়বস্তু গোপন থাকলেও এই মেটাডেটা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে, যা বিজ্ঞাপনের কাজে বা নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
এটিই প্রথম নয় যে পাভেল দুরভ হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। ২০২১ সালে যখন হোয়াটসঅ্যাপ তাদের বিতর্কিত নতুন প্রাইভেসি পলিসি ঘোষণা করেছিল, তখন বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে টেলিগ্রাম এবং সিগন্যালের মতো অ্যাপে চলে গিয়েছিলেন। টেলিগ্রাম নিজেকে সর্বদা একটি নিরাপদ এবং সরকার বা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তথ্য শেয়ার না করা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাবি করে আসছে।
সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশ এবং পাভেল দুরভের এই তথ্য ফাঁসের পর ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যবহারকারীদের আস্থা বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। ৪০০ কোটি ব্যবহারকারী এখন নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে দোটানায়। এখন দেখার বিষয়, মেটা এই আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস ফেরাতে সক্ষম হয় কি না।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊