নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা, ২০ জুন: পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে দিনহাটা ও সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি টিচার্স সেলের উদ্যোগে দিনহাটার নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্মৃতি পাঠাগারে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা
এদিন প্রথমে দিনহাটার সংহতি ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি দিনহাটা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্মৃতি সদনে এসে পৌঁছায়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক গৌরবের বার্তা তুলে ধরেন। র্যালি শেষে নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্মৃতি সদনে প্রদীপ প্রজ্বলন ও উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
নিজস্ব চিত্র
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আহ্বায়ক চিত্তরঞ্জন দত্ত, জেলা সহ-আহ্বায়ক তপু সরকার, জেলা কমিটির সদস্য মানস রায়, জেলা কমিটির সদস্য লক্ষন বিশ্বাস, দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের আহ্বায়ক হরিশ অধিকারী এবং সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের আহ্বায়ক উত্তম বর্মন।
নিজস্ব চিত্র
আলোচনার গুরুত্ব
সংগঠনের তরফে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ দিবস কেবল একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস নয়, এটি বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয় রক্ষার সংগ্রামের স্মারক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সমীর হোসেন, দিনহাটা: পুরসভার আবাস যোজনায় সরকারি টাকা তছরুপ, জালিয়াতি এবং আর্থিক আত্মসাতের মামলায় ধৃত প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ক উদয়ন গুহকে নিয়ে তদন্তের গতি নাটকীয়ভাবে বাড়াল রাজ্য পুলিশ। শনিবার সকালে দিনহাটা থানায় পৌঁছে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই হাইপ্রোফাইল জিজ্ঞাসাবাদকে কেন্দ্র করে থানা চত্বর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
থানায় হাজির কে. জয়রামন ও জেলা পুলিশ সুপার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের পদস্থ আধিকারিক তথা আইপিএস (IPS) কে. জয়রামন এবং কোচবিহারের জেলা পুলিশ সুপার (SP) জসপ্রীত সিং এক বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে আচমকাই দিনহাটা থানায় হাজির হন। ১৭ জুন কলকাতায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই উদয়ন গুহ দিনহাটা থানার লক-আপে রয়েছেন। এদিন শীর্ষ আধিকারিকেরা সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের ঘরে গিয়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকার এই পুর-আবাস দুর্নীতির উৎস এবং এর সাথে জড়িত অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জানতে উদয়ন গুহকে একের পর এক প্রশ্নবাণে কোণঠাসা করেন বলে সূত্রের খবর।
কলকাতায় গ্রেফতার ও সাড়ে ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন কলকাতার ফুলবাগান থানা এলাকা থেকে পুলিশ চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে গ্রেফতার করেছিল উদয়ন গুহকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সরকারি আবাসন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে তছরুপ ও জাল নথির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির হদিস পেয়েছে পুলিশ। এরপর ১৮ জুন ব্যাপক জনরোষ এবং ক্ষোভের মধ্যে দিয়ে তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের (Police Custody) নির্দেশ দেন।
তদন্তে মিলতে পারে বড়সড় তথ্য!
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, সরকারি টাকা কোন কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে কোথায় পাঠানো হয়েছিল এবং এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সুবিধাভোগী (Beneficiaries) আর কারা কারা, সেই সংক্রান্ত নথিপত্র ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কে. জয়রামনের মতো দুঁদে অফিসারের নেতৃত্বে এই ম্যারাথন জেরা থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত থাকা আরও কিছু রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রাক্তন মন্ত্রীর এই পুলিশি হেফাজতের দিন যত এগোচ্ছে, দিনহাটা তথা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। পরবর্তী আদালতে তোলার দিনে পুলিশ নতুন কোনও তথ্য পেশ করে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সমীর হোসেন, দিনহাটা: দিনহাটা পুটিমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান রফিকুল হকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। শুক্রবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় বাড়ির পাঁচটি ঘর এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্র, পোশাক-আশাক ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
বোমা বিস্ফোরণের পর আগুন লাগানো অভিযোগ
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বেশ কয়েকটি মোটরবাইকে করে ৫০ থেকে ৬০ জন মুখোশধারী দুষ্কৃতী রফিকুল হকের বাড়ির কাছে আসে। অভিযোগ, তারা প্রথমে বাড়ির পাশের ট্রান্সমিটার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসার পর পরপর দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বোমার বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান। সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরা ছোট ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে পেট্রোল এনে বাড়ির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের এক সদস্য জানান, “হঠাৎ বাড়ির সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আমরা প্রাণভয়ে বেরিয়ে যাই। এরপর পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে ঘরের ভেতর থেকে কোনও জিনিসপত্রই বের করতে পারিনি।”
ভস্মীভূত ঘর, কাগজপত্র থেকে জামাকাপড়
ঘটনায় বাড়ির পাঁচটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। পাশাপাশি ঘরে থাকা আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
চাঞ্চল্য এলাকায়, তদন্তে পুলিশ
তবে কারা বা কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা
সাংবাদিক বৈঠকে দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা
সমীর হোসেন, দিনহাটা: তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর গ্রেফতারির পর এবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল দিনহাটায়। ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করার জেরে সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) আইনজীবীদের কুৎসিত আক্রমণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুললো বার অ্যাসোসিয়েশন। এই ‘থ্রেড কালচার’ বা হুমকির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে শনিবার এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করল দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশন (Dinhata Bar Association)। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই দিনহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
সংবিধান ও পেশাগত স্বাধীনতার ওপর আঘাত, সরব প্রবীণ আইনজীবীরা
এদিন দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাগৃহে আয়োজিত এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী অজিত কুমার দাস, নিহার রঞ্জন গুপ্ত, রতন কানু, মাসুদ হাসান সহ বার অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্য ও কর্মকর্তারা। আইনজীবীরা স্পষ্ট জানান, "ভারতবর্ষের সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই যে কোনও অভিযুক্ত বা ব্যক্তি আইনি সহায়তা চাইলে, তাঁর পক্ষে আদালতে সওয়াল করা আমাদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। এই কাজে বাধা দেওয়া কিংবা সামাজিক মাধ্যমে আইনজীবীদের হুমকি দেওয়া স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর বড়সড় আঘাত এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক।"
থ্রেড কালচারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি
আইনজীবীদের অভিযোগ, উদয়ন গুহর গ্রেফতারির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একদল মানুষ আইনজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। এই ধরণের অপসংস্কৃতি আইনজীবীদের নির্ভীকভাবে কাজ করার পরিবেশ নষ্ট করছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ প্রশাসন যেন অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত করে সামাজিক মাধ্যমে হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একই সাথে সমস্ত আইনজীবীদের পেশাগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
কী বলছেন ওয়াকিবহাল মহল?
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর উদয়ন গুহর মতো হাইপ্রোফাইল নেতার গ্রেফতারি নিয়ে জনমানসে তীব্র আবেগ ও উত্তেজনা রয়েছে। কিন্তু আইনের আঙিনায় পেশাদার আইনজীবীদের এভাবে নিশানা করার ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নজিরবিহীন বলে মনে করছেন।
সাড়ম্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন বাসন্তীরহাট কুমুদিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদন, কোচবিহার: ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস (West Bengal Day) পালিত হলো কোচবিহার জেলার বাসন্তীরহাট কুমুদিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে (Basantirhat Kumudini High School)। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে ছিল বিদ্যালয়ের জাতীয় সেবা প্রকল্প (NSS) ইউনিট। দিনব্যাপী নানান মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচি ও আকর্ষণ
বিদ্যালয়ের প্রকাশিত কর্মসূচী অনুযায়ী, সকাল ৮টায় ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
সকাল ৮.১৫ মিনিটে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং জাতীয় সঙ্গীত ও 'বন্দেমাতরম' গাওয়ার মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এরপর সকাল ৮.৩০ মিনিটে প্রধান শিক্ষক তাঁর স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
সকাল ৮.৪০ মিনিটে বিদ্যালয়ের দেওয়াল পত্রিকার উন্মোচন করা হয় এবং ৮.৫০ মিনিটে সেটি পরিদর্শন করা হয়।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গ বিষয়ক ক্যুইজ প্রতিযোগিতা।
সকাল ৯.৩০ মিনিটে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে "আমার চোখে পশ্চিমবঙ্গ" শীর্ষক একটি আকর্ষণীয় বক্তব্য ও উপস্থাপন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯.৫০ মিনিটে নাচ, গান ও আবৃত্তির মতো বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে ওঠে পড়ুয়ারা।
সকাল ১২.৩০ মিনিটে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং সবশেষে দুপুর ১২.৫০ মিনিটে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
অঙ্কন প্রতিযোগিতার ফলাফল
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অঙ্কন ও ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় পড়ুয়ারা বিপুল উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে।
প্রথম স্থান: অমিতাভ বর্মণ (Amitabh Barman) – ষষ্ঠ শ্রেণি (VI/A), রোল- ১
দ্বিতীয় স্থান: সোনালী দাস (Sonali Das) – একাদশ শ্রেণি (XI/B), রোল- ১
তৃতীয় স্থান: টাপুর বর্মণ (Tapur Barman) – অষ্টম শ্রেণি (VIII/B), রোল- ১১
(ছবি: নিজস্ব)
ক্যুইজ প্রতিযোগিতার ফলাফল
প্রথম স্থান: গ্রুপ- ডি (Group- D) – প্রাপ্ত নম্বর ৫৫
দ্বিতীয় স্থান: গ্রুপ- বি (Group- B) – প্রাপ্ত নম্বর ৪৫
তৃতীয় স্থান: গ্রুপ- এ (Group- A) – প্রাপ্ত নম্বর ৩৫
বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ পড়ুয়াদের মধ্যে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশেও বিশেষ সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকরা। উল্লেখ্য, এই বিদ্যালয়টি এর আগে বিশ্ব যোগ দিবসের প্রাক্কালে একটি সচেতনতামূলক পদযাত্রারও আয়োজন করেছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদন, কোচবিহার: আগামীকাল ২১শে জুন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day)। শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে যোগব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই— এই বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে যোগ দিবসের প্রাক্কালে এক অভিনব ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করল কোচবিহারের বাসন্তীরহাট কুমুদিনী উচ্চ বিদ্যালয়। শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাড়ম্বরে পালিত হল যোগ দিবসের প্রাক-প্রস্তুতি পর্ব।
যোগ দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে শপথ গ্রহণ
এদিন সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুস্থ জীবনযাপন এবং দৈনন্দিন জীবনে যোগাভ্যাসকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে পড়ুয়ারা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য সহ-শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের নির্দেশনায় ছাত্র-ছাত্রীরা অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে এই শপথ গ্রহণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।
নজর কাড়ল 'Walk for Yoga' সচেতনতা র্যালি
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে একটি সুদৃশ্য র্যালির আয়োজন করা হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'Walk for Yoga' বা যোগের জন্য পদযাত্রা। এই বর্ণাঢ্য র্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বাসন্তীরহাটের মূল বাজার এলাকা পরিক্রমা করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ছিল যোগাভ্যাসের উপকারিতা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন। স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের এই পদযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে ছিল বিদ্যালয়ের জাতীয় সেবা প্রকল্প বা এনএসএস (NSS) ইউনিট। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সুপরিকল্পিত রূপরেখা এবং এনএসএস ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে এই র্যালি এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সর্বাঙ্গীণভাবে সফল হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
যোগ দিবস পালনের কর্মসূচি (FAQ)
প্রশ্ন: বিশ্ব যোগ দিবসের প্রাক্কালে বাসন্তীরহাট কুমুদিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে কী কী কর্মসূচি পালিত হলো?
উত্তর: যোগ দিবস উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা শপথ গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বাজার এলাকায় একটি সুদৃশ্য 'Walk for Yoga' র্যালি বা পদযাত্রা আয়োজিত হয়।
প্রশ্ন: এই সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে কারা ছিলেন?
উত্তর: বাসন্তীরহাট কুমুদিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের জাতীয় সেবা প্রকল্প (National Service Scheme বা NSS) ইউনিট এই সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে।
প্রশ্ন: 'Walk for Yoga' র্যালিটি কোন এলাকা পরিক্রমা করে?
উত্তর: সুদৃশ্য এই র্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে কোচবিহারের বাসন্তীরহাটের মূল বাজার এলাকা পরিক্রমা করে।
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা— যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar), পিএম কিষান (PM Kisan), কন্যাশ্রী থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের সাবসিডি— এখন সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। আর এই টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢোকার মূল শর্তই হলো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডিবিটি (DBT - Direct Benefit Transfer) লিঙ্ক থাকা।
ডিবিটি (DBT) বা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার কী?
ডিবিটি (DBT) হলো সরকারি ভর্তুকি বা অনুদান সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর একটি মাধ্যম। এটি আধার কার্ডের মাধ্যমে কাজ করে (Aadhaar Seeding)। আপনার যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি লিঙ্ক করা থাকবে, সরকারি যেকোনো প্রকল্পের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই অ্যাকাউন্টেই জমা হবে।
বর্তমানে অনেকেই ডিজিটাল ব্যাংকিং হিসেবে 'এয়ারটেল পেমেন্ট ব্যাংক' (Airtel Payments Bank) ব্যবহার করেন। আপনি যদি চান আপনার সরকারি প্রকল্পের সমস্ত টাকা সরাসরি এই ব্যাংকে আসুক, তবে খুব সহজেই Airtel Thanks App-এর মাধ্যমে আপনি ডিবিটি লিঙ্ক করে নিতে পারেন। চলুন জেনে নিই এর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া।
Airtel Thanks App-এর মাধ্যমে DBT Link করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি
ডিবিটি লিঙ্ক করার জন্য আপনাকে ব্যাংকের কোনো শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই, নিজের স্মার্টফোন থেকেই এটি করতে পারবেন। নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: প্রথমে আপনার মোবাইলে থাকা Airtel Thanks App-টি খুলুন। (যদি না থাকে, তবে Google Play Store থেকে ডাউনলোড করে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ-ইন করুন)।
ধাপ ২: অ্যাপের নিচের দিকে থাকা 'Pay' বা 'Banking' অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: এবার ব্যাংকিং পেজের মেনু থেকে 'More' বা 'Settings' অপশনে যান। সেখানে 'Direct Benefit Transfer (DBT)' বা 'Link Aadhaar for DBT' নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেটিতে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: এরপর একটি নতুন পেজ খুলবে, যেখানে 'Link Aadhaar' অপশনে ক্লিক করতে হবে।
ধাপ ৫: এখানে আপনাকে দুটি অপশন দেখানো হবে— প্রথমবার লিঙ্ক করছেন (First time linking), নাকি পুরনো কোনো ব্যাংক থেকে ডিবিটি এয়ারটেল ব্যাংকে স্থানান্তর করছেন (Change existing linking)। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী অপশন বেছে নিন।
ধাপ ৬: এরপর আপনার আধার নম্বর (Aadhaar Number) লিখুন এবং 'Get OTP'-তে ক্লিক করুন।
ধাপ ৭: আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে। সেটি নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে 'Submit' করে দিলেই আপনার আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়ে যাবে।
কেন এয়ারটেল পেমেন্ট ব্যাংকে ডিবিটি লিঙ্ক করবেন?
এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার এয়ারটেল পেমেন্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডিবিটি লিঙ্ক সফলভাবে যুক্ত হয়ে যাবে। এয়ারটেল পেমেন্ট ব্যাংক একটি সম্পূর্ণ পেপারলেস এবং ডিজিটাল মাধ্যম। এতে টাকা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইলে এসএমএস (SMS) অ্যালার্ট চলে আসে। এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মিনিমাম ব্যালেন্স রাখার কোনো ঝামেলা নেই, তাই সরকারি টাকা কেটে নেওয়ার কোনো ভয়ও থাকে না।
DBT Link Update (FAQ)
প্রশ্ন: Airtel Payment Bank-এ DBT Link করতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: অ্যাপের মাধ্যমে আধার ওটিপি (OTP) দিয়ে আবেদন করার পর সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বা ২-৩ কার্যদিবসের মধ্যে ডিবিটি লিঙ্ক হয়ে যায়।
প্রশ্ন: ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক করা থাকলে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
উত্তর: ডিবিটি লিঙ্ক থাকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, পিএম কিষান, বার্ধক্য ভাতা, রান্নার গ্যাসের সাবসিডি-সহ সরকারি সমস্ত প্রকল্পের টাকা সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায়।
প্রশ্ন: আমি কি আমার আগের ব্যাংকের ডিবিটি সরিয়ে এয়ারটেল ব্যাংকে আনতে পারি?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনি Airtel Thanks App-এ 'Change existing linking' অপশনটি বেছে নিয়ে খুব সহজেই পুরনো ব্যাংকের ডিবিটি এয়ারটেল পেমেন্ট ব্যাংকে স্থানান্তর করতে পারবেন।
স্পিকারের কাছে ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের পদ খারিজের দাবি
নয়াদিল্লি: মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ফাটল ধরেছিল, তা এবার দিল্লির সংসদ ভবনে চরম আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপ নিল। লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদের দলত্যাগ এবং এনসিপিআই (NCPI) দলে যোগ দেওয়ার পাল্টা হিসেবে এবার একযোগে অলআউট আক্রমণে নামল তৃণমূল নেতৃত্ব। শুক্রবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সশরীরে দেখা করে ওই ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের লোকসভার সদস্যপদ অবিলম্বে খারিজ করার দাবি তুললেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
স্পিকারের কাছে ২০টি পৃথক পিটিশন জমা
এদিন লোকসভায় তৃণমূলের প্রবীণ মুখ সৌগত রায়, দুঁদে আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েনকে সঙ্গে নিয়ে লোকসভা স্পিকারের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) বা সংবিধানের দশম তফসিল (10th Schedule) মেনে ওই ২০ জন দলবদলু সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক ২০টি সদস্যপদ বাতিলের আবেদন (Disqualification Petitions) স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
‘চিটিংবাজি’র রাজনীতি বরদাস্ত নয়, তোপ অভিষেকের
সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কেউ তৃণমূলের প্রতীক (Symbol) নিয়ে ভোটে জিতে সাংসদ হবেন, আর ঠিক দু'বছরের মাথায় এসে দাবি করবেন যে তাঁরা অন্য একটি দলে যোগ দিচ্ছেন, এই ধরণের চিটিংবাজি ও অনৈতিক রাজনীতি চলতে পারে না। দশম তফসিল অনুযায়ী, যদি কোনও সদস্য স্বেচ্ছায় নিজের দল ত্যাগ করেন, তবে তাঁর সদস্যপদ অবিলম্বে খর্ব হওয়া উচিত।"
এনসিপিআই-এর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে খোঁচা
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে স্বল্প পরিচিত দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দিয়ে লোকসভায় আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছে এবং এনডিএ (NDA) জোটকে সমর্থনের ঘোষণা করেছে। এই বিষয়টিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, "ওঁরা যে এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়ার দাবি করছেন, সেই দলের নাম দেশের কেউ কোনওদিন শোনেনি। এমনকি যারা যোগ দিয়েছেন, তারাও আগে শোনেননি। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও বিধানসভা বা লোকসভা দলের দুই-তৃতীয়াংশ ভাঙলেই তা বৈধ হয় না, মূল রাজনৈতিক দলটির দুই-তৃতীয়াংশ অংশ অন্য দলে মিশতে হয়। এখানে তা হয়নি।"
৩ মাসের মধ্যে সিদ্ধান্তের আর্জি ও পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ
সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একটি রায়ের নজির টেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার ওম বিড়লাকে অনুরোধ করেছেন, যেন আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই দলত্যাগ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি করা হয়। সেই সঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, "যদি ওঁদের এতই সততা ও নৈতিকতা থাকে, তবে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন করে মানুষের দরবারে ভোট চাইতে যান। ভোটাররাই ঠিক করুক তারা কাকে চান।"
তৃণমূলের এই কড়া ও আইনি পদক্ষেপের পর, লোকসভার স্পিকার এই ২০ জন সাংসদের ভাগ্য নির্ধারণে কী ভূমিকা নেন এবং দিল্লির বুকে এই নজিরবিহীন সংসদীয় যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।
তৃণমূলের 'বিদ্রোহ' ও লোকসভার সাম্প্রতিক সংঘাত: FAQ
১. তৃণমূলের কতজন সাংসদ সম্প্রতি বিদ্রোহ করেছেন এবং তাঁরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
উত্তর: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জেতা ২৯ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন সাংসদ দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁরা কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে একটি স্বল্প পরিচিত রাজনৈতিক দল NCPI (Nationalist Citizens Party of India)-তে যোগ দেওয়ার (Merge) কথা ঘোষণা করেছেন এবং কেন্দ্রের শাসক জোট NDA-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
২. NCPI (এনসিপিআই) আসলে কী ধরণের রাজনৈতিক দল এবং এর অফিস কোথায়?
উত্তর: নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, NCPI (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া) হলো ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি নথিভুক্ত হওয়া একটি 'Registered Unrecognised Political Party' (RUPP)। এই দলটির মূল প্রতিষ্ঠাতা হলেন উত্তীয় কুণ্ডু (সভাপতি) এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি কুণ্ডু (কোষাধ্যক্ষ)। যদিও এই দলটির মূল শিকড় বা রেজিস্টার্ড অফিস রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার সাঁকরাইলের বাণীপুর এলাকায় (একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যালয়ে)। এই দলটি ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিলেও একটি আসনেও জিততে পারেনি।
৩. তৃণমূলের ২০ জন সাংসদের দলবদলের পর লোকসভায় রাজনৈতিক সমীকরণ কী দাঁড়াচ্ছে?
উত্তর: এই ২০ জন সাংসদের দলবদল যদি লোকসভার স্পিকারের দ্বারা আইনি স্বীকৃতি পায়, তবে লোকসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২৯ থেকে কমে মাত্র ৮টিতে এসে দাঁড়াবে (১টি আসন আগেই শূন্য ছিল)। অন্যদিকে, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোটের শক্তি ২৯৪ থেকে বেড়ে ৩১৪-তে পৌঁছাবে, যা আসন্ন বাদল অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কৌশলগত সুবিধা দেবে।
৪. এই দলবদলের বিরুদ্ধে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
উত্তর: তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ হয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক ২০টি সদস্যপদ বাতিলের আবেদন (Disqualification Petitions) জমা দিয়েছেন এবং দলত্যাগ বিরোধী আইন মেনে অবিলম্বে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবি তুলেছেন।
৫. আইনত এই সাংসদদের পদ কি খারিজ হতে পারে? 'দলত্যাগ বিরোধী আইন' কী বলে?
উত্তর: সংবিধানের দশম তফসিল (10th Schedule) বা দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) অনুযায়ী, কোনও নির্বাচিত সাংসদ যদি স্বেচ্ছায় তাঁর মূল দল ত্যাগ করেন, তবে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হয়ে যায়।
• বিদ্রোহীদের যুক্তি: তাঁদের দাবি, তাঁরা মোট তৃণমূল সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) অংশ ভাঙতে সফল হয়েছেন (২৯ জনের মধ্যে ২০ জন), তাই দলত্যাগ বিরোধী আইন তাঁদের ওপর কার্যকর হবে না।
• তৃণমূলের যুক্তি: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী, শুধুমাত্র সংসদের ভেতরের দুই-তৃতীয়াংশ ভাঙলেই চলে না, মূল রাজনৈতিক সংগঠনটিরই দুই-তৃতীয়াংশ অংশ অন্য দলের সাথে মিশে যেতে হয়। যেহেতু মূল তৃণমূল দল এনসিপিআই-এর সাথে মেশেনি, তাই এই ২০ জনের সংসদ পদ অবিলম্বে খারিজ হওয়া উচিত।
৬. এই বিদ্রোহের পেছনে মূল কারণ কী বলে মনে করা হচ্ছে?
উত্তর: ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পরেই মূলত এই সংকটের সূত্রপাত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED/CBI)-র ভয়, আর্থিক প্রলোভন এবং বিজেপির রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করেই এই সাংসদেরা নিজেদের আত্মসম্মান বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ শিবিরের দাবি, দলের অন্দরে তাঁদের ক্ষোভ বা অভিযোগ জানানোর মতো কোনও গণতান্ত্রিক জায়গা অবশিষ্ট ছিল না।
মিড ডে মিলে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্কুল ঘেরাও করে বিক্ষোভ
অভীক মিত্র, দুবরাজপুর: মিড-ডে মিলের (Mid-day Meal) চাল চুরি ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের মেটেলা হাইস্কুলে। এই দুর্নীতির নেপথ্যে স্কুলের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের সাথে এলাকার এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতার গোপন আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিডিও-র (BDO) কাছে অভিযোগ জানানোর জেরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এক মহিলাকে হুমকি দেওয়ার অপরাধে দফায় দফায় স্কুল ঘেরাও এবং অভিযুক্ত বিজেপি নেতার বাড়িতে চড়াও হয়ে বিক্ষোভ দেখালেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
আর্থিক অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেটেলা উচ্চ বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল রান্নার দায়িত্বে রয়েছে এলাকার মোট ১২টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self Help Group)। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে পালা করে এক একটি গোষ্ঠী স্কুলে রান্নার কাজ পরিচালনা করে। কিন্তু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের মিড-ডে মিলের চাল চুরি করা হচ্ছে এবং পরিচালনায় একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতি চালানো হচ্ছে।
বিডিও-র কাছে নালিশ করতেই হুমকি, টার্গেট স্বনির্ভর গোষ্ঠী
এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে সম্প্রতি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা দুবরাজপুরের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও-র কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই শুরু হয় আসল নাটক। অভিযোগ, অভিযোগকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এক মহিলাকে ফোনে চরম হুমকি দেন স্থানীয় এক নেতা রঞ্জিত মণ্ডল। এই রঞ্জিত মণ্ডল আগে তৃণমূলের দাপুটে নেতা ছিলেন এবং বর্তমানে দলবদল করে বিজেপির নেতা হয়েছেন। অভিযোগকারিনীদের দাবি, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের সাথে হাত মিলিয়ে রঞ্জিত মণ্ডলই এই চাল চুরির সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন এবং মুখ বন্ধ রাখতে মহিলাদের হুমকি দিচ্ছেন।
স্কুল ঘেরাও ও নেতার বাড়িতে চড়াও গ্রামবাসীরা
দুর্নীতি ও হুমকির জোড়া অভিযোগে শুক্রবার মেটেলা হাইস্কুলে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা লাঠি-সোঁটা নিয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে স্কুলের ঘরেই ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের একাংশ দলবদলু বিজেপি নেতা রঞ্জিত মণ্ডলের বাড়িতেও চড়াও হন এবং তাঁর বাড়ি ঘিরে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাজনৈতিক রং ভুলে গ্রামের সাধারণ মানুষ ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা একযোগে এই চুরির বিচার দাবি করেন।
সব ধুয়ে মুছে সাফ করার চেষ্টা প্রধান শিক্ষকের
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মেটেলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক অদ্ভুত দাবি করে বলেন, "স্কুলে কোনও বিক্ষোভ বা ঘেরাও হয়নি, বিষয়টি নিয়ে কেবল মাত্র আলোচনা হয়েছে। কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও সমস্যা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে আগামী ২৪ জুন সমস্ত পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।"
মেটেলা হাইস্কুল দুর্নীতি (FAQ)
প্রশ্ন: বীরভূমের মেটেলা হাইস্কুলে কী নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে?
উত্তর: মিড-ডে মিলের চাল চুরি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা।
প্রশ্ন: স্থানীয়রা এই দুর্নীতির জন্য কাদের দায়ী করেছেন?
উত্তর: স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রধান শিক্ষক এবং একসময়কার দাপুটে তৃণমূল নেতা ও বর্তমানে বিজেপি নেতা রঞ্জিত মণ্ডল যৌথভাবে এই দুর্নীতির সাথে যুক্ত।
প্রশ্ন: বিডিও-র কাছে অভিযোগ করার পর কী ঘটেছিল?
উত্তর: বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর, অভিযোগকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এক মহিলাকে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রঞ্জিত মণ্ডলের বিরুদ্ধে।
শনিবার বাংলা থেকেই কৃষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের কোটি কোটি অন্নদাতাদের জন্য ফের একবার বড়সড় সুখবর নিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী শনিবার, ২০ জুন (২০২৬) প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN) যোজনার বহুপ্রতীক্ষিত ২৩তম কিস্তির টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে চলেছেন তিনি। তবে এবারের এই মেগা কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের হুগলি জেলার পুণ্যভূমি তারকেশ্বর থেকেই দেশজোড়া এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মেগা ফাণ্ড রিলিজ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এক ক্লিকে ঢুকবে ১৮,৮৮০ কোটি টাকা, উপকৃত হবেন ৯ কোটিরও বেশি কৃষক
নবান্ন ও কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ জুন তারকেশ্বরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডিজিটাল বোতাম টিপে এক ক্লিকে দেশের ৯.৪৪ কোটিরও বেশি নথিভুক্ত কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২,০০০ টাকা করে পাঠাবেন। এই দফায় মোট ১৮,৮৮০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT-এর মাধ্যমে) হস্তান্তরিত করা হবে।
বাংলাকে বেছে নেওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
এবারের কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য স্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের তারকেশ্বরকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এক বড়সড় রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দিক। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এপ্রিল মাসের দুই দফায় হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টি আসনে বিপুল জয় পায় বিজেপি। মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর, এই প্রথম বাংলায় দাঁড়িয়ে দেশজোড়া কোনও মেগা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ রিলিজ করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এর আগে ২১তম কিস্তির টাকা তামিলনাড়ু এবং ২২তম কিস্তির টাকা অসমের গুয়াহাটি থেকে রিলিজ করা হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গের নাম।
কারা পাবেন এবং কারা পাবেন না এই টাকা?
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সমস্ত কৃষকদের নাম এই প্রকল্পে নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁরা ২০ জুনের আগেই নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিশ্চিত করুন, অন্যথায় কিস্তির টাকা আটকে যেতে পারে:
১. e-KYC: কৃষকদের অবশ্যই তাঁদের অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে e-KYC প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে রাখতে হবে।
২. আধার লিঙ্ক (Aadhaar Link): ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ড এবং NPCI (National Payments Corporation of India) লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক।
কীভাবে চেক করবেন পেমেন্ট স্ট্যাটাস?
আবেদনকারী কৃষকেরা এই ২৩তম কিস্তির টাকা পাবেন কি না, তা জানতে পিএম কিষাণের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (pmkisan.gov.in) গিয়ে 'Know Your Status' অপশনে ক্লিক করে নিজেদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিয়ে সহজেই বর্তমান পেমেন্ট স্ট্যাটাস দেখে নিতে পারবেন। রাজ্যে নতুন শাসনভার আসার পর প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম মেগা সফর এবং তারকেশ্বর থেকে দেশজোড়া প্রকল্পের এই সূচনাকে ঘিরে রাজ্য জুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে।
পিএম কিষাণ ২৩তম কিস্তি (FAQ)
প্রশ্ন: পিএম কিষাণের ২৩তম কিস্তির টাকা কবে দেওয়া হবে?
উত্তর: আগামী শনিবার, ২০ জুন (২০২৬) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পিএম কিষাণ যোজনার ২৩তম কিস্তির টাকা রিলিজ করবেন।
প্রশ্ন: এবারের কিস্তির টাকা কোথা থেকে রিলিজ করা হবে?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার তারকেশ্বরে আয়োজিত একটি মেগা অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী এই ফাণ্ড রিলিজ করবেন।
প্রশ্ন: টাকা পাওয়ার জন্য কী কী কাজ সম্পূর্ণ থাকা বাধ্যতামূলক?
উত্তর: কৃষকদের অবশ্যই পিএম কিষাণ পোর্টালে e-KYC সম্পূর্ণ রাখতে হবে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ড ও NPCI লিঙ্ক থাকতে হবে।