BREAKING
আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর • জেলার খবর • রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ খবর • দেশের বড় খবর • আন্তর্জাতিক খবর • বিনোদনের খবর • চাকরির আপডেট • সরকারি প্রকল্পের খবর •

খাবার পৌঁছে দেওয়াই হলো কাল! উদয়ন-পত্নীকে সাহায্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দীপ্তিমান সেনগুপ্তর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর

দীপ্তিমান সেনগুপ্তর বাড়িতে হামলা, Diptiman Sengupta house attacked, Udayan Guha wife food controversy, Dinhata Politics Cooch Behar
উদয়ন-পত্নীকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আক্রান্ত দীপ্তিমান সেনগুপ্ত

সমীর হোসেন, দিনহাটা: রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার নজির গড়তে চেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন চরম রাজনৈতিক শত্রুর পরিবারকে দুঃসময়ে সাহায্য করবেন। কিন্তু সেই খাবার পৌঁছে দেওয়াই যেন কাল হলো ছিটমহল আন্দোলনের অন্যতম মুখ দীপ্তিমান সেনগুপ্তর (Diptiman Sengupta) জন্য। গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহের স্ত্রী ও দিদির জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খোদ দীপ্তিমানের বাড়িতেই ঢুকে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিনহাটার রাজনৈতিক মহলে।

ডিম ছোড়া থেকে ডিভিআর (DVR) লোপাট!

দীপ্তিমান সেনগুপ্তর অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে বিজেপি আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী আচমকাই তাঁর দিনহাটার বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ির বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করার পাশাপাশি, জোর করে ঘরের ভেতরে ঢুকে সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর (DVR) মেশিন খুলে নিয়ে চলে যায় তারা। শুধু তাই নয়, ঘরের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে পচা ডিম ছোড়া ও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন দীপ্তিমান।

প্রসঙ্গত, একাধিক মামলায় গত ১৭ জুন গ্রেপ্তার হন প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহ। এরপর ১৮ জুন তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। সেই ডামাডোলের মাঝেই আজ, ১৯শে জুন কলকাতা থেকে দিনহাটার বাবুপাড়ার বাড়িতে ফেরেন উদয়ন গুহের স্ত্রী শাশ্বতী গুহ ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। ফাঁকা বাড়িতে তাঁদের দুপুরে খাবারের সমস্যা হতে পারে ভেবেই নিজের হাতে খাবার নিয়ে উদয়ন-পত্নীর কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন দীপ্তিমান সেনগুপ্ত

রাজনৈতিক দূরত্ব এবং বিজেপিকে নিশানা

উদয়ন গুহের স্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর খবরটি সংবাদমাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দীপ্তিমানের বাড়িতে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়। দীপ্তিমান একসময় বিজেপির দাপুটে নেতা থাকলেও, পরবর্তীতে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও, তাঁর বাড়িতে হামলার জন্য তিনি স্পষ্টতই দিনহাটার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দিকে আঙুল তুলেছেন।

"মানবিকতা দেখাতে গিয়ে আক্রান্ত হলাম"

হামলার ঘটনার পর রীতিমতো ক্ষুব্ধ দীপ্তিমান সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "এর আগেও যখন দিনহাটার বর্তমান বিধায়ক অজয় রায়ের বাড়িতে হামলা হয়েছিল, আমি খাবার পৌঁছে দিয়েছিলাম। সিপিআইএম নেতা শুভ্রালোক দাসের বাড়িতে এবং রকি রায় চৌধুরীর বাড়িতে যখন হামলা হয়েছিল, আমি তখনও গিয়েছিলাম। এবার উদয়ন গুহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর বাড়িতেও আমি একইভাবে খাবার পৌঁছে দিয়েছি, কারণ এটাই মানবিকতা।"

এরপরই বর্তমান তৃণমূল ও বিজেপি নেতৃত্বকে একযোগে আক্রমণ করে তিনি বলেন, "আগে উদয়ন গুহের আমলে দিনহাটায় এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটত, আর এখন সেই একই ঘটনা অজয় রায়ের আমলেও ঘটছে। কোনো পরিবর্তন হয়নি।" এই ঘটনার জেরে দিনহাটার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

দীপ্তিমান সেনগুপ্তর বাড়িতে হামলা (FAQ)

প্রশ্ন: দীপ্তিমান সেনগুপ্তর বাড়িতে কেন হামলা চালানো হলো?

উত্তর: প্রাথমিক অনুমান, গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে।

প্রশ্ন: এই হামলার জন্য দীপ্তিমান সেনগুপ্ত কাদের দায়ী করেছেন?

উত্তর: দীপ্তিমান সেনগুপ্ত সরাসরি বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে তাঁর বাড়িতে ঢুকে মারধর, সিসিটিভি ভাঙচুর এবং ডিভিআর মেশিন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

প্রশ্ন: দীপ্তিমান সেনগুপ্ত কি বর্তমানে বিজেপির সাথে যুক্ত?

উত্তর: একসময় তিনি ছিটমহল আন্দোলনের নেতা হিসেবে বিজেপিতে যোগ দিলেও, বর্তমানে দলের সাথে তাঁর যথেষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদে নেই।

উদয়ন-পত্নীকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আক্রান্ত দীপ্তিমান সেনগুপ্ত সমীর হোসেন, দিনহাটা: রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ...

জ্যৈষ্ঠে মলমাস, আষাঢ়ে জামাইষষ্ঠী! এবার কি ষষ্ঠী পূজায় 'ষাট্ জাগানো' যাবে না? সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন পুরোহিত

আষাঢ় মাসে জামাইষষ্ঠী, Jamai Sasthi in Ashar month, Shat Jagano Myth, Jamai Sasthi 2026, Bengali Festival
জ্যৈষ্ঠে মলমাস থাকায় আষাঢ়ে পালিত হচ্ছে জামাইষষ্ঠী

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম একটি বড় উৎসব হলো জামাইষষ্ঠী। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসে এই উৎসব পালিত হলেও, এবার পঞ্জিকা মতে জ্যৈষ্ঠ মাস হলো 'মলমাস'। আর সেই কারণেই এবারের জামাইষষ্ঠী বা অরণ্যষষ্ঠী পিছিয়ে পড়েছে আষাঢ় মাসে। কিন্তু এই মাস পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে এক চরম বিভ্রান্তি ও জল্পনা।

মলমাসের জেরে আষাঢ়ে জামাইষষ্ঠী, বিভ্রান্তি চরমে

একাংশ মানুষের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে যে, যেহেতু মলমাস পেরিয়ে আষাঢ় মাসে এবারের ষষ্ঠী পড়েছে, তাই এবার ষষ্ঠী পূজাতে প্রথা মেনে 'ষাট্ জাগানো' (বাঙালির একটি বিশেষ মাঙ্গলিক আচার) যাবে না। আবার অনেকেই মনে করছেন, এবারের জামাইষষ্ঠী শনিবার পড়ায় হয়তো পূজার বিধিনিয়মে কোনো বাধা বা কাঁটছাঁট হতে পারে। গৃহস্থের মঙ্গল এবং সন্তানদের কল্যাণের এই ব্রত নিয়ে এমন জল্পনায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পড়েছিলেন বহু মানুষ।

'ষাট্ জাগানো' ও শনিবারের পুজো নিয়ে কী বলছে শাস্ত্র?

সাধারণ মানুষের এই বিভ্রান্তি দূর করতে এবং শাস্ত্রীয় প্রকৃত বিধি জানতে সংবাদ একলব্যের প্রতিনিধি কথা বলেছিলেন বিশিষ্ট পুরোহিত শঙ্কর চক্রবর্তীর সঙ্গে। তিনি এই সম্পূর্ণ জল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এমন কোনো নির্দেশ বা শাস্ত্রীয় বিধি নেই যেখানে বলা আছে যে আষাঢ় মাসে ষষ্ঠী পূজা হলে 'ষাট্ জাগানো' যাবে না।

পুরোহিত শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, "অনেকে মলমাস শেষ হয়ে আষাঢ়ে ষষ্ঠী পড়ায় হয়তো এমন অমূলক বিষয় ভাবছেন, কিন্তু শাস্ত্রে এর কোনো ভিত্তি নেই; এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।"

শনিবারে পুজো পড়া নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও আলোকপাত করেছেন তিনি। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, জামাইষষ্ঠী বা অরণ্যষষ্ঠীর মতো ব্রত বা পূজার সঙ্গে শনি বা অন্য কোনো বারের আদতে কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক থাকে না। তিথি অনুযায়ী যে দিন এই ব্রত পড়বে, সেই দিনই তা পালন করা সম্পূর্ণ শাস্ত্রসম্মত।

সুতরাং, সোশ্যাল মিডিয়া বা লোকমুখে ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে, সাধারণ গৃহস্থ নির্দ্বিধায় প্রতিবারের মতোই এবারও সমস্ত নিয়ম ও নিষ্ঠা মেনেই জামাইষষ্ঠী বা ষষ্ঠী পূজা এবং 'ষাট্ জাগানো'-এর মাঙ্গলিক আচার পালন করতে পারেন।

জামাইষষ্ঠী ও মলমাস বিতর্ক (FAQ)

প্রশ্ন: জ্যৈষ্ঠ মাসের বদলে এবার আষাঢ় মাসে জামাইষষ্ঠী কেন পড়েছে?

উত্তর: পঞ্জিকা অনুযায়ী এবারের জ্যৈষ্ঠ মাসটি 'মলমাস' হওয়ায়, নিয়ম মেনে জামাইষষ্ঠী বা অরণ্যষষ্ঠী পিছিয়ে আষাঢ় মাসে পড়েছে।

প্রশ্ন: এবার জামাইষষ্ঠীতে কি প্রথা মেনে 'ষাট্ জাগানো' যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই যাবে। বিশিষ্ট পুরোহিত শঙ্কর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আষাঢ় মাসে ষষ্ঠী পড়লেও 'ষাট্ জাগানো' যাবে না, এমন কোনো শাস্ত্রীয় ভিত্তি বা নিষেধ নেই। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা।

প্রশ্ন: শনিবার ষষ্ঠী পূজা পড়লে কি কোনো সমস্যা আছে?

উত্তর: না। ব্রত বা পূজার ক্ষেত্রে শনিবার বা অন্য কোনো বারের সাথে কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। তিথি মেনে নির্দ্বিধায় পূজা করা যাবে।

জ্যৈষ্ঠে মলমাস থাকায় আষাঢ়ে পালিত হচ্ছে জামাইষষ্ঠী নিজস্ব প্রতিবেদন: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম একটি বড়...

'রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা!' উদয়ন গুহের স্ত্রীকে বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিলেন 'ছিটমহলের নেতা' দীপ্তিমান সেনগুপ্ত

উদয়ন গুহের স্ত্রীকে খাবার দিলেন দীপ্তিমান, Diptiman Sengupta offers food to Udayan Guha wife, Dinhata Politics Cooch Behar
'শত্রু' উদয়ন গুহের স্ত্রীকে বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিলেন 'ছিটমহলের নেতা' দীপ্তিমান

সমীর হোসেন, দিনহাটা: রাজনীতিতে শত্রুতা চরম, কিন্তু মানবিকতার ক্ষেত্রে কোনো আপস নয়! কোচবিহারের দিনহাটার রাজনীতিতে এবার এমনই এক বিরল ও অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। আর্থিক তছরুপের মামলায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ গ্রেপ্তার হওয়ার পরই কলকাতা থেকে দিনহাটার বাড়িতে ফিরেছেন তাঁর স্ত্রী শাশ্বতী গুহ। আর খবর পেয়েই সেই ‘শত্রু’ নেতার স্ত্রীর জন্য বাড়িতে দুপুরের খাবার নিয়ে হাজির হলেন খোদ 'ছিটমহলের নেতা' দীপ্তিমান সেনগুপ্ত (Diptiman Sengupta)। 

স্বামী গ্রেপ্তার, দিনহাটায় উদয়নের স্ত্রী

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সপরিবারে বাড়ি ছেড়েছিলেন প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ (Udayan Guha)। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে কোচবিহারের বাবুপাড়ায় তাঁর বাড়ি ছিল কার্যত জনমানবহীন ও শুনশান। গত ১৭ জুন কলকাতার ফুলবাগান এলাকার ফ্ল্যাট থেকে নাটকীয়ভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৮ জুন আর্থিক তছরুপ ও প্রতারণা মামলায় আদালতে তোলা হলে তাঁকে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কোর্ট!

এই চরম টানাপোড়েনের মাঝেই আজ, ১৯ জুন কলকাতা থেকে দিনহাটার বাবুপাড়ার বাড়িতে ফিরেছেন উদয়ন পত্নী শাশ্বতী গুহ-সহ পরিবারের তিন-চার জন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি!

"আমার মাথা ফাটিয়েছিল, কিন্তু রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা"

শাশ্বতী গুহ দিনহাটায় ফিরেছেন খবর পেয়েই, শুক্রবার দুপুরে উদয়নের বাড়িতে খাবার হাতে হাজির হন দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। এই খবর চাউর হতেই দিনহাটা তথা গোটা কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে!

দিনহাটার রাজনীতিতে উদয়ন গুহ এবং দীপ্তিমান সেনগুপ্তর রাজনৈতিক সংঘাত ও শত্রুতার কথা সর্বজনবিদিত। তা সত্ত্বেও খাবার নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দীপ্তিমান সেনগুপ্তকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, "রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। গত দুই দশকে দিনহাটার রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পূর্ণ নষ্ট করেছেন উদয়ন। তাঁর ফল এখন তিনি ভোগ করছেন। এই উদয়ন গুহ আমারও মাথা ফাটিয়েছিলেন। তাঁর কঠোরতম সাজা আমিও চাই। কিন্তু রাজনীতির বাইরেও তো একটা মানবিকতা আছে।"

দীপ্তিমান আরও বলেন, "তিন-চারজন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে কলকাতা থেকে ফিরেছেন। বাড়িতে রান্নাবান্না বা খাবারের ব্যবস্থা আছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখলাম। দুপুরে এঁরা অভুক্ত থাকবেন, তাই খাবারের ব্যবস্থা করে দিলাম। শুধু খাবার নয়, প্রয়োজনে ওষুধের ব্যবস্থাও আমি করে দেব।"

দিনহাটার রাজনীতি ও উদয়ন গুহ (FAQ)

প্রশ্ন: উদয়ন গুহ কবে এবং কেন গ্রেপ্তার হয়েছেন?

উত্তর: আর্থিক তছরুপ ও প্রতারণার মামলায় গত ১৭ই জুন কলকাতার ফুলবাগান এলাকার ফ্ল্যাট থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রশ্ন: উদয়ন গুহের স্ত্রীর জন্য কে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন?

উত্তর: দিনহাটার ছিটমহলের নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত উদয়ন গুহের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য বাড়িতে দুপুরের খাবার পৌঁছে দিয়েছেন।

প্রশ্ন: রাজনৈতিক শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও দীপ্তিমান সেনগুপ্ত কেন এই কাজ করলেন?

উত্তর: দীপ্তিমান সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, উদয়ন গুহ তাঁর মাথা ফাটালেও এবং তিনি তাঁর কঠোরতম সাজা চাইলেও, রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা বজায় রাখতেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

'শত্রু' উদয়ন গুহের স্ত্রীকে বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিলেন 'ছিটমহলের নেতা' দীপ্তিমান সমীর হোসেন, দিনহাটা:...

যোগ দিবসে না গেলে শাস্তি নয়! সরকারি কর্মীদের হাজিরা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য

যোগ দিবসে সরকারি কর্মীদের হাজিরা, Calcutta High Court Ruling, Yoga Day Attendance Not Mandatory, WB Govt Employees
যোগ দিবসে সরকারি কর্মীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়, জানাল রাজ্য সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: আগামী ২১ জুন দেশজুড়ে পালিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day)। এই যোগ দিবসের কর্মসূচিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, যোগ দিবসে অংশগ্রহণ না করলে কোনও কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

মামলার প্রেক্ষাপট ও সরকারি নির্দেশিকা

গত ১৪ জুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিবের তরফ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের দিন সকাল ৬টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত সমস্ত সরকারি কর্মচারীকে কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হবে। এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সরকারি কর্মীদের বামপন্থী সংগঠন স্টেট কো-অর্ডিনেশন কমিটি (State Coordination Committee)। তাদের দাবি ছিল, শরীরচর্চা অত্যন্ত ভালো বিষয় হলেও, সরকারি ফতোয়া জারি করে তা বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়।

রাজ্য সরকারের বয়ান ও হাইকোর্টের নির্দেশ

শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার (Justice Amrita Sinha) এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে রাজ্যের হয়ে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতকে লিখিতভাবে জানান, সরকারি কর্মীদের কাছে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য কেবল একটি 'সাধারণ আবেদন' করা হয়েছিল। এটি কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়। ব্যক্তিগত কারণে কোনও কর্মচারী যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক বা কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

রাজ্য সরকারের এই অবস্থান জানার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলার নিষ্পত্তি করে দেন। বিচারপতি মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণ দেন যে, সরকারের এই স্পষ্টীকরণের পর মামলাটি আর চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

রেড রোডে মূল অনুষ্ঠান

আগামী ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে (Red Road) আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল মেগা ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সরকারি কর্মীদের নিজ নিজ অফিস অথবা রেড রোডের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে হাইকোর্টের নির্দেশের পর এখন বিষয়টি স্পষ্ট যে, এই অনুষ্ঠানে যোগদান সম্পূর্ণ রূপে কর্মীদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

যোগ দিবসে সরকারি কর্মীদের হাজিরা (FAQ)

প্রশ্ন: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কি ২১ জুন যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক?

উত্তর: না, কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।

প্রশ্ন: যোগ দিবসের কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকলে কি কোনও শাস্তি হবে?

উত্তর: না, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, অনুপস্থিত থাকলে কোনও কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

প্রশ্ন: হাইকোর্টে এই মামলাটি কারা দায়ের করেছিল?

উত্তর: মুখ্যসচিবের নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলাটি দায়ের করেছিল সরকারি কর্মচারীদের বামপন্থী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি।

যোগ দিবসে সরকারি কর্মীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়, জানাল রাজ্য সরকার WhatsApp-এ শেয়ার করুন নিজস্ব প্র...

Darjeeling News: নদীর জল ঢুকছে গ্রামে, তলিয়ে গেল আস্ত সেতু! পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন

দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু তলিয়ে গেল, Balason River Flood, Dudhia Bridge Washed Away, Siliguri Mirik Road Closed
তলিয়ে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু, বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি ও মিরিকের যোগাযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, দার্জিলিং: টানা বৃষ্টির জেরে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে পাহাড়ের নদীগুলি। এর মধ্যেই শুক্রবার ভোরে দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং ব্লকের বালাসন নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে গেল দুধিয়ায় নির্মিত হিউম পাইপের অস্থায়ী সেতু। এর জেরে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। প্রবল দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটকরাও।

কীভাবে তলিয়ে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু?

আবহাওয়া দপ্তর আগেই ২১ জুন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই পূর্বাভাস মেনেই গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে চলছে লাগাতার বৃষ্টি। রাতভর বর্ষণের জেরে দ্রুত জলস্তর বেড়ে যায় বালাসন নদীতে। প্রবল জলোচ্ছ্বাসের জেরেই নদীর উপরে থাকা দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি জলের তোড়ে ভেসে যায়।

শিলিগুড়ি থেকে মিরিক যাওয়ার ১২ নম্বর রাজ্য সড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ ছিল এই সেতু। সেটি অকেজো হয়ে পড়ায় পাহাড়ের বহু এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ে ওঠার বিকল্প রাস্তা থাকলেও তা অত্যন্ত দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

বিপর্যয় মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেলা প্রশাসনও তৎপর হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, বালাসন নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। নদীর জল ক্রমশ গ্রামাঞ্চলের দিকে ঢুকে পড়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে।

দ্রুত স্থায়ী সেতু ও নদী বাঁধ তৈরির দাবি স্থানীয়দের

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে দুধিয়ায় স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ চললেও তা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, অতীতে নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষাতেই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা অনুপ গাদাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিবছর বর্ষার সময় আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুত স্থায়ী সেতু এবং শক্তিশালী নদী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।" এলাকাবাসীর দাবি, রাজ্য সরকার দ্রুত দুধিয়ায় স্থায়ী সেতু ও নদী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করুক, যাতে প্রতি বর্ষায় সাধারণ মানুষকে এমন দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়।

দুধিয়ার সেতু বিপর্যয় (FAQ)

প্রশ্ন: দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং ব্লকে বালাসন নদীর উপরে অবস্থিত, যা ১২ নম্বর রাজ্য সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রশ্ন: সেতুটি তলিয়ে যাওয়ার ফলে কোন কোন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে?

উত্তর: হিউম পাইপের এই অস্থায়ী সেতুটি তলিয়ে যাওয়ার ফলে মূলত শিলিগুড়ি এবং মিরিকের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

প্রশ্ন: পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি কী?

উত্তর: স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি বছর বর্ষার এই দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে অবিলম্বে দুধিয়ায় একটি স্থায়ী সেতু এবং নদীভাঙন রোধে শক্তিশালী নদী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

তলিয়ে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু, বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি ও মিরিকের যোগাযোগ WhatsApp-এ শেয়ার করুন নিজস্...

Bardhaman News: 'মিশন নির্মল বাংলা'-র শৌচাগারের ছাদেই উঠল তিনতলা বাড়ি! দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগে শোরগোল

সরকারি সুলভ শৌচাগারের উপরে তিন তলা বাড়ি, Purba Bardhaman Khandaghosh News, Sulabh Shouchagar Controversy
সরকারি সুলভ শৌচাগারের উপরে তৈরি হয়েছে আস্ত তিনতলা বাড়ি!

সঞ্জিত কুড়ি, পূর্ব বর্ধমান: সরকারি সুলভ শৌচাগারের উপরে আস্ত তিন তলা বাড়ি! কী করে সম্ভব? তৃণমূলের আমলে যে সবই সম্ভব, তা ফের দেখা গেল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েতের পাঠান পাড়া এলাকায়। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে 'মিশন নির্মল বাংলা' গড়তে এই শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়। সরকারি এই সুলভ শৌচাগারটির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু। কিন্তু বর্তমানে সেই সরকারি শৌচাগারের উপরে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ এবং ভবনের দুটি অংশ দুটি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।

কী বলছে ভবন কর্তৃপক্ষ?

বিতর্কের বিষয়ে ভবন কর্তৃপক্ষ শ্যামল কুমার আঁশ সাফাই দিয়ে বলেন, "খণ্ডঘোষ থানা মোড় থেকে এই পর্যন্ত কোনো সুলভ শৌচাগার নেই। গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই এলাকাতে সরকারি কোনো জায়গা না থাকায় সুলভ শৌচাগার করা সম্ভব নয়। তাদের কথা মতো এবং সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আমি আমার নিজের জায়গাতেই একটি সরকারি সুলভ শৌচাগার নির্মাণের অনুমতি দিই। সেই সময় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে, এই সরকারি শৌচাগারের উপরে একটি ভবন নির্মাণ করা হবে।" তাঁর দাবি, ভবন নির্মাণের অনুমতি খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষই তাঁকে দিয়েছেন।

দেবোত্তর সম্পত্তিতে জবরদখল? স্থানীয়দের অভিযোগে চাঞ্চল্য

যদিও ভবন কর্তৃপক্ষের এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পা ঘোষ বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, "যেখানে সরকারি শৌচাগার ও তিনতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জায়গাটি আদতে শ্রী শ্রী মদন গোপাল জিউ ঠাকুরের দেবোত্তর সম্পত্তি। ওই ব্যক্তি জোরজবরদস্তি জায়গাটি আটকে রেখেছেন এবং সেখানেই বেআইনিভাবে সরকারি শৌচাগার ও ভবন নির্মাণ করেছেন।" এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমানে খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

খণ্ডঘোষ শৌচাগার বিতর্ক (FAQ)

প্রশ্ন: পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে কী নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে?

উত্তর: খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠান পাড়া এলাকায় একটি সরকারি সুলভ শৌচাগারের উপরে আস্ত তিনতলা বাড়ি নির্মাণ এবং তা দুটি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রশ্ন: শৌচাগারটি কবে এবং কাদের উদ্যোগে তৈরি হয়?

উত্তর: ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে 'মিশন নির্মল বাংলা' প্রকল্পের আওতায় খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এই সরকারি শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

প্রশ্ন: ভবন মালিক ও স্থানীয়দের দাবি কী?

উত্তর: ভবন মালিকের দাবি, তিনি নিজের জায়গাতেই পঞ্চায়েতের অনুমতি নিয়ে এই নির্মাণ করেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই জায়গাটি শ্রী শ্রী মদন গোপাল জিউ ঠাকুরের দেবোত্তর সম্পত্তি, যা জোরজবরদস্তি দখল করা হয়েছে।

সরকারি সুলভ শৌচাগারের উপরে তৈরি হয়েছে আস্ত তিনতলা বাড়ি! সঞ্জিত কুড়ি, পূর্ব বর্ধমান: সরকারি সুলভ শৌচাগারের উপরে আস্ত তিন ...

Yoga for High BP: হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ে চিন্তিত? রোজ মাত্র ১৫ মিনিট অভ্যাস করুন এই আসনগুলি, ফল পাবেন হাতেনাতে

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, High Blood Pressure Tips, Yoga for High BP, Pranayama for Hypertension
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যোগাসন ও প্রাণায়াম

নিজস্ব প্রতিবেদন: উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) বা হাইপারটেনশন বর্তমানে একটি নীরব ঘাতক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার অভাবের কারণে বহু মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। তবে ওষুধ ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যোগব্যায়াম (Yoga) ও প্রাণায়াম (Pranayama) অত্যন্ত কার্যকরী। কারণ এগুলো শরীর ও মনকে শান্ত করে এবং স্ট্রেস হরমোন কমায়। তবে মনে রাখবেন, হাই ব্লাড প্রেসার থাকলে শ্বাস আটকে রাখা (কুম্ভক) বা মাথা নিচু করে করা কঠিন আসন (যেমন শীর্ষাসন) এড়িয়ে চলতে হবে। নিচে কিছু সহজ এবং নিরাপদ প্রাণায়াম ও আসনের তালিকা দেওয়া হলো:

১. প্রাণায়াম (শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম)

এই শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামগুলো আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সরাসরি সাহায্য করে।

চন্দ্রভেদন প্রাণায়াম (Chandra Bhedana):

  • পদ্ধতি: সুখাসনে (পা মুড়ে) সোজা হয়ে বসুন। ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে ডান নাক বন্ধ করুন। এবার শুধুমাত্র বাম নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং ডান নাক দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন।
  • উপকারিতা: এটি শরীরকে শীতল করে এবং রক্তচাপ কমাতে সরাসরি সাহায্য করে। রোজ ৫-১০ মিনিট এই প্রাণায়াম করতে পারেন।

অনুলোম-বিলোম (Anulom Vilom):

অনুলোম বিলোম, Anulom Vilom
  • পদ্ধতি: ডান নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে বাম দিয়ে ছাড়ুন, আবার বাম দিয়ে নিয়ে ডান দিয়ে ছাড়ুন। খুব ধীরে ধীরে শ্বাস নেবেন।
  • সতর্কতা: শ্বাস ভেতরে আটকে রাখবেন না। স্বাভাবিক গতিতে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যান।

ভ্রমরী প্রাণায়াম (Bhramari Pranayama):

ভ্রমরী প্রাণায়াম, Bhramari Pranayama
  • পদ্ধতি: চোখ বন্ধ করে দুই হাতের তর্জনী দিয়ে দুই কান বন্ধ করুন। গভীর শ্বাস নিন এবং শ্বাস ছাড়ার সময় গলার ভেতর থেকে ভ্রমর বা মৌমাছির মতো 'হুমম' শব্দ করুন।
  • উপকারিতা: এটি মানসিক উদ্বেগ, ক্লান্তি ও রাগ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।

২. হাই ব্লাড প্রেসার কমাতে যোগাসন (শারীরিক মুদ্রা)

শবাসন (Shavasana - Corpse Pose):

শবাসন, Shavasana
  • পদ্ধতি: মেঝেতে বা ম্যাটের ওপর চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত ও পা ছড়িয়ে দিন। চোখ বন্ধ করে পুরো শরীর শিথিল করে দিন। মনে মনে পায়ের পাতা থেকে মাথা পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গের দিকে মনোযোগ দিন।
  • কেন করবেন: এটি ব্লাড প্রেসার কমানোর সবচেয়ে সেরা ও কার্যকরী আসন। প্রতিদিন কাজের শেষে ১০-১৫ মিনিট এটি করলে খুব উপকার পাবেন।

বালাসন (Balasana - Child’s Pose):

বালাসন, Balasana
  • পদ্ধতি: হাঁটু মুড়ে বজ্রাসনে বসুন। এবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে সামনের দিকে ঝুঁকে কপাল মেঝেতে ঠেকান। হাত দুটো শরীরের পাশে বা সামনে ছড়িয়ে দিন।
  • উপকারিতা: এটি ঘাড় ও পিঠের চাপ কমায় এবং মস্তিষ্ককে শান্ত করে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।

সুখাসন (Sukhasana - Easy Pose):

  • পদ্ধতি: মেরুদণ্ড সোজা করে স্বাভাবিকভাবে পা মুড়ে বসুন। হাত দুটো হাঁটুর ওপর রাখুন। চোখ বন্ধ করে নিজের স্বাভাবিক শ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন।

যোগব্যায়ামের সময় জরুরি টিপস

  • ১. ভরা পেটে করবেন না: খাবার খাওয়ার অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা পর ব্যায়াম করা উচিত। তবে হালকা প্রাণায়াম (যেমন ভ্রমরী) যেকোনো সময় করা যায়।
  • ২. জোর করবেন না: ব্যায়াম করার সময় যতটুকু শরীর সায় দেয়, ততটুকুই করবেন। অতিরিক্ত প্রেশার দেবেন না।
  • ৩. ধারাবাহিকতা: ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ২০-৩০ মিনিট সময় বের করে এই আসনগুলি নিয়মিত অভ্যাস করুন।

উচ্চ রক্তচাপ ও যোগাসন (FAQ)

প্রশ্ন: উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কোন কোন প্রাণায়াম করা উচিত?

উত্তর: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য চন্দ্রভেদন প্রাণায়াম, অনুলোম-বিলোম এবং ভ্রমরী প্রাণায়াম অত্যন্ত উপকারী। এগুলো স্নায়ুকে শান্ত করে এবং রক্তচাপ কমায়।

প্রশ্ন: হাই ব্লাড প্রেসার রোগীদের কোন যোগাসন করা উচিত নয়?

উত্তর: হাই ব্লাড প্রেসার থাকলে শ্বাস ভেতরে আটকে রাখার ব্যায়াম বা মাথা নিচের দিকে থাকে এমন কঠিন আসন (যেমন শীর্ষাসন বা চক্রাসন) একেবারেই করা উচিত নয়।

প্রশ্ন: শবাসন কীভাবে রক্তচাপ কমায়?

উত্তর: শবাসন শরীরের প্রতিটি পেশিকে শিথিল করে এবং মানসিক চাপ দূর করে। এর ফলে স্ট্রেস হরমোন কমে যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যোগাসন ও প্রাণায়াম নিজস্ব প্রতিবেদন: উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) বা হাইপারটেনশন বর্তমানে ...

বৈভব সূর্যবংশীর পর এবার বিহারের 'ওয়ান্ডার গার্ল'! বাইশ গজে বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তাক লাগাল তরুণী

বিহারের ওয়ান্ডার গার্ল ক্রিকেটার, Bihar Girl Cricketer Stormy Innings, Vaibhav Sooryavanshi
বৈভব সূর্যবংশীর পর এবার বাইশ গজে ঝড় তুললেন বিহারের 'ওয়ান্ডার গার্ল'

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতীয় ক্রিকেটে যেন এখন নতুন প্রতিভা উঠে আসার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে বিহার। মাত্র ১৩ বছর বয়সে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক ঘটিয়ে এবং দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সম্প্রতি গোটা দেশের নজর কেড়েছিলেন বিহারের বিস্ময়-বালক বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। আর এবার বৈভবের দেখানো পথেই হাঁটল বিহারের আরও এক তরুণী ক্রিকেটার। বাইশ গজে আক্ষরিক অর্থেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলে সংবাদ শিরোনামে উঠে এল বিহারের এই 'ওয়ান্ডার গার্ল' (Wonder Girl)।

চার-ছক্কার বন্যা, কে এই 'ওয়ান্ডার গার্ল'?

বিহারের এই তরুণী ব্যাটার সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন এক আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেছেন, যা দেখে হতবাক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। বোলারদের কোনো রকম রেয়াত না করে মাঠের চারদিকে চার ও ছক্কার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মারকাটারি ব্যাটিং স্টাইল এবং নির্ভীক মানসিকতা দেখে অনেকেই তাঁকে মহিলা ক্রিকেটের আগামী দিনের সুপারস্টার হিসেবে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন।

একসময় বিহার ক্রিকেট বোর্ড নানা কারণে পিছিয়ে থাকলেও, বর্তমানে সেখান থেকে একের পর এক প্রতিভার উত্থান ঘটছে। প্রথমে বৈভব সূর্যবংশীর মতো এক খুদে ক্রিকেটারের জাতীয় স্তরে চমক, আর এবার এই তরুণী ক্রিকেটারের এমন দাপুটে ইনিংস— সব মিলিয়ে বিহার ক্রিকেট যে সঠিক ট্র্যাকে এগোচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

জাতীয় দল ও ডব্লিউপিএল-এর (WPL) নতুন আশা

মহিলাদের ক্রিকেটে ভারত এখন বিশ্বমঞ্চে অন্যতম শক্তিশালী দল। স্মৃতি মান্ধানা, হরমনপ্রীত কৌরদের পর নতুন প্রজন্মের এমন হার্ড-হিটার ব্যাটারদের উঠে আসা ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। এই তরুণী যে ধারাবাহিকতা এবং স্পার্ক দেখিয়েছেন, তা বজায় রাখতে পারলে আগামী দিনে উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) এমনকি ভারতের জাতীয় দলেও তাঁর জায়গা পাকা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ক্রিকেট আপডেট (FAQ)

প্রশ্ন: সম্প্রতি কোন তরুণ ক্রিকেটারের সাথে বিহারের এই তরুণীর তুলনা করা হচ্ছে?

উত্তর: বিহারের বিস্ময়-বালক বৈভব সূর্যবংশীর (Vaibhav Sooryavanshi) সাথে এই তরুণী ক্রিকেটারের তুলনা করা হচ্ছে, যিনি সম্প্রতি রেকর্ড গড়ে শিরোনামে এসেছিলেন।

প্রশ্ন: বিহারের এই তরুণী ক্রিকেটার কেন খবরের শিরোনামে?

উত্তর: বাইশ গজে বোলারদের তুলোধোনা করে একটি অত্যন্ত বিধ্বংসী ও আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলার জন্যই তিনি রাতারাতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন।

প্রশ্ন: এই ধরনের তরুণ প্রতিভাদের উত্থান ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের দাপট বজায় রাখার জন্য এই ধরনের নির্ভীক এবং হার্ড-হিটার তরুণ প্রতিভাদের উঠে আসা অত্যন্ত জরুরি।

বৈভব সূর্যবংশীর পর এবার বাইশ গজে ঝড় তুললেন বিহারের 'ওয়ান্ডার গার্ল' নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতীয় ক্রিকেটে যেন এখন...

TET পরীক্ষায় অব্যাহতি ও সংসদে অর্ডিন্যান্স আনার দাবিতে কোচবিহারে ABRSM-এর ডেপুটেশন

টেট পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি, ABRSM Rally and Deputation Cooch Behar, Working Teachers TET Mandatory Supreme Court Case
TET পরীক্ষায় অব্যাহতি ও সংসদে অর্ডিন্যান্স জারির দাবিতে কোচবিহারে শিক্ষকদের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: কর্মরত শিক্ষকদের TET পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি প্রদান এবং বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপের দাবিতে বৃহস্পতিবার কোচবিহারে জেলা শাসকের (DM) দপ্তরে ডেপুটেশন প্রদান করল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (ABRSM)-এর কোচবিহার জেলা শাখা।

TET বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বহু কর্মরত শিক্ষক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। উক্ত রায় অনুযায়ী, কর্মরত শিক্ষকদের ২০২৮ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে TET উত্তীর্ণ হতে হবে। এই নির্দেশনার ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত বহু শিক্ষকের চাকরির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।

এই পরিস্থিতিতে TET বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং আসন্ন লোকসভার বাদল অধিবেশনে একটি অর্ডিন্যান্স জারি করে কর্মরত শিক্ষকদের TET পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে সারা দেশের জেলা শাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি প্রদান করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে কোচবিহারে এই ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করা হয়।

ABRSM-এর বৃহৎ মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচি

ডেপুটেশনকে কেন্দ্র করে কোচবিহার শহরের রাজপথে ABRSM-এর ব্যানারে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটি বৃহৎ মিছিল বের হয়। সংগঠনের দাবি, জেলাজুড়ে কর্মরত কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ABRSM-এর কোচবিহার জেলা সভাপতি তপন কুমার ভৌমিক, সহ-সভাপতি সঞ্জয় মোদক, জেলা কমিটির সদস্য নীতিশ সরকার, বিশ্বজিৎ অধিকারীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্ব ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা।

চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি

সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, বহু শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষাদান করে আসছেন। তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে যথাযথ মূল্যায়ন না করে নতুন করে TET উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত আরোপ করা হলে তা শিক্ষকদের প্রতি চরম অবিচার হবে। তাই কর্মরত শিক্ষকদের চাকরির সুরক্ষার্থে কেন্দ্র সরকারের দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ বা অর্ডিন্যান্স গ্রহণ করা প্রয়োজন। ডেপুটেশন শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, অবিলম্বে এই দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে রাজ্য তথা দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

কর্মরত শিক্ষকদের টেট বিতর্ক (FAQ)

প্রশ্ন: অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (ABRSM) কোচবিহারে কেন ডেপুটেশন দিল?

উত্তর: কর্মরত শিক্ষকদের TET পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থেকে চিরস্থায়ী অব্যাহতি এবং চাকরির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সংসদের আসন্ন অধিবেশনে অর্ডিন্যান্স জারির দাবিতে তারা কোচবিহার জেলা শাসকের (DM) কাছে ডেপুটেশন দিয়েছে।

প্রশ্ন: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মরত শিক্ষকদের কবে টেট পাস করতে হবে?

উত্তর: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের প্রেক্ষিতে কর্মরত শিক্ষকদের ২০৮৮ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে TET উত্তীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষকদের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রশ্ন: এই ডেপুটেশনটি কার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে?

উত্তর: জেলা শাসকের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এই দাবি সন্বলিত স্মারকলিপি বা ডেপুটেশন পাঠানো হয়েছে।

TET পরীক্ষায় অব্যাহতি ও সংসদে অর্ডিন্যান্স জারির দাবিতে কোচবিহারে শিক্ষকদের বিক্ষোভ মিছিল নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: কর্...

বর্ষার শুরুতেই ৩ মাসের জন্য বন্ধ ডুয়ার্সসহ রাজ্যের সব জঙ্গল!

তিন মাসের জন্য বন্ধ হল জঙ্গল, North Bengal Forest Closed for Three Months, Dooars Tourism Update
টানা তিন মাসের জন্য বন্ধ হল জঙ্গল সাফারি

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ডুয়ার্সসহ রাজ্যের সমস্ত অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান আগামী তিন মাস পর্যটকদের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। প্রতি বছরের নিয়ম মেনে, ১৬ জুন থেকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মাস বন্ধ থাকবে গরুমারা, জলদাপাড়া, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যান এবং চাপড়ামারির মতো সমস্ত বনাঞ্চল। এই তিন মাস জঙ্গলে সমস্ত ধরণের ওয়াচ টাওয়ার ভ্রমণ, জিপ সাফারি এবং হাতি সাফারি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

কেন এই তিন মাস বন্ধ থাকে জঙ্গল?

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, ভূমিধস, রাস্তার ক্ষতি এবং বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই দিককে মাথায় রেখেই প্রত্যেক বছরের ন্যায় এমন সিদ্ধান্ত বন দপ্তরের। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২-এর ধারা ৩৩(সি) অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

১. বন্যপ্রাণীদের প্রজনন কাল (Breeding Season): বর্ষার এই সময়টি হাতি, গণ্ডার, বাঘ, হরিণ, বাইসনসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর প্রজনন কাল। এই সময় জঙ্গলে নতুন নতুন শাবকের জন্ম হয়। পর্যটকদের আনাগোনায় যাতে মা ও সদ্যোজাত বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনও বিঘ্ন না ঘটায়, তার জন্যই জঙ্গলকে এই একপ্রকার “মাতৃত্বকালীন ছুটি” দেওয়া হয়।

২. পর্যটকদের নিরাপত্তা: বর্ষার মরসুমে বনারণ্যের ভেতরের কাঁচা রাস্তাগুলো অত্যন্ত কাদা এবং জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে সাফারি গাড়ি আটকে যাওয়ার বা উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও এই সময়ে জলমগ্ন নদী-নালা পার হতে গিয়ে বা আচমকা বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতেই এই নিষেধাজ্ঞা।

৩. প্রকৃতির পুনর্জন্ম ও বিশ্রাম: সারা বছর হাজার হাজার পর্যটকের কোলাহলের পর এই তিন মাস জঙ্গল নিজের ক্ষত নিরাময় করে। মানুষের হস্তক্ষেপ না থাকায় এই সময়ে অরণ্যে নতুন ঘাস ও গাছপালা জন্মায়, জলাশয়গুলি ভরে ওঠে এবং প্রকৃতি তার নিজস্ব চেনা ছন্দ ফিরে পায়।

বন বাংলো বন্ধ থাকলেও খোলা থাকছে রুট রোড

বন দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এই তিন মাস জঙ্গলের ভেতরে থাকা সমস্ত সরকারি বন বাংলোর বুকিং বন্ধ থাকবে। তবে জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া মূল রাস্তাগুলি (রুট রোড) দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। শুধুমাত্র পর্যটকদের ভ্রমণের ওপরই এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশ প্রেমীরা

টানা তিন মাস ডুয়ার্সের জঙ্গল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পর্যটন ব্যবসায়ী, হোমস্টে মালিক এবং গাইডদের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ পড়লেও, প্রকৃতির স্বার্থে এই নিয়মকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের সাফ কথা, প্রকৃতিকে সত্যিকার ভালোবাসলে তার এই বিশ্রামের সময়টুকু আমাদের সম্মান করতেই হবে।

উত্তরবঙ্গের জঙ্গল সাফারি (FAQ)

প্রশ্ন: উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলি কতদিনের জন্য বন্ধ থাকছে?

উত্তর: প্রতি বছরের মতো এবছরও ১৬ জুন থেকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মাস উত্তরবঙ্গের সমস্ত জঙ্গল পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকছে।

প্রশ্ন: বর্ষাকালে জঙ্গল কেন বন্ধ রাখা হয়?

উত্তর: বর্ষার সময়টি মূলত বন্যপ্রাণীদের প্রজনন কাল। মা ও শাবকদের বিরক্ত না করা, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃতিকে নিজের ক্ষত নিরাময়ের সুযোগ দেওয়ার জন্যই জঙ্গল বন্ধ রাখা হয়।

প্রশ্ন: এই সময়ে কি জঙ্গলের ভেতরের সমস্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে?

উত্তর: না, জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে যাওয়া মূল রাস্তা বা রুট রোডগুলো স্থানীয়দের যাতায়াতের জন্য খোলা থাকবে। শুধুমাত্র সাফারি এবং পর্যটনমূলক কার্যকলাপ বন্ধ থাকবে।

© ২০২৬ সংবাদ একলব্য। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

টানা তিন মাসের জন্য বন্ধ হল জঙ্গল সাফারি নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ডুয়ার্সসহ...

🔥 Trending News

Loading...