BREAKING
আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর • জেলার খবর • রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ খবর • দেশের বড় খবর • আন্তর্জাতিক খবর • বিনোদনের খবর • চাকরির আপডেট • সরকারি প্রকল্পের খবর •

মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, ডাম্পারের ধাক্কায় গুরুতর জখম যুবক

Road Accident, One Young man injured
ডাম্পারের ধাক্কায় আহত যুবক


মহেশতলা: মহেশতলায় ফের পথ দুর্ঘটনা। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। আহত এক যুবক বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।



স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহেশতলার মোল্লার গেট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বজবজ ট্রাঙ্ক রোডের উপর সম্প্রীতি উড়ালপুলের কাছে ঘটনাটি ঘটে। উড়ালপুলের ১০৯ নম্বর পিলারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। সেই সময় আচমকাই বিপদ নেমে আসে।


আহত যুবকের বয়স প্রায় ৩৮ বছর। তিনি মহেশতলার জলখুরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতেই পিলারের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি কী ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে চলেছে।


অভিযোগ, তারাতলার দিক থেকে দ্রুতগতিতে একটি ডাম্পার আসছিল। বৃষ্টির কারণে রাস্তার দৃশ্যমানতা কম ছিল। সেই সময় ডাম্পারটি নিয়ন্ত্রণ হারায় কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ডাম্পারটি সোজা গিয়ে যুবককে ধাক্কা মারে।


ধাক্কার জেরে যুবক পিলারের সঙ্গে চেপে যান। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।


রক্তাক্ত অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা তখন অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা শুরু করেন।


তবে আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। শরীরের একাধিক জায়গায় চোট লাগে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চিকিৎসকরা তাকে রেফার করেন।


এরপর তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগে রয়েছেন। আত্মীয়-পরিজনরাও হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছেন।


ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বজবজ ট্রাঙ্ক রোডে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল করে। এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।


স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার সময় এই রাস্তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তারপরও অনেক গাড়ি নিয়ম না মেনে চলে। যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।


দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ মানুষ ডাম্পারটিকে ঘিরে ফেলেন। গাড়িটিকে আটক করা হয়। পালানোর সুযোগ পাননি চালক। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়রা ডাম্পারটি পুলিশের হাতে তুলে দেন।


পুলিশ চালককে আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতি কত ছিল, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কিনা, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।


ডাম্পারের কাগজপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়ির ফিটনেস সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা তা পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


এদিকে আহত যুবকের পরিবারের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের অভিযোগ, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।


স্থানীয় মানুষেরও একই দাবি। রাস্তার নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ভারী যানবাহনের গতির উপর নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন। প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দাবিও উঠেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের আবেদন জানানো হয়েছে।


দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে প্রভাব পড়ে। রাস্তার একাংশে ভিড় জমে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এলাকায় এখনও আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে।


প্রবল বৃষ্টির দিনে এই দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাস্তার নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা রয়েছে? পথচারীদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত? এসব প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।


পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।


এই মুহূর্তে সকলের নজর আহত যুবকের শারীরিক অবস্থার দিকে। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরিবার প্রার্থনা করছে দ্রুত সুস্থতার জন্য। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


মহেশতলার মোল্লার গেটের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। এক মুহূর্তের অসাবধানতাই কেড়ে নিতে পারে একটি জীবন। তাই সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চলাই হতে পারে দুর্ঘটনা রোধের একমাত্র উপায়। ঘটনার তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলেই।

ডাম্পারের ধাক্কায় আহত যুবক মহেশতলা: মহেশতলায় ফের পথ দুর্ঘটনা। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। আহত এক যুবক ...

কাটমানি না দেওয়ায় আবাসের ঘর না পাওয়ার অভিযোগ বামনহাটের সিপিআইএম সমর্থকের! দ্বারস্থ বিডিও-র

কাট মানি না দেওয়ায় ঘর না দেওয়ার অভিযোগ
বিডিও-র দ্বারস্থ ব্যক্তি
সমীর হোসেন, দিনহাটা: একদিকে আবাস যোজনার ঘরের জন্য কাটমানি দেননি, অন্যদিকে রাজনৈতিক মতাদর্শে সিপিআইএমের সমর্থক। তাই সার্ভে তালিকায় নাম থাকার পরও ঘর পাননি বামনহাটের বাসিন্দা বিশেষভাবে সক্ষম সুবোধ বর্মন। ইতিমধ্যে বিডিও-র কাছে ঘরের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

ভুল সার্ভের অভিযোগ 

জানা গিয়েছে, আবাস যোজনার সার্ভে তালিকায় নাম থাকলেও পরবর্তী সমীক্ষায় সুবোধ বর্মনের বাড়িতে পাকা ছাদযুক্ত ঘর রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সেই কারণ দেখিয়েই তাঁকে আবাস যোজনার ঘর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। যদিও সুবোধ বর্মনের দাবি, বাস্তবে তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে দুটি টিনের চালার ঘরে বসবাস করেন। তাঁর বাড়িতে কোনও পাকা ছাদযুক্ত ঘর নেই।

আবাসের টাকার জন্য কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ 

সাংবাদিকদের সামনে নিজের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগও তোলেন সুবোধবাবু। তাঁর দাবি, বামনহাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা কাটমানি দাবি করেছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে সেই টাকা দিতে পারেননি তিনি। সুবোধবাবুর অভিযোগ, সেই কারণেই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সার্ভে করা হয়েছে এবং তাঁকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

সিপিআইএম সমর্থক বলেই এই বঞ্চনা দাবি তার 

সুবোধবাবুর আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সিপিআইএম সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার কারণেও তাঁর প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “এটা গণতান্ত্রিক দেশ। আমি যাকে ভালোবাসি, যাকে বিশ্বাস করি, তাকেই ভোট দেব। তার জন্য আমাকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে কেন?”

প্রকৃত উপভোক্তারা বারবার বঞ্চনার শিকার

ট্রাইসাইকেলের উপর ভরসা করেই চলাফেরা করেন সুবোধ বর্মন। সংসারের হাল ধরেছেন তাঁর স্ত্রী। সামান্য আয়ে কোনওরকমে চলে চার সদস্যের পরিবার। সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং সরকারি সহায়তার প্রকৃত দাবিদারদের মধ্যে অন্যতম এই মানুষটির অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তির জন্যই প্রকৃত উপভোক্তারা বারবার বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।


বিডিও-র কাছে আবেদন

নিজের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় এদিন দিনহাটার বিডিও-র কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন সুবোধবাবু। সেই আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁর বাড়িতে কোনও পাকা ঘর নেই। তাই পুনরায় নিরপেক্ষভাবে সমীক্ষা করে তাঁকে আবাস যোজনার ঘর প্রদান করার ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এখন দেখার, প্রশাসন সুবোধ বর্মনের অভিযোগের তদন্ত করে তাঁর দাবি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসে কি না



বিডিও-র দ্বারস্থ ব্যক্তি সমীর হোসেন, দিনহাটা: একদিকে আবাস যোজনার ঘরের জন্য কাটমানি দেননি, অন্যদিকে রাজনৈতিক মতাদর্শে সিপিআইএমে...

সম্পাদকীয়: যোগ কোনও ধর্ম নয়, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে জানুন অজানা যোগচর্চা

যোগ দিবস, Yoga Day
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস


আরিফ হোসেন, মুখ্য সম্পাদক: আধুনিক বিজ্ঞানের (Modern Science) উন্নতির সাথে সাথে থেমে গেছে দৈহিক শ্রম, বেঁচে যাচ্ছে সময়, কমছে ঝুঁকি, কমছে শ্রমের যন্ত্রনা। দিন যতই গড়াচ্ছে ততই সেই পরিস্থিতি বেড়েই চলছে। সভ্যতার অগ্রগতিতে টেকনোলজি (Technology) নির্ভর জীবনে পা দিয়েছে মানব জাতি, ব্যস্ত থাকছে ল্যাপটপ বা মোবাইলে বা ট্যাবে। মেশিনকে কাজে লাগিয়ে শরীরে ফিরছে আরাম আয়েস আর যার জেরেই সুস্থ থাকতে মানুষ ব্যর্থ হয়ে পড়ছে। সেই ব্যর্থতা থেকে রেহাই পেতে শরীরচর্চা বা ব্যায়াম (Exercise) খুবই প্রয়োজনীয়। তাছাড়াও, দৈহিক পরিশ্রম করলেও দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গকে সুস্থ রাখতে শরীরচর্চা জরুরী নাহলে এক সময় পেশি বিপর্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সভ্যতার শুরু থেকেই দেহের শক্তির জন্য শরীরচর্চা (Exercise) এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করতে যোগ (Yoga) ব্যায়ামের সূত্রপাত ঘটে। 



আজ থেকে প্রায় পাচ হাজার বছর আগে দ্রাবিড় সাধকেরা যোগ (Yoga) ব্যায়াম উদ্ভাবন করেন। দ্রাবিড় সভ্যতা থেকে ব্যবিলনীয় সভ্যতাতেও যোগচর্চা ও শরীরচর্চা ছিল শিক্ষার প্রধান অঙ্গ। প্রাচীনকালে শরীরকে সুস্থ রাখতে মানুষ যোগ-কেই বেছে নিয়েছিল। এছাড়াও একাধিক রোগের সাথে লড়াই করতেও যোগ বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে। হাঁপানি, ডায়াবেটিসসহ একাধিক রোগকে নিরাময়ে যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা ছড়িয়ে পড়ছে মানুষও ধীরে ধীরে যোগ ব্যায়ামের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে।



অস্তিত্বের একক অনুভব করাকে যোগ (Yoga) বলে। যোগী তাঁদের বলা হয় যারা স্বাধীন অবস্থায় মুক্তি, নির্বাণ বা মোক্ষ হিসেবে সাধিত হয়। যোগ একটি আধাত্মিক সুক্ষ্ম বিজ্ঞান, যা মন ও শরীরের সাদৃশ্য স্থাপনে গুরুত্ব দেয়। দক্ষতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবন যাত্রার বিজ্ঞান।


যোগ (Yoga) শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ যুজ থেকে যার অর্থ সংযোগ। যোগ (Yoga) ব্যায়াম একটি শারীরিক, মানসিক, আধাত্মিক অনুশীলন। জীবন, স্বাস্থ্য ও সম্প্রীতির সর্বস্তরে স্বাধীনতার সঙ্গে বসবাসই হল যোগচর্চার মূল উদ্দেশ্য। যোগের (Yoga) লক্ষ্য হল আত্মপোলব্ধি যার মাধ্যমে সব ধরনের কষ্টভোগকে পরাস্ত করা যায়। যোগ হল অদম্য ইচ্ছার চাষ। যোগচর্চা আত্মনিয়ন্ত্রন, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্রভুত্ব বাড়ায়। স্বাধীন বিচার ক্ষমতা বাড়ায়। বিতর্ক এড়াতেও সাহায্য করে যোগ।


যোগ (Yoga) ব্যায়ামের উদ্ভব প্রাক বৈদিক যুগে যা ভারতীয় ঐতিহ্যের ইতিহাস থেকে অনুমান করা হয়। কিন্তু সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম ও ষষ্ট শতাব্দীর আশেপাশে ভারতের তপস্বী এবং শ্রমণ আন্দোলনের সময় উদ্ভব হয়। ভারতবর্ষে যোগের প্রসারতা লাভ করে প্রথম সহস্রাব্দের প্রথম দিকে ঋষি পতঞ্জলির হাত ধরে।



যোগের (Yoga) সুযোগ বা বৃস্তৃতি ভগবতগীতা ও উপনিষদে ব্যাপকভাবে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ভারতবর্ষে যোগ গুরু স্বামী বিবেকানন্দের সাফল্যে পশ্চিমের দেশ গুলিতে আটের উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সূত্রপাত ঘটে। যোগ (Yoga) ব্যায়াম আটের দশকে পশ্চিমের দেশ গুলোতে শারীরিক ব্যায়াম হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছিল।


স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, "এটি একটি একক জীবন বা কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক ঘণ্টার শারীরিক অস্তিত্ব যা একজনের বিবর্তন সংকোচনশীল একটি মাধ্যম।"



"It is a means o compressing one's evolution into a single life or a few months or even a few hours of one's bodily existence"
- Swami Vivekananda


যোগ কোনো ধর্ম নয়, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অর্জনের একটি প্রাচীন বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক চর্চা

যোগ (Yoga) একটি ব্যবহারিক দিক, কোনও ধর্ম নয়। যোগ (Yoga) শরীর, মন ও আত্মার বিকাশের একটা সমন্বয়পূর্ণ পদ্ধতি, একটি প্রাচীন কলা বা দক্ষতা। যোগ (Yoga) ব্যায়াম মনে শান্তি প্রদান করে এবং পরিবেশে নিজেকে মঙ্গলময় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও যোগের (Yoga) বিভিন্ন ঐতিহ্যগত সংজ্ঞা রয়েছে। যেমন- যোগ হল মানসিক অবস্থার নিয়ন্ত্রন, যোগ হল চিরবৃত্তি নিরোধের উপায়, যোগ হল সমাধি, যোগ হল পরম আত্মার সাথে জীবাত্মার মিলন। দেহ, মন ও আত্মার সুসংহত ও সামগ্রিক উন্নতি সাধনের প্রক্রিয়া হল যোগ।



যোগ-কে অনেকে ধর্ম বলে মনে করলেও তা একটি ভুল ধারনা। যোগ আসলে কোনও ধর্ম নয় বা ধর্ম প্রচারের গোপন পথও নয়। যদিও যোগ প্রাচীন ভারতবর্ষ থেকে উদ্ভব হয়েছিল তবে এটি হিন্দুধর্মের স্বরূপ বা ফর্ম নয়। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইহুদি, নাস্তিক আনন্দের সাথে চর্চা করে থাকে। যোগের একটা আধাত্মিক দিক ঠিকই রয়েছে কিন্তু কারও কোনও বিশ্বাসের স্বাক্ষর বহন করে না। যদি কেউ কোনও শব্দ উচ্চারন করে যোগ করে তবে মনে করার কিছুই নেই কারণ যোগ একটি মানসিক বিষয়।


ভারতবর্ষের বেশির ভাগ মানুষ সিদ্ধি, জাদু, মন্ত্রতন্ত্র ইত্যাদিকে যোগ বলে মনে করে কিন্তু এগুলো যোগ নয়। যোগ একটি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বা উন্নত বিজ্ঞান বা জীবনের একটি উপায় যা লিঙ্গ, পেশা, রাষ্ট্র, শর্ত, সমস্যা, দুর্ভোগের ওপর প্রয়োগ করা যেতে পারে। এমনকি যোগ ব্যক্তিত্ব, পেশাদারি, সামাজিক ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।



যোগের ভিত্তি হল সুখের জন্য অনুসন্ধান করা। সুখ আমাদের মধ্যে অবস্থিত। এটি মনকে নীরব করে। এটি চিন্তা ভাবনা বর্জিত অবস্থা। এটি স্বর্গবাস, স্বাধীনতা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতা মূলক একটি অবস্থা।



কিছু মানসিক কারণে যোগের উৎপত্তি। কারণ গুলি হল- সুখ প্রবৃত্তি দুঃখ নিবৃত্তি, জীবনের বাস্তবতা ও নিজের সম্বন্ধে জানার কৌতূহল।



যোগ ব্যায়াম ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের একটি প্রক্রিয়া। যোগ ব্যায়ামের উপকারিতা অবিরম ও অসীম।

২১শে জুন বিশ্ব যোগ দিবস 

২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day)। ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) ২১ জুন (21st June) তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day) বলে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। সেই বছরই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সেই প্রস্তাবকে সায় দিয়ে ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদ ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day) বলে ঘোষণা করেন।




বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য, সাদৃশ্য এবং শান্তির জন্য জাতিসংঘ-এর সরকারি প্রচার এই দিনটির(International Yoga Day) তাৎপর্য। যোগ, ধ্যান, সম্মেলন, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই দিনটি পালিত হয়। বিশ্বব্যাপী মানুষ এই দিনটিকে (International Yoga Day) পালন করছে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার প্রচেষ্টায়।

সংবাদ একলব্য

Sangbad Ekalavya

একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল | An Online News Portal

👇 আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন (Connect With Us) 👇

© ২০২৬ সংবাদ একলব্য। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস আরিফ হোসেন, মুখ্য সম্পাদক:   আধুনিক বিজ্ঞানের (Modern Science) উন্নতির সাথে সাথে থেমে গেছে দৈহিক শ্রম, বে...

আবাস যোজনার ‘কাটমানি’ ফেরত দিতেই গণরোষ! কোচবিহারের নাটাবাড়িতে পঞ্চায়েত সদস্যকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে বিক্ষোভ

কাট মানি ফেরতের পর গণরোষ
কাট মানি ফেরতের পর ডিম ছুঁড়ে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি, নাটাবাড়ি: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর কাটমানি ও দুর্নীতি রুখতে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মাঝেই এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল কোচবিহার। আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া ‘কাটমানি’র টাকা উপভোক্তাদের হাতে হাতে ফেরত দিতে বাধ্য হলেন এক পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামী। কিন্তু টাকা ফেরত পেলেও ক্ষোভ কমেনি জনমানসে। উল্টে টাকা ফেরত দেওয়ার পরপরই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ওই পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামীকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন। শুক্রবার নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের পানিশালা অঞ্চলের ১৮৮ নম্বর বুথ এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়।


হাতে হাতে টাকা ফেরত দিলেন পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামী

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিশালা অঞ্চলের ১৮৮ নম্বর বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য সুনন্দা রায় সরকার এবং তাঁর স্বামী চিরঞ্জিত সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বেআইনিভাবে মোটা অঙ্কের টাকা (কাটমানি) নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে তাঁদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিলেন গ্রামবাসীরা। বেগতিক বুঝে এদিন ওই দম্পতি উপভোক্তাদের ডেকে এনে সেই কাটমানির টাকা হাতে হাতে ফিরিয়ে দেওয়া শুরু করেন।


টাকা ফিরতেই রণক্ষেত্র পানিশালা, চলল ডিম বৃষ্টি

সাধারণত কাটমানির টাকা ফেরত পেলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কথা থাকলেও, পানিশালায় ঘটল ঠিক তার উল্টো। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে কেন তাঁদের ঘাম ঝরানো টাকা কাটমানি হিসেবে দিতে হবে এবং এতদিন ধরে কেন তাঁদের হেনস্থা করা হলো? টাকা ফেরত দেওয়া শেষ হতেই বুথের ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা একজোট হয়ে ওই পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষিপ্ত জনতা সুনন্দা রায় সরকার ও চিরঞ্জিত সরকারকে লক্ষ্য করে একের পর এক কাঁচা ডিম ছুড়তে শুরু করেন। গোটা এলাকা মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।


তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা

টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি পরোক্ষভাবে দুর্নীতির অভিযোগকেই সিলমোহর দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে এই ডিম ছুড়ে প্রতিবাদের ঘটনা নিয়ে মহকুমা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটাবাড়ি তথা গোটা কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কাট মানি ফেরতের পর ডিম ছুঁড়ে বিক্ষোভ নিজস্ব প্রতিনিধি, নাটাবাড়ি: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর কাটমানি ও দুর্নীতি রুখতে প্রশাসনে...

সাড়ম্বরে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' উদযাপন করে নজর কাড়লো কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করে নজর কাড়লো কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়, Kursahat High School Celebrate West Bengal Day, Dinhata Cooch Behar
সাড়ম্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করলো কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রভাতফেরি, সঙ্গীত, নৃত্য, অঙ্কন, কুইজ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ নানা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় দিনহাটার এই স্বনামধন্য বিদ্যালয়ে।

রাজ্য স্তরের তালিকায় সেরার স্বীকৃতি

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোচবিহার জেলার প্রায় ৪০০টি বিদ্যালয়ের আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান মূল্যায়ন করে সেরা দুটি বিদ্যালয়ের নাম রাজ্য স্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। অত্যন্ত গর্বের বিষয়, সেই সেরার তালিকায় কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করে নজর কাড়লো কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিমেশ সরকার জানান, “বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই আমরা এই বিরাট সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন ও পরিকাঠামো নিয়ে আরও ভালো কিছু করার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছি।”

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের
অনুষ্ঠান মঞ্চে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা

শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বামনহাট চক্রের এস.আই

দিনহাটা বামনহাট চক্রের এস.আই. (SI) ওয়াহেদুর রহমান বিদ্যালয়ের এই অসামান্য সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়কে নিয়ে আমাদের সবসময়ই বিশেষ আশা থাকে। আজকের এই অর্জন আগামী দিনে বিদ্যালয়টিকে আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।”

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করে নজর কাড়লো কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠান

কুর্ণিশ জানাচ্ছে বিশিষ্ট মহল

এই সাফল্য কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সমগ্র পরিবার তথা দিনহাটা এলাকার জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জেলা ছাড়িয়ে রাজ্য স্তরে স্কুলের নাম পৌঁছে যাওয়ায় কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের কুর্ণিশ ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।

কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাফল্য (FAQ)

প্রশ্ন: কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস কীভাবে পালিত হলো?

উত্তর: প্রভাতফেরি, সঙ্গীত, নৃত্য, অঙ্কন, কুইজ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ নানা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়।

প্রশ্ন: কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয় কী বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছে?

উত্তর: জেলা প্রশাসনের মূল্যায়নে কোচবিহার জেলার প্রায় ৪০০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সেরা দুটি বিদ্যালয়ের তালিকায় রাজ্য স্তরে কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

প্রশ্ন: এই সাফল্যের পর কে বিদ্যালয়টিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন?

উত্তর: বামনহাট চক্রের এস.আই. ওয়াহেদুর রহমান বিদ্যালয়ের এই সাফল্যে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সংবাদ একলব্য

Sangbad Ekalavya

একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল | An Online News Portal

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

© ২০২৬ সংবাদ একলব্য। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সাড়ম্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করলো কুর্শাহাট উচ্চ বিদ্যালয় WhatsApp-এ শেয়ার করুন নিজস্ব সংবাদদাত...

দিনহাটায় পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করল বিজেপি টিচার্স সেল

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন বিজেপি টিচার্স সেলের
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন বিজেপি টিচার্স সেলের

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা, ২০ জুন: পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে দিনহাটা ও সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি টিচার্স সেলের উদ্যোগে দিনহাটার নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্মৃতি পাঠাগারে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।



বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা 

এদিন প্রথমে দিনহাটার সংহতি ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি দিনহাটা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্মৃতি সদনে এসে পৌঁছায়। র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক গৌরবের বার্তা তুলে ধরেন। র‌্যালি শেষে নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্মৃতি সদনে প্রদীপ প্রজ্বলন ও উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন বিজেপি টিচার্স সেলের
নিজস্ব চিত্র 

উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আহ্বায়ক চিত্তরঞ্জন দত্ত, জেলা সহ-আহ্বায়ক তপু সরকার, জেলা কমিটির সদস্য মানস রায়, জেলা কমিটির সদস্য লক্ষন বিশ্বাস, দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের আহ্বায়ক হরিশ অধিকারী এবং সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের আহ্বায়ক উত্তম বর্মন।


পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন বিজেপি টিচার্স সেলের
নিজস্ব চিত্র 

আলোচনার গুরুত্ব 

সংগঠনের তরফে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ দিবস কেবল একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস নয়, এটি বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয় রক্ষার সংগ্রামের স্মারক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন বিজেপি টিচার্স সেলের নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা, ২০ জুন: পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে দিনহাটা ও সিতাই বিধানস...

দিনহাটা থানায় প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহকে ম্যারাথন জেরা, তদন্তে গতি বাড়ালো পুলিশ

ম্যারাথন জেরা উদয়ন গুহকে, Udayan Guha Interrogation, Dinhata Municipality Scam, Cooch Behar Police
দিনহাটা থানায় পুলিশি হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ

সমীর হোসেন, দিনহাটা: পুরসভার আবাস যোজনায় সরকারি টাকা তছরুপ, জালিয়াতি এবং আর্থিক আত্মসাতের মামলায় ধৃত প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ক উদয়ন গুহকে নিয়ে তদন্তের গতি নাটকীয়ভাবে বাড়াল রাজ্য পুলিশ। শনিবার সকালে দিনহাটা থানায় পৌঁছে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই হাইপ্রোফাইল জিজ্ঞাসাবাদকে কেন্দ্র করে থানা চত্বরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

দিনহাটা থানায় হাজির কে. জয়রামন ও জেলা পুলিশ সুপার

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (SIT) পদস্থ আধিকারিক তথা আইপিএস (IPS) কে. জয়রামন এবং কোচবিহারের জেলা পুলিশ সুপার (SP) জসপ্রীত সিং এক বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে আচমকাই দিনহাটা থানায় হাজির হন। ১৭ জুন কলকাতায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই উদয়ন গুহ দিনহাটা থানার লক-আপে রয়েছেন। এদিন শীর্ষ আধিকারিকেরা সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের ঘরে গিয়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকার এই পুর-আবাস দুর্নীতির উৎস এবং এর সাথে জড়িত অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জানতে উদয়ন গুহকে একের পর এক প্রশ্নবাণে কোণঠাসা করেন বলে সূত্রের খবর।

সাড়ে ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ও গ্রেফতারি

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন কলকাতার ফুলবাগান থানা এলাকা থেকে পুলিশ চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করেছিল উদয়ন গুহকে। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো, দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সরকারি আবাসন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে তছরুপ ও জাল নথির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির হদিস পেয়েছে পুলিশ। এরপর ১৮ জুন ব্যাপক জনরোষ এবং ক্ষোভের মধ্যে দিয়ে তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের (Police Custody) নির্দেশ দেন।

তদন্তে মিলতে পারে বড়সড় তথ্য!

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, সরকারি টাকা কোন কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে কোথায় পাঠানো হয়েছিল এবং এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সুবিধাভোগী (Beneficiaries) আর কারা কারা, সেই সংক্রান্ত নথিপত্র ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কে. জয়রামনের মতো দুঁদে অফিসারের নেতৃত্বে এই ম্যারাথন জেরা থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত থাকা আরও কিছু রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

প্রাক্তন মন্ত্রীর এই পুলিশি হেফাজতের দিন যত এগোচ্ছে, দিনহাটা তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। আগামী দিনে আদালতে তোলার সময় পুলিশ নতুন কোনও বিস্ফোরক তথ্য পেশ করে কি না, সেদিকেই আপাতত নজর রাজনৈতিক মহলের।

উদয়ন গুহ দুর্নীতি মামলা (FAQ)

প্রশ্ন: উদয়ন গুহকে কী কারণে জেরা করছে পুলিশ?

উত্তর: দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন আবাস যোজনায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে জেরা করছে পুলিশ।

প্রশ্ন: দিনহাটা থানায় কারা তাঁকে জেরা করতে আসেন?

উত্তর: রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের আইপিএস কে. জয়রামন এবং কোচবিহারের জেলা পুলিশ সুপার জসপ্রীত সিং তাঁকে জেরা করতে আসেন।

প্রশ্ন: উদয়ন গুহ বর্তমানে কতদিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন?

উত্তর: গত ১৮ জুন দিনহাটা মহকুমা আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

দিনহাটা থানায় পুলিশি হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ WhatsApp-এ শেয়ার করুন সমীর হোসেন, দিনহাটা: ...

Cooch Behar News: প্রাণে বাঁচতে বাড়ি ছাড়লেন সদস্যরা! দিনহাটার পুটিমারিতে প্রাক্তন প্রধানের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

দিনহাটায় প্রাক্তন প্রধানের বাড়িতে আগুন, Fire at Dinhata on ex-pradhan's house, Putimari 1 Gram Panchayat
আগুনে ভস্মীভূত প্রাক্তন প্রধানের ঘরবাড়ি

সমীর হোসেন, দিনহাটা: ফের খবরের শিরোনামে দিনহাটা। এবার দিনহাটা পুটিমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান রফিকুল হকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। শুক্রবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাড়ির পাঁচটি ঘর এবং ঘরে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র, পোশাক-আশাক ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে পরপর বোমা বিস্ফোরণ!

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বেশ কয়েকটি মোটরবাইকে করে ৫০ থেকে ৬০ জন মুখোশধারী দুষ্কৃতী প্রাক্তন প্রধান রফিকুল হকের বাড়ির কাছে এসে জড়ো হয়। অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাড়ির পাশের ট্রান্সমিটার থেকে গোটা এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। চারিদিকে ঘন অন্ধকার নেমে আসার পর বাড়ির সামনে পরপর দুটি তীব্র শব্দে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

প্লাস্টিকের প্যাকেটে পেট্রোল এনে বাড়িতে আগুন

পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাতে আচমকা বোমার বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান। সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরা ছোট ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে পেট্রোল এনে বাড়ির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পুরো বাড়িতে ভয়ানকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবারের এক আতঙ্কিত সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, “হঠাৎ বাড়ির সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আমরা প্রাণভয়ে বেরিয়ে যাই। এরপর পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে ঘরের ভেতর থেকে কোনও জিনিসপত্রই বের করার সুযোগ আমরা পাইনি।”

ভস্মীভূত ৫টি ঘর, তদন্তে নামল পুলিশ

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাক্তন প্রধানের বাড়ির পাঁচটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। ঘরের চাল থেকে শুরু করে ভেতরে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে ঠিক কারা বা কী উদ্দেশ্যে গভীর রাতে এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে কোচবিহারের পুটিমারি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দিনহাটা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

দিনহাটার অগ্নিকাণ্ড (FAQ)

প্রশ্ন: দিনহাটার কোথায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে?

উত্তর: কোচবিহার জেলার দিনহাটা পুটিমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান রফিকুল হকের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রশ্ন: কীভাবে বাড়িতে আগুন লাগানো হলো?

উত্তর: পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একদল দুষ্কৃতী প্রথমে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এরপর বোমাবাজি করে এবং বাড়িতে প্লাস্টিকের প্যাকেটে পেট্রোল ছুঁড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

প্রশ্ন: এই ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে?

উত্তর: আগুনে বাড়ির পাঁচটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, পোশাক এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

আগুনে ভস্মীভূত প্রাক্তন প্রধানের ঘরবাড়ি সমীর হোসেন, দিনহাটা: ফের খবরের শিরোনামে দিনহাটা । এবার দিনহাটা পুটিমারি ১ নম্বর গ...

প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহর গ্রেফতারির পর আইনজীবীদের ‘হুমকি’! দিনহাটায় সরব বার অ্যাসোসিয়েশন

হুমকির অভিযোগ তুলে দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাংবাদিক বৈঠক, Dinhata Bar Association Press Meet, Udayan Guha Arrest Controversy
হুমকির অভিযোগ তুলে দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাংবাদিক বৈঠক

সমীর হোসেন, দিনহাটা: তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর গ্রেফতারির পর এবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল দিনহাটায়। ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করার জেরে সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) আইনজীবীদের কুৎসিত আক্রমণ ও চরম হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুললো দিনহাটার বার অ্যাসোসিয়েশন। এই ‘থ্রেড কালচার’ বা হুমকির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে শনিবার এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করল দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশন (Dinhata Bar Association)। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই দিনহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

সংবিধান ও পেশাগত স্বাধীনতার ওপর আঘাত, সরব আইনজীবীরা

এদিন দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাগৃহে আয়োজিত এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী অজিত কুমার দাস, নিহার রঞ্জন গুপ্ত, রতন কানু, মাসুদ হাসান সহ বার অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্য ও কর্মকর্তারা। উপস্থিত আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট জানান, "ভারতবর্ষের সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই যে কোনও অভিযুক্ত বা ব্যক্তি আইনি সহায়তা চাইলে, তাঁর পক্ষে আদালতে সওয়াল করা আমাদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। এই কাজে বাধা দেওয়া কিংবা সামাজিক মাধ্যমে আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে হুমকি দেওয়া স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর বড়সড় আঘাত এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক।"

থ্রেড কালচারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি

আইনজীবীদের অভিযোগ, উদয়ন গুহর গ্রেফতারির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একদল মানুষ আইনজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। এই ধরণের অপসংস্কৃতি আইনজীবীদের নির্ভীকভাবে কাজ করার পরিবেশ নষ্ট করছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি করা হয়েছে, যেন অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত করে সামাজিক মাধ্যমে হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। একই সাথে সমস্ত আইনজীবীদের পেশাগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

কী বলছেন ওয়াকিবহাল মহল?

কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর উদয়ন গুহর মতো দাপুটে ও হাইপ্রোফাইল নেতার গ্রেফতারি নিয়ে জনমানসে তীব্র আবেগ ও উত্তেজনা রয়েছে। কিন্তু আইনের আঙিনায় দাঁড়িয়ে পেশাদার আইনজীবীদের এভাবে নিশানা করা এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে তাঁরা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন।

দিনহাটার আইনজীবী বিতর্ক (FAQ)

প্রশ্ন: দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশন কেন জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করেছে?

উত্তর: গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহের পক্ষে আদালতে সওয়াল করায় সামাজিক মাধ্যমে আইনজীবীদের কুৎসিত আক্রমণ ও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদেই এই সাংবাদিক বৈঠক করা হয়।

প্রশ্ন: এই হুমকির ঘটনায় আইনজীবীরা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

উত্তর: দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই 'থ্রেড কালচার'-এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই দিনহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

প্রশ্ন: আইনজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে বার অ্যাসোসিয়েশন কী জানিয়েছে?

উত্তর: আইনজীবীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংবিধান মেনে যে কোনও অভিযুক্তের পক্ষে আদালতে সওয়াল করা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব। এই কাজে বাধা দেওয়া স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর বড়সড় আঘাত।

হুমকির অভিযোগ তুলে দিনহাটা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাংবাদিক বৈঠক সমীর হোসেন, দিনহাটা: তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের...

সাড়ম্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন বাসন্তিরহাট কুমুদিনী উচ্চবিদ্যালয়ে! প্রতিযোগিতায় নজর কাড়ল পড়ুয়ারা

পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন, West Bengal Day Celebration, Basantirhat Kumudini High School, NSS Cooch Behar
সাড়ম্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন বাসন্তীরহাট কুমুদিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদন, কোচবিহার: ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস (West Bengal Day) পালিত হলো কোচবিহার জেলার বাসন্তীরহাট কুমুদিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে (Basantirhat Kumudini High School)। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে ছিল বিদ্যালয়ের জাতীয় সেবা প্রকল্প (NSS) ইউনিট। দিনব্যাপী নানান মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচি ও আকর্ষণ

বিদ্যালয়ের প্রকাশিত কর্মসূচী অনুযায়ী, সকাল ৮টায় ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

  • সকাল ৮.১৫ মিনিটে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং জাতীয় সঙ্গীত ও 'বন্দেমাতরম' গাওয়ার মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
  • এরপর সকাল ৮.৩০ মিনিটে প্রধান শিক্ষক তাঁর স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
  • সকাল ৮.৪০ মিনিটে বিদ্যালয়ের দেওয়াল পত্রিকার উন্মোচন করা হয় এবং ৮.৫০ মিনিটে সেটি পরিদর্শন করা হয়।
  • সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গ বিষয়ক ক্যুইজ প্রতিযোগিতা।
  • সকাল ৯.৩০ মিনিটে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে "আমার চোখে পশ্চিমবঙ্গ" শীর্ষক একটি আকর্ষণীয় বক্তব্য ও উপস্থাপন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
  • সকাল ৯.৫০ মিনিটে নাচ, গান ও আবৃত্তির মতো বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে ওঠে পড়ুয়ারা।
  • সকাল ১২.৩০ মিনিটে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং সবশেষে দুপুর ১২.৫০ মিনিটে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

অঙ্কন প্রতিযোগিতার ফলাফল

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অঙ্কন ও ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় পড়ুয়ারা বিপুল উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে।

  • প্রথম স্থান: অমিতাভ বর্মণ (Amitabh Barman) – ষষ্ঠ শ্রেণি (VI/A), রোল- ১
  • দ্বিতীয় স্থান: সোনালী দাস (Sonali Das) – একাদশ শ্রেণি (XI/B), রোল- ১
  • তৃতীয় স্থান: টাপুর বর্মণ (Tapur Barman) – অষ্টম শ্রেণি (VIII/B), রোল- ১১
পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন, School event
(ছবি: নিজস্ব)

ক্যুইজ প্রতিযোগিতার ফলাফল

  • প্রথম স্থান: গ্রুপ- ডি (Group- D) – প্রাপ্ত নম্বর ৫৫
  • দ্বিতীয় স্থান: গ্রুপ- বি (Group- B) – প্রাপ্ত নম্বর ৪৫
  • তৃতীয় স্থান: গ্রুপ- এ (Group- A) – প্রাপ্ত নম্বর ৩৫

বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ পড়ুয়াদের মধ্যে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশেও বিশেষ সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকরা। উল্লেখ্য, এই বিদ্যালয়টি এর আগে বিশ্ব যোগ দিবসের প্রাক্কালে একটি সচেতনতামূলক পদযাত্রারও আয়োজন করেছিল

পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন, School event
(ছবি: নিজস্ব)
সাড়ম্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন বাসন্তীরহাট কুমুদিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিজস্ব প্রতিবেদন, কোচবিহার: ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের স...

🔥 Trending News

Loading...