Madhyamik 2026: মাধ্যমিকের লড়াইয়ে নাজিরহাটের মৌসুমী, সম্বল অদম্য জেদ
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাসন্তীরহাট: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা বিশেষ চাহিদা যে শিক্ষার পথে বাধার পাহাড় হতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল নাজিরহাটের মৌসুমী বর্মন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় আর পাঁচজন সাধারণ পড়ুয়ার মতোই পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের লড়াই চালিয়ে গেল সে। এদিন ছিল বাংলা পরীক্ষা। বাসন্তীরহাট কুমুদিনী উচ্চবিদ্যালয়ে সিট পড়েছিল নাজিরহাটের হরকুমারী উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী মৌসুমীর।
জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা, তাই মনে কিছুটা ভীতি থাকলেও মনোবল হারায়নি মৌসুমী। পরীক্ষা শেষে টোটোতে বাড়ি ফেরার পথে সে জানাল, পরীক্ষা মোটামুটি হয়েছে। মৌসুমীর কথায়, "প্রশ্ন ভালোই হয়েছিল। যা যা জানা ছিল, উত্তর করে এসেছি। তবে পড়ে এলেও অনেক কিছু ভুলে গিয়েছিলাম, তাই সবটা লিখতে পারিনি।"
শারীরিক বাচনভঙ্গিতে সমস্যা থাকলেও মৌসুমীর স্বপ্ন দেখার পথে তা বাধা হতে পারেনি। বাড়িতে দুজন গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করত সে। তবে শরীর বা পরিস্থিতির কারণেই হোক, খুব বেশি সময় ধরে পড়ার সুযোগ তার হতো না। সে জানায়, দিনে গড়ে এক ঘণ্টা করেই পড়ত। পড়াশোনার বাইরে গান বা আবৃত্তি নয়, বরং পড়াশোনা করা এবং চুপচাপ বসে থাকাই তার পছন্দের।
পরীক্ষার হলের পরিবেশ বা প্রশ্নপত্র নিয়ে ভীতি প্রসঙ্গে তার সরল স্বীকারোক্তি, "ভয় তো থাকেই।" তবুও সেই ভয়কে জয় করেই এগিয়ে চলেছে সে। নাজিরহাট থেকে এসে বাসন্তীরহাট কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া মৌসুমীর এই লড়াই অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও কুর্নিশ জানাচ্ছেন তার এই হার না মানা মানসিকতাকে। সমাজের সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে মৌসুমী তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাক, এমনটাই প্রার্থনা সকলের।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ