Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

মাধ্যমিকের অ্যাডমিট ভুলে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী, ‘ত্রাতা’ হয়ে বাইকে ছুটলেন সিভিক ভলান্টিয়ার

মাধ্যমিকের অ্যাডমিট ভুলে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী, ‘ত্রাতা’ হয়ে বাইকে ছুটলেন সিভিক ভলান্টিয়ার

মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬, সাহেবগঞ্জ থানা, দিনহাটা, সিভিক ভলান্টিয়ার, মানবিক পুলিশ, অ্যাডমিট কার্ড, মহাকালহাট হাইস্কুল, Madhyamik Exam 2026, Dinhata Police, Civic Volunteer, West Bengal Police Help

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসার টেনশন তো ছিলই, তার ওপর অ্যাডমিট কার্ড বাড়িতে বা স্কুলে ফেলে আসার মতো ঘটনা পরীক্ষার্থীদের জন্য দুঃস্বপ্ন হতে পারে। এদিন দিনহাটায় ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। তবে পরীক্ষার্থীদের সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে ‘মসিহা’র রূপে অবতীর্ণ হলো সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। পরীক্ষার ঠিক এক মিনিট আগে সিভিক ভলান্টিয়ারের বাইকে চড়ে অ্যাডমিট কার্ড হাতে কেন্দ্রে পৌঁছল পরীক্ষার্থী।

এদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় পরীক্ষা। দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের বামনহাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মহাকালহাট হাইস্কুল ছিল পরীক্ষাকেন্দ্র। সেখানে পরীক্ষা দিতে এসে দুই পরীক্ষার্থী আবিষ্কার করে, তারা ভুলবশত নিজেদের অ্যাডমিট কার্ড বামনহাট উচ্চ বিদ্যালয়েই ফেলে এসেছে। পরীক্ষা শুরুর তখন আর বেশি দেরি নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয় ওই পরীক্ষার্থীদের।

খবরটি কানে যাওয়ামাত্রই আর দেরি করেননি পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মীরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি আসরে নামেন সাহেবগঞ্জ থানার সিভিক ভলান্টিয়ার রবীন্দ্রনাথ সেন। তিনি নিজের মোটরসাইকেলে করে দ্রুত গতিতে ছুটে যান বামনহাট হাইস্কুলে। সেখান থেকে অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করে ঝড়ের গতিতে আবার ফিরে আসেন পরীক্ষা কেন্দ্রে।

সিভিক ভলান্টিয়ার রবীন্দ্রনাথ সেন জানান, "বিষয়টি নজরে আসতেই খুব জরুরি ভিত্তিতে এবং অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বাইক চালিয়ে গিয়েছি। ঠিক এক মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে অ্যাডমিট কার্ড সহ কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে পেরেছি। এতে ওই পরীক্ষার্থীর বছর নষ্ট হলো না, এটাই বড় পাওনা।" তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ সবসময় প্রস্তুত।

পুলিশের এই ভূমিকায় খুশি অভিভাবকরাও। পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত এক পরীক্ষার্থীর দিদি, পায়েল সাহা বলেন, "পুলিশের এই উদ্যোগ খুব প্রশংসনীয়। পুলিশ ঠিক এক মিনিট আগে আমার বোনকে স্কুল থেকে অ্যাডমিট কার্ড এনে সেন্টারে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এতে আমরা খুব আপ্লুত।"

রাজ্যজুড়ে যখন প্রায় ৯ লক্ষ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছে, তখন দিনহাটার এই ঘটনা প্রমাণ করল যে পুলিশ শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাই করে না, প্রয়োজনে মানবিক মুখ নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code