Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

নদীয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জমজমাট ‘নান্দনিক নদীয়া ভাষা উৎসব ও মেলা ২০২৬’

নদীয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জমজমাট ‘নান্দনিক নদীয়া ভাষা উৎসব ও মেলা ২০২৬’

নান্দনিক নদীয়া ভাষা উৎসব ২০২৬, নদীয়া জেলা প্রশাসন, দীপাঞ্জন দে, মহুয়া মৈত্র, বাংলা সাহিত্য মেলা, কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবন, লিটল ম্যাগাজিন মেলা, Nandoniik Nadia Bhasha Utsav, Nadia District History, Srijato, Pracheta Gupta.

নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উদযাপনকে কেন্দ্র করে নদীয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে পালিত হলো তিন দিনব্যাপী ‘নান্দনিক নদীয়া ভাষা উৎসব ও মেলা ২০২৬’। গত ২৪, ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি কৃষ্ণনগরের রবীন্দ্রভবন ও সংলগ্ন গভর্নমেন্ট কলেজ মাঠে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।

গত ২৪ জানুয়ারি কৃষ্ণনগরের রবীন্দ্রভবনে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী মঞ্চ আলো করে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমর মিত্র ও সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, জেলা সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর, জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত, পুলিশ সুপার অমরনাথ কে এবং জেলার একাধিক বিধায়ক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জেলার সাহিত্য ও ইতিহাসের দলিল প্রকাশ। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে প্রকাশিত হয় ‘নান্দনিক নদীয়া ভাষা উৎসব ও মেলা স্মরণিকা’। প্রায় শতাধিক নিবন্ধ, গল্প ও কবিতায় সমৃদ্ধ এই স্মরণিকাটি সম্পাদনা করেছেন লেখক দীপাঞ্জন দে। পাশাপাশি, উৎসবের প্রথম দিনেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশিত হয় ইতিহাসবিদ দীপাঞ্জন দে-র লেখা ‘নদীয়া’ শীর্ষক একটি বৃহৎ গ্রন্থ, যা জেলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অনন্য দলিল হিসেবে সমাদৃত হয়েছে।

নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট করতে উৎসব প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছিল আবৃত্তি, ক্যুইজ, বসে আঁকো, বিতর্ক এবং চিঠি লেখা প্রতিযোগিতা, যেখানে বহু শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

সাহিত্যপিপাসু মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তিন দিনের এই উৎসবে বিভিন্ন দিনে সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন প্রথিতযশা সাহিত্যিকরা। প্রথম দিনে অমর মিত্র ও সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের পর, দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত এবং তৃতীয় দিনে কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রভবন প্রাঙ্গণে জেলার লিটল ম্যাগাজিনের প্রায় ৫০টি স্টল মেলার জৌলুস আরও বাড়িয়ে তোলে।

দিনের বেলার সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তিন দিনই সন্ধ্যায় কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমগ্র উৎসবটির পরিকল্পনা ও সুষ্ঠু রূপায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক অনুপকুমার দত্ত। সব মিলিয়ে, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও আভিজাত্যের মিশেলে এই বছরের নান্দনিক নদীয়া ভাষা উৎসব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code