বাংলা ভক্তিসাহিত্যে অনন্য সংযোজন, ভাদুড়ী মহাশয়ের অমৃতবাণী সম্বলিত ‘হরিকথা’
নিজস্ব সংবাদদাতা, সংবাদ একলব্য: আধ্যাত্মিক জগতের অন্যতম বিস্ময়, পাশ্চাত্যে যিনি "The Levitating Saint" নামে পরিচিত, সেই ভাদুড়ী মহাশয় অর্থাৎ পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের সাধনলব্ধ জ্ঞান ও ভক্তিচেতনার নির্যাস নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এক অমূল্য গ্রন্থ— ‘হরিকথা’। সনাতন ধর্ম প্রচারিণী সভা ও শ্রীশ্রী নগেন্দ্র মঠের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই পুস্তিকাটি বাংলা ভক্তিসাহিত্যের ভাণ্ডারে এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
ভগবান শ্রীহরির অনন্ত মহিমাই এই গ্রন্থের মূল উপজীব্য। ৭৪ পাতার এই পুস্তিকাটি সংকলন করেছেন শ্রীশ্রী নগেন্দ্র মঠের প্রয়াত আচার্য ডঃ রঘুপতি মুখোপাধ্যায়। সংকলকের গভীর আধ্যাত্মিক অনুরাগ এবং মহর্ষিদেবের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে এই গ্রন্থটি আত্মপ্রকাশ করেছে।
বইটিতে শাস্ত্রীয় তথ্যের সাথে মিশে গিয়েছে মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের গভীর সাধনানুভূতি। একে নিছক একটি বই না বলে ‘ভবরোগ’ নিরাময়ের মহৌষধ বলা যেতে পারে। মহাত্মা তুলসীদাস যেমন সাধুসঙ্গের মহিমা কীর্তন করেছেন, ঠিক তেমনই এই ‘হরিকথা’ পাঠ ও শ্রবণ পাঠকের কাছে সাধুসঙ্গের সমান। বইটির ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে নির্গুণ পুরুষোত্তম ও পরমব্রহ্মের মাধুর্যমূর্তি— তাঁর রূপ, লীলা ও প্রেমের কথা।
পুস্তিকার শুরুতে ডঃ রঘুপতি মুখোপাধ্যায়ের সুলিখিত প্রস্তাবনা এবং ‘শিবদেহ হরিময় মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ’ শীর্ষক একটি অণু প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে, যেখানে ভাদুড়ী মহাশয়ের দিব্য জীবন ও সত্তাকে তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তী অংশে রয়েছে মহর্ষিদেব রচিত হরিভক্তিমূলক পরমার্থসঙ্গীত ও বেশ কিছু অপ্রকাশিত গান। এই পদাবলীগুলো পাঠ করলে কীর্তন ও আলোয়ার পদাবলীর কথা মনে পড়ে যায়। গ্রন্থের শেষ পর্বে সংকলিত হয়েছে মহর্ষিদেবের কিছু কালজয়ী বাণী, যা পাঠকের অন্তরে ভক্তি ও আত্মসমর্পণের ভাব জাগিয়ে তোলে।
ডঃ শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, "এই পুস্তিকা ভক্তকে পৌঁছে দিতে পারে সেই মার্গে— যেখানে কথা বলে অন্তর্মুখী ভক্তি।" সব মিলিয়ে, ভক্তি, বিশ্বাস ও অন্তর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে ‘হরিকথা’ আধ্যাত্মিক পিপাসু মানুষের কাছে এক অবশ্যপাঠ্য দলিল।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊