কেন্দ্রের বঞ্চনার জবাব জনমুখী বাজেটে! পে-কমিশন ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কী বললেন মমতা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বাজেটের মূল দিকগুলো তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে সাধারণ মানুষ, সরকারি কর্মচারী এবং রাজ্যের যুবসমাজের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা উঠে এসেছে। একইসাথে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজ্যের স্বনির্ভরতার বার্তা দিয়েছেন।
ভিডিওতে মুখ্যমন্ত্রী যে বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করেছেন, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
১. লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি: মহিলাদের জন্য সুখবর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ ও তফশিলি জাতি-উপজাতি—উভয় ক্ষেত্রেই এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে এবং তা এই ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই পাওয়া যাবে। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে নয়, বরং মা-বোনেদের কথা দিয়েই তা রাখা হলো।
২. সরকারি কর্মচারীদের জন্য ডিএ ও পে-কমিশন: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পেনশনভোগীদের সুবিধা: অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের চিকিৎসায় ‘ক্যাশলেস’ সুবিধা পেনশনের ৭৫% পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে বয়স্করা সম্মানের সাথে চিকিৎসা পেতে পারেন।
৩. যুবসমাজের জন্য ‘যোগ্যশ্রী’ বা নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প: বেকারত্ব দূরীকরণে এক নতুন উদ্যোগের কথা বলেন তিনি। রাজ্যের প্রায় ৩ লক্ষ যুবক-যুবতীকে স্বাবলম্বী করতে একটি স্কিম চালু হচ্ছে, যেখানে তারা ৫ বছর ধরে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে পাবেন। এটি মূলত ইন্টার্নশিপ বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য।
৪. গিগ ওয়ার্কার ও আশা কর্মীদের সুরক্ষা:
আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী: তাঁদের বেতন ও ইনসেনটিভ বৃদ্ধির পাশাপাশি মাতৃকালীন ছুটি এবং কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৫. কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ: কৃষক বন্ধু প্রকল্পের পাশাপাশি ক্ষেতমজুরদের জন্যও বছরে ৪,০০০ টাকা ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, গরিব চাষিদের সেচের জন্য পাম্পের বিদ্যুৎ বিল সম্পূর্ণ মকুব করার ঘোষণা করা হয়েছে।
৬. কেন্দ্রের বঞ্চনা ও রাজ্যের সাফল্য: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা এবং গ্রামীণ রাস্তার জন্য কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দিলেও রাজ্য নিজস্ব তহবিল থেকে সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি অমিত মিত্রের দেওয়া পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, কেন্দ্রের অসহযোগিতা সত্ত্বেও রাজ্যের রাজস্ব আদায় বেড়েছে এবং বেকারত্বের হার ৪৫%-এর বেশি কমেছে।
বাজেট পরবর্তী এই সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার জনকল্যাণমূলক কাজ থেকে সরে আসছে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মীদের পে-কমিশনের ঘোষণা নিঃসন্দেহে আসন্ন নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাল।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊