রেজিস্ট্রি ও প্রি-ওয়েডিং সারা, তবুও বিয়ের কয়েকদিন আগে পুরনো প্রেমিকের টানে সিদ্ধান্ত বদল পাত্রীর!
নিজস্ব প্রতিবেদন: সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে বাস্তব। রেজিস্ট্রি সারা, হয়ে গিয়েছে আশীর্বাদ, এমনকি প্রি-ওয়েডিং শুটও সম্পন্ন। সামাজিক বিয়ের বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। ঠিক সেই মুহূর্তেই সব ওলটপালট। হবু বরের হাত ছেড়ে পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধতে চাইলেন পাত্রী। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিষয়টি আর কেবল পারিবারিক বিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা গড়িয়েছে থানা পর্যন্ত।
দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি থানা এলাকার বাসিন্দা ওই পাত্র একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এবং পাত্রী পেশায় মেকআপ আর্টিস্ট। ২০২০ সাল থেকে তাঁদের সম্পর্কের শুরু। সেই সম্পর্ক মেনেই দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়। নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রি ও আশীর্বাদও হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগে পাত্রী বেঁকে বসেন। তিনি জানান, তিনি তাঁর পুরনো প্রেমিকের সঙ্গেই থাকতে চান।
শুক্রবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে ব্যাপক গোলমাল বাঁধে এবং তা থানায় পৌঁছায়। পাত্রী নিজেই তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে থানায় জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, পাত্রীর দাবি, পরিবারের চাপেই তিনি রেজিস্ট্রি, শুটিং এবং আশীর্বাদে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তাঁর মন বদলে যায়।
রেজিস্ট্রি হয়ে যাওয়া পাত্রের দাবি, এই ঘটনায় তিনি সামাজিকভাবে অপদস্থ হয়েছেন। তিনি সোজাসুজি জানিয়েছেন, "আমি ডিভোর্স চাই।" পাশাপাশি তিনি পাত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন।পাত্রীর বাবাও মেয়ের প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে মেয়ের পরিবারের দাবি, তাঁরা মেয়ের ওপর বিয়ের জন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করেননি।
জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তল জানিয়েছেন, "অভিযোগ জমা পড়েছে। সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" সাবালিকা পাত্রী পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তিনি বিয়েতে আপত্তি তুলেছিলেন, কিন্তু জোর করা হয়েছিল। বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊