কড়া নিরাপত্তায় শুরু মাধ্যমিক, বুনো হাতির ভয় কাটিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিল বনদপ্তর
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: কড়া পুলিশি নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে আজ থেকে শুরু হলো চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে জেলা সদরের পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি সবার নজর কেড়েছে ডুয়ার্স ও বনাঞ্চল এলাকার বিশেষ ব্যবস্থা। বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক কাটিয়ে বনাঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে ‘অভিভাবকের’ ভূমিকা পালন করল বনদপ্তর।
আজ সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি জেলার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে কড়া পুলিশি পাহারা লক্ষ্য করা গেছে। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের আগে অ্যাডমিট কার্ড এবং প্রয়োজনীয় নথি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হয়। মোবাইল ফোন বা কোনো নিষিদ্ধ বস্তু যাতে ভেতরে না যায়, তার জন্য ছিল কড়া নজরদারি। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং রাস্তায় যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সিভিক ভলান্টিয়াররাও মোতায়েন ছিলেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিটি কেন্দ্রের আশেপাশে ১৪৪ ধারা জারি রাখার পাশাপাশি নিয়মিত টহলদারি চলবে।
উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স সংলগ্ন এলাকাগুলিতে হাতির হানা একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বিশেষ করে ভোরবেলা বা সকালের দিকে বনাঞ্চল সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই প্রতি বছরের মতো এবারও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বনদপ্তর।
গরুমারা বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা, মরাঘাট রেঞ্জের গোঁসাইহাট, খুকলুং ও তোতাপাড়া বনবস্তি সহ একাধিক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পরীক্ষার্থীদের বনদপ্তরের নিজস্ব গাড়িতে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে আসার সময় যাতে কোনো বন্যপ্রাণীর আক্রমণের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বনকর্মীদের বিশেষ দল বা 'পেট্রোলিং টিম' পরীক্ষার্থীদের কনভয়কে এসকর্ট করে নিয়ে আসে।
বনদপ্তরের এই উদ্যোগে খুশি বনাঞ্চলের বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। তাদের কথায়, "সারা বছর হাতির আতঙ্কে থাকতে হয়। পরীক্ষার দিন ছেলেমেয়েরা কীভাবে কেন্দ্রে যাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বনদপ্তরের গাড়ি এসে নিয়ে যাওয়ায় আমরা নিশ্চিন্ত।" বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়াই নয়, পরীক্ষা শেষে একইভাবে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পড়ুয়াদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও তারা পালন করবেন। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ পরিষেবা চালু থাকবে।
প্রশাসনের এই দ্বিমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা— একদিকে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে নকল রোখার কড়াকড়ি এবং অন্যদিকে বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর হাত থেকে পড়ুয়াদের রক্ষা— চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষাকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ