‘মিশন ২০২৯’-এর সলতে পাকানো শুরু কুরুক্ষেত্র থেকেই? জেলা সভাপতিদের ‘ফিল্ড কম্যান্ডার’ হওয়ার ডাক রাহুলের
কুরুক্ষেত্রের মাটিতে দাঁড়িয়েই কি ২০২৯-এর মহাযুদ্ধের শঙ্খনাদ করলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)? হরিয়ানায় কংগ্রেসের জেলা সভাপতিদের নিয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরকে নিছকই এক সাংগঠনিক বৈঠক বললে ভুল হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শিবির আসলে কংগ্রেসের পরিবর্তিত রণকৌশল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরের এক ট্রেলার।
শিবিরের মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সরাসরি নিশানা করেছেন বিজেপি সরকার এবং তাদের ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণকে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিজেপি দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করে দিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে সরকারি যন্ত্রপাতি—সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। জেলা সভাপতিদের প্রতি রাহুলের স্পষ্ট বার্তা, “এখন আর শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিলে হবে না। লড়াইটা নিয়ে যেতে হবে বুথ স্তরে, প্রতিটি রাস্তায়।” হরিয়ানায় ভোট চুরি এবং জাল ভোটারের অভিযোগকে তিনি সরাসরি আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন।
বিজেপির ‘প্রচার সর্বস্ব’ রাজনীতিকে কটাক্ষ করে রাহুল (Rahul Gandhi) বলেন, “শুধুমাত্র প্রচার আর বড় বড় ঘোষণা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না।” কংগ্রেস কর্মীদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, বিদ্যুৎ সমস্যা, কৃষকদের দুর্দশা এবং জমি অধিগ্রহণের মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলিকে হাতিয়ার করতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, হরিয়ানার কৃষক অসন্তোষ এবং যুবকদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার মতো বিষয়গুলিই হবে আগামী দিনে কংগ্রেসের তুরুপের তাস।
কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রোগ ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ নিয়ে এদিন রাহুল (Rahul Gandhi) ছিলেন নির্মম। দলের বড় নেতাদের তোয়াজ না করে সংগঠনের প্রতি অনুগত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, “যারা নিজেদের দলের চেয়েও বড় মনে করেন, তাঁদের পিছনে ছোটার দিন শেষ।” টিকিট বা সুপারিশের রাজনীতি যে আর চলবে না, তা বুঝিয়ে দিয়ে জেলা সভাপতিদের ‘ফিল্ড কম্যান্ডার’ হিসেবে কাজ করার স্বাধীনতা দিয়েছেন তিনি।
বিজেপির শক্তিশালী বুথ ম্যানেজমেন্টকে টেক্কা দিতে রাহুল এবার তথ্য ও প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন। ভোটার তালিকার খুঁটিনাটি পরীক্ষা এবং বুথ স্তরের মাইক্রো-ম্যানেজমেন্টের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, জেলা সভাপতিদের এই ‘রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ’ এবং ক্ষমতায়ন যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এই কুরুক্ষেত্র শিবির ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, রাহুলের (Rahul Gandhi) এই ‘ফিল্ড কম্যান্ডার’রা হরিয়ানা কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়ে ২০২৯-এর লক্ষ্যে কতটা অবিচল থাকতে পারেন।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊