Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Madhyamik Math: মাধ্যমিকে গণিতে ৯০-এ ৯০ পাবে কিভাবে?

মাধ্যমিকে গণিতে ৯০-এ ৯০ পাবে কিভাবে? 

Madhyamik Math


একলব্য রেফারিড জার্নালের গবেষক গোষ্ঠীর তত্ত্বাবধানে একলব্য প্রকাশনীর সহযোগিতায় ২০২৬ এর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে গণিত বিষয়ে ৯০-এ ৯০ কিভাবে পাওয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করলেন সংবাদ একলব্যের এডিটর-ইন-চি আরিফ হোসেন, (এম. এস. সি. (রা), বি. এস. সি., বি. এড.,) ডিরেক্টর, একলব্য ইন্সটিটিউট অফ কম্পিটিটিভ এক্সামস, প্রধান শিক্ষক-নবোদয় গুরুকুল, C.E.O., সার্কেল) মহাশয়।


                                        

মাধ্যমিক পরীক্ষা ছাত্র জীবনের প্রথম বড় একটি উল্লেখযোগ্য পরীক্ষা। এই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হলে খুব ভালো করে সিলেবাসে ধ্যান দিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত পঠনপাঠনসহ প্র্যাকটিস, অনবরত বিভিন্ন প্রশ্নপত্র, অবজেক্টিভ প্রশ্ন পড়ে অনেক বিষয় সম্পর্কে অনুধাবন করা জরুরী। ধৈর্য্য ও পরিশ্রমই পারে তোমায় সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যেতে।


গণিত ভীতি অনেকেরেই রয়েছে। অন্য বিষয় গুলিতে পোক্ত হলেও গণিতের বিষয় আসলে অনেক পরীক্ষার্থী চিন্তায় পড়ে যান। সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা তার আগে পরীক্ষার্থীদের জেনে নেওয়া ভালো কিভাবে প্রশ্নের উত্তর করলে বিনা চিন্তায় ভালো ভাবে উত্তর করা যাবে


গণিত প্রশ্নের নম্বর বিভাজন

○ পাটিগণিত - মোট 21

  • বহুবিকল্প ভিত্তিক 2 
  • শূন্যস্থান 1
  • সত্য/মিথ্যা 2 
  • সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন 6  
  • দীর্ঘ উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন 10


○ বীজগণিত - মোট 24

  • বহুবিকল্প ভিত্তিক 1  
  • শূন্যস্থান 2
  • সত্য/মিথ্যা 2 
  • সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন 4 
  • দীর্ঘ উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন 15


○ জ্যামিতি - মোট 26

  • বহুবিকল্প ভিত্তিক 2  
  • শূন্যস্থান 2
  • সত্য/মিথ্যা 1 
  • সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন 8  
  • দীর্ঘ উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন 13


○ পরিমিতি - মোট 25

  • বহুবিকল্প ভিত্তিক 1 
  • শূন্যস্থান 1 
  • সত্য/মিথ্যা 1 
  • সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন 6 
  • দীর্ঘ উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন 16


কীভাবে এগোতে হবে? 

▪ প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর ভালো করে গোটা প্রশ্নপত্রটি পড়ে নিতে হবে। 

▪ অংকগুলোর উত্তর করার জন্য একটি ছক করে নাও। 

▪অবশ্যই প্রথমে জানা এবং সহজ অংকগুলো করতে হবে। জানা ও সহজ প্রশ্নের উত্তর করার পর কঠিন ও অজানা অংক করতে হয়। কারণ প্রথম দিকে কঠিন প্রশ্নের বা অজানা প্রশ্নের উত্তর করতে গিয়ে প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়ে গেলে ফলে শেষের দিকে সময়ের চাপে পড়তে হবে‌। 

▪ সব প্রশ্নেরই উত্তর জানা বা পারবে বলে মনে হলে সেগুলো নির্ভুলভাবে আগে করবে।


দাগ নম্বর ধরে ধরে প্রশ্নপত্রে কিভাবে এগোতে হবে? 

▪1,2 এবং 3 দাগের প্রশ্নগুলোতে যথাক্রমে বহুবিকল্প ভিত্তিক, শূন্যস্থান এবং সত্য/মিথ্যা থাকে, প্রতিটিতে এক নম্বর। এর জন্য রাফ-ওয়ার্ক জরুরি নয়, তবে করলে ভালো।

▪কিন্তু 4-এর দাগের প্রত্যেকটি প্রশ্নের অঙ্ক করার পদ্ধতি দেখাতে হবে। এই অংশে উত্তর করার সময় একবার করে রিভাইজ করে নিতে পারলে ভাল। এখানে বারোটার মধ্যে করতে হয় দশটা। যদি কোনো প্রশ্ন পরে করতে হয় তাহলে এরজন্য একটু জায়গা ছেড়ে রাখা ভালো। 

পাটিগণিত: 5 এর দাগের প্রশ্ন থাকে পাটিগণিত থেকে। তিনটি অঙ্কের মধ্যে দুটি অংক করতে হয়। ঠিকমতো সমাধান সহকারে লিখে শেষে উত্তরটা অবশ্যই লিখবে। 

বীজগণিত: 6 থেকে 8 এর দাগের প্রশ্নগুলো বীজগণিত থেকে হয়।। প্রশ্নের নির্দেশ ঠিক মতো অনুসরণ করে করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রশ্নের অথবা থাকে। যে প্রশ্নটা সহজ মনে হবে সেটা করবে। 

জ্যামিতি: 9 থেকে 11 দাগের প্রশ্ন হল জ্যামিতির। উপপাদ্য, সম্পাদ্য এবং একটা প্রয়োগ ভিত্তিক প্রশ্ন থাকে। উপপাদ্যের প্রশ্ন উত্তর করার সময়ে ছবি অবশ্যই পেন্সিলে আঁকবে। ছবির সঙ্গে লেখার মিল থাকা আবশ্যক। আর সম্পাদ্য করার সময়ে পেন্সিল কম্পাসের দাগ স্পষ্ট হওয়া জরুরি। কোনো দৈর্ঘ্যের মাপ নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা স্কেল ব্যবহার করে প্রথমেই নিয়ে নিতে হবে। সম্পাদ্যের সব কাজ কম্পাসের সাহায্যে করতে হবে, স্কেল শুধুমাত্র লাইন টানার জন্য ব্যবহার হবে, মাপ নেওয়ার জন্য নয়। সম্পাদ্যের চিত্র অঙ্কন হয়ে গেলে প্রশ্ন অনুযায়ী অঙ্কনের অতিসংক্ষিপ্ত আকারে বিষয়টি উল্লেখ লিখতে হয়। 


পরিমিতি: 12 দাগে পরিমিতি প্রশ্ন, করতে হবে চারটি। ছবি না আঁকলেও চলবে, তবে আঁকলে পেন্সিল দিয়ে আঁকবে। এই অঙ্কগুলোতে একক লেখার ক্ষেত্রে সজাগ থাকবে। এখানে ক্যালকুলেশনের কাজ অনেকটা থাকে। তাই সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে দেখে নেবে।


▪গোটা প্রশ্নপত্রের কোনো একটা প্রশ্নের উত্তর না মিললে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ঠান্ডা মাথায় প্রশ্নটা পড়ে তোমার করা উত্তর ভালো করে চেক করো, যদি ভুল কোথাও না খুঁজে পাও, পরবর্তী অংকে চলে যাও। সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, উত্তর-না মেলা অংকটি কিন্তু কোনোও ভাবেই কাটা যাবে না। কারণ অঙ্কের ক্ষেত্রে প্রতিটি স্টেপের জন্য নম্বর বরাদ্দ থাকে


▪সব শেষে ফাইনাল রিভিশন এর জন্য মিনিট পনেরো-কুড়ি যেন হাতে থাকে। এরজন্য প্রথম থেকেই সময় গুছিয়ে উত্তর লিখতে হবে। ঠান্ডা মাথায় সব মিলিয়ে দেখে নেবে। সব উত্তর করা হয়েছে কিনা, কোন প্রশ্ন বা প্রশ্নের অংশ বাদ পড়ে গেল কিনা, যে উত্তর চাওয়া হয়েছে তা যথাযথ ভাবে দেওয়া হয়েছে কিনা, সব গুলো ঠিক মতো করে মিলিয়ে নিতে হবে। 


তাড়াহুড়ো নয়, একদম ঠাণ্ডা মাথায় সময় নিয়ে অঙ্ক গুলোর প্রশ্ন পড়ে তারপর সমাধানের পথে এগোতে হবে‌। পাশাপাশি হাতে আর কয়েকটা দিন তার আগে পুরো বই একবার ঝালিয়ে নাও‌। কোন সূত্র, কোন অঙ্ক কিভাবে হচ্ছে নিজে থেকে বাড়িতে বসে সেগুলো প্রাক্টিস করে নাও। পরীক্ষার হলে শুধু সচেতন হলেই হবে না বাড়িতেও সচেতনতার সাথে প্রাক্টিস করা অত্যন্ত জরুরি। আর তাতে করে ৯০-এ ৯০ পাওয়া অনেকটা সহজ হবে। 

দেখবে অংক পরীক্ষা নিশ্চয়ই ভালো হবে। সকলকে অনেক শুভেচ্ছা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code