Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

দিনহাটা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের তথ্যে চাঞ্চল্য! রাজ্যে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন

দিনহাটা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের তথ্যে চাঞ্চল্য! রাজ্যে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন

Dr. Abdul Awal, Dinhata College Principal, West Bengal Higher Education Crisis, Student Dropout Rate, College Statistics, দিনহাটা মহাবিদ্যালয়, ড. আব্দুল আউয়াল, উচ্চশিক্ষা সংকট, কলেজ ড্রপআউট।

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষার ক্রমহ্রাসমান ছাত্রসংখ্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন দিনহাটা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. আব্দুল আউয়াল (Dr. Abdul Awal)। সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের কলেজের পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেছেন, এই চিত্র কেবল দিনহাটা কলেজের নয়, বরং গোটা পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষার বর্তমান বাস্তব অবস্থার এক ভয়াবহ প্রতিফলন।

অধ্যক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যানে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। ড. আউয়াল ২০২৩ সালে ভর্তি হওয়া ব্যাচটির উদাহরন দিয়ে দেখান, কীভাবে জ্যামিতিক হারে কমছে পড়ুয়াদের সংখ্যা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
  • ১ম সেমিস্টার (২০২৩): রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন ৩,৬৪২ জন ছাত্রছাত্রী।
  • ৩য় সেমিস্টার (১ বছর পর): পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিলাপ করেন মাত্র ২,০৩৪ জন।
  • ৫ম সেমিস্টার (বর্তমান): বর্তমানে পরীক্ষা দিচ্ছেন মাত্র ১,৪৬৯ জন।
মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে একটি ব্যাচ থেকে অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৬০%) শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। অধ্যক্ষের গলায় স্পষ্ট হতাশা, "যে বিপুল উৎসাহ নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা কলেজে পা রেখেছিল, মাঝপথে তারা হারিয়ে যাচ্ছে।"

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, তবে কি এই ছাত্ররা পরীক্ষায় ফেল করে হারিয়ে যাচ্ছে? ড. আউয়াল এই ধারণাটি সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা 'ব্যাক' (Backlog) পেলেও বা ফেল করলেও ৫ম সেমিস্টার পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। তাদের আটকেও রাখা হয়নি, তবুও তারা নেই। তাঁর কথায়, "এরা ফেল বা ব্যাক পেয়ে বেরিয়ে যায়নি, এরা ফর্ম ফিলাপই করছে না, পরবর্তী সেমিস্টারে ভর্তিই হচ্ছে না।"

বর্তমানে ৪ বছরের অনার্স বা রিসার্চ কোর্সে যেখানে ৮ম সেমিস্টার পর্যন্ত পড়ার কথা, সেখানে ৫ম সেমিস্টারে এসেই যদি ছাত্রসংখ্যা ৩,৬৪২ থেকে ১,৪৬৯-এ নেমে আসে, তবে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ ৮ম সেমিস্টারে কতজন টিকে থাকবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন অধ্যক্ষ।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই হারে ছাত্র কমতে থাকলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গিয়ে আসন ফাঁকা পড়ে থাকাটাই ভবিতব্য। উচ্চশিক্ষার প্রতি এই অনীহা বা ঝরে পড়ার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ— তা নিয়ে শিক্ষাবিদ ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন ড. আব্দুল আউয়াল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code