পুরুলিয়ায় তুষারপাত! পারদ শূন্যের নিচে না নামলেও কেন দেখা যাচ্ছে বরফের আস্তরণ? জানুন আসল সত্য
নিজস্ব প্রতিবেদন, পুরুলিয়া: দার্জিলিং বা কাশ্মীর নয়, খোদ পশ্চিমবঙ্গের রুক্ষ জেলা পুরুলিয়াতেই এবার দেখা মিলল বরফের! গত বুধবার থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সকালবেলা ঘুম ভাঙতেই চোখে পড়ছে চারপাশ সাদা চাদরে ঢাকা। তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না নামলেও ঘাসের আগায়, খড়ের গাদায়, এমনকি গাড়ির ছাদেও জমেছে বরফের আস্তরণ। টানা কয়েকদিন ধরে এই দৃশ্য দেখে হতবাক স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটকরা। তবে কি এবার দার্জিলিং ও সিকিমের সঙ্গে এক সারিতে বসতে চলেছে পুরুলিয়া? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের হিলটপ সংলগ্ন সীতাকুণ্ড এলাকা, বেগুনকোদর, বান্দোয়ানের ডাঙা গ্রাম এবং ঝালদা থেকে খামার যাওয়ার পথে সত্যমেলা এলাকায় এই সাদা আস্তরণ সবথেকে বেশি চোখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিমল কুইরি ও ঠাকুরদাস মাহাতোরা জানান, "শীতটা বেশ উপভোগ করছি। খড়ের গাদায় একেবারে বরফের আস্তরণ। পুরুলিয়া থেকেই এবার বরফ দর্শন হয়ে গেল।" গত বুধবার বেগুনকোদর পঞ্চায়েতের সুপুরডি গ্রামেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে।
বিজ্ঞান কী বলছে? এটা কি আদৌ তুষারপাত? আবহাওয়াবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, একে সাধারণ ভাষায় 'তুষারপাত' বা স্নোফল (Snowfall) বলা ভুল। এটি আসলে ‘গ্রাউন্ড ফ্রস্ট’ (Ground Frost) বা ‘ভূমি তুহিন’।
পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, "ওই সাদা আস্তরণকে সরাসরি তুষারপাত বলা যাবে না। এটি মূলত তুষার জমা। সাধারণত তাপমাত্রা শূন্যের উপরে থাকলেও, যদি তা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে, আকাশ মেঘমুক্ত ও দূষণমুক্ত থাকে এবং বাতাস একেবারে স্থির থাকে—তখন এই ঘটনা ঘটে। পুরুলিয়ার আবহাওয়া এখন ঠিক এমনই, তাই এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।"
তাপমাত্রার খতিয়ান ও অতীতের রেকর্ড চলতি মরশুমে পুরুলিয়া যেন শীতের জাদুকরী ফর্মে রয়েছে। গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা ছিল ৩ ডিগ্রির ঘরে। রবিবার পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ছিল ৫ ডিগ্রি, যা কালিম্পং ও গ্যাংটকের থেকেও কম। কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অযোধ্যা পাহাড়ে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে নেমেছে।
উল্লেখ্য, এমন ঘটনা পুরুলিয়ায় নতুন নয়। এর আগে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর বেগুনকোদরে ঠিক একই রকম ‘গ্রাউন্ড ফ্রস্ট’ দেখা গিয়েছিল। ৬ বছর পর ফের সেই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকল এই মালভূমি জেলা। আরও পড়ুনঃ Makar Sankranti Holiday GO: মকর সংক্রান্তিতে ছুটি ঘোষণা, বিজ্ঞপ্তি জারি
সব মিলিয়ে, হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সঙ্গে এই ‘সাদা আস্তরণ’ পুরুলিয়ার পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পর্যটকরা এখন ঘরের কাছেই পাচ্ছেন দার্জিলিংয়ের স্বাদ।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊