ইরানে জ্বলছে বিক্ষোভের আগুন, মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াল, ইন্টারনেট ফেরাতে মাস্কের দ্বারস্থ ট্রাম্প
সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন শাসকবিরোধী বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে ইরানে। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান সরকার। এই পরিস্থিতিতে ইরানের আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইন্টারনেট ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি স্টারলিংক-এর কর্ণধার ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে।
মৃতের সংখ্যা ও গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান মানবাধিকার কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান জুড়ে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৪৯৫ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিবিসির তথ্যমতে, তেহরানের কাছেই একটি মর্গে অন্তত ১৮০টি বডি ব্যাগ দেখা গিয়েছে। গত দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় ১০,৬০০-র বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ইরান সরকার সরকারিভাবে কোনো হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও মাস্কের ভূমিকা টানা চার দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলে ইরানে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার চেষ্টা করবেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। তিনি তাঁর সামরিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার যুদ্ধ বা কঠোর নিষেধাজ্ঞার মতো "খুব শক্তিশালী বিকল্প" বিবেচনা করছেন।
পাল্টা হুমকি ইরানের আমেরিকার এই অবস্থানের কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার তথা রেভোলিউশনারি গার্ডের প্রাক্তন কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয় বা আক্রমণ করে, তবে তার চরম মূল্য দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, "ইরানের ওপর আক্রমণ হলে ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলের সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।" আরও পড়ুন : এক মার্কিন তরুণীর বিয়ের প্রস্তাবে কী উত্তর দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ ?
রেজা পাহলভির বার্তা ও ভারতের অবস্থান নির্বাসিত ইরানের ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি একে "জাতীয় বিদ্রোহ" বলে অভিহিত করেছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালি ইরানে ৬ জন ভারতীয়র গ্রেপ্তারের খবরকে 'ভুয়া' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, যা এখন ১৯৭৯ সালের পর থেকে ক্ষমতাসীন ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊