Swami Vivekananda : এক মার্কিন তরুণীর বিয়ের প্রস্তাবে কী উত্তর দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ ?
বিশেষ প্রতিবেদন: শিকাগো ধর্মসম্মেলনে (১৮৯৩) স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক বক্তৃতার পর সমগ্র পাশ্চাত্য জগত তাঁর পাণ্ডিত্য ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে পড়েছিল। তাঁর তেজস্বী রূপ এবং গভীর আধ্যাত্মিক জ্ঞান সেই সময় বহু মানুষকে আকৃষ্ট করেছিল। সেই সময়কালেই আমেরিকার এক বিদুষী ও ধনাঢ্য তরুণী স্বামীজির প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট হন এবং তাঁকে বিবাহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই ঘটনা এবং তার প্রেক্ষিতে স্বামীজির উত্তর আজও ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
আমেরিকায় অবস্থানকালীন এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক মার্কিন তরুণী স্বামীজির কাছে আসেন। তিনি সরাসরি স্বামীজিকে প্রশ্ন করেন, "স্বামীজি, আপনি কি আমাকে বিবাহ করবেন?"
একজন সন্ন্যাসীর কাছে এমন প্রশ্ন ছিল অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত। কিন্তু স্বামীজি বিচলিত না হয়ে শান্তভাবে প্রশ্ন করলেন, "কেন? আপনি কেন আমাকেই বিবাহ করতে চান?"
উত্তরে ওই তরুণী বলেন, "আমি আপনার বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ। আমি চাই আমাদের একটি সন্তান হোক, যে ঠিক আপনার মতোই জ্ঞানী এবং তেজস্বী হবে। একমাত্র আপনাকে বিয়ে করলেই আমি আপনার মতো একটি সন্তানের মা হতে পারব। তাই আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই।"
তরুণীর এই কথা শুনে স্বামী বিবেকানন্দ এক মুহূর্তের জন্য ভাবলেন। তারপর অত্যন্ত বিনম্রভাবে এবং হাসিমুখে উত্তর দিলেন, "আপনি আমার মতো সন্তান চান, এই তো? কিন্তু তার জন্য বিয়ের কী প্রয়োজন? বিয়ে এবং সন্তান জন্ম দেওয়া—এ তো অনেক দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং তার ফলাফলও অনিশ্চিত। আমার মতো দেখতে বা গুণী সন্তান জন্মাবেই, তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার চেয়ে এক কাজ করুন, আজ থেকে আপনি আমাকেই আপনার সন্তান হিসেবে গ্রহণ করুন। তাহলে আপনি এখনই আমার মতো এক সন্তানের মা হয়ে গেলেন এবং আমিও আমার সন্ন্যাস ধর্ম বজায় রাখতে পারলাম।"
এই কথোপকথনটি কেবল একটি সাধারণ উপাখ্যান নয়, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর দার্শনিক বার্তা। স্বামীজির এই উত্তর প্রমাণ করে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি কতটা প্রখর ছিল। তিনি তরুণীকে অপমানিত না করে, অত্যন্ত সম্মান দিয়ে তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন এবং একইসাথে একটি মহৎ সম্পর্কের সূচনা করলেন।
স্বামী বিবেকানন্দ সর্বদা নারীকে 'মাতৃরূপে' দেখতেন। তাঁর কাছে প্রত্যেক নারীই ছিলেন জগজ্জননী বা মায়ের প্রতিরূপ। এই উত্তরে তাঁর সেই আদর্শই প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি কামনার ঊর্ধ্বে উঠে স্নেহ ও ভক্তির সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। একজন সন্ন্যাসীর কাছে বিবাহ নিষিদ্ধ। কিন্তু সরাসরি "না" বললে হয়তো ওই তরুণী আঘাত পেতেন। স্বামীজি তাঁর ব্রতও রক্ষা করলেন এবং ভক্তের ইচ্ছাও পূর্ণ করলেন এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক কৌশলে। আরও পড়ুন: স্বামী বিবেকানন্দের ১০ টি জীবন বদলে দেওয়া বাণী
ওই মার্কিন তরুণী স্বামীজির এই উত্তরে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, যাঁকে তিনি স্বামী হিসেবে চেয়েছিলেন, তিনি আসলে জাগতিক সম্পর্কের অনেক ঊর্ধ্বে। তিনি নতজানু হয়ে স্বামীজির চরণে প্রণাম করেন এবং তাঁকে সন্তানস্নেহে গ্রহণ করেন।
স্বামী বিবেকানন্দের এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে, দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করলে জগতের যে কোনো সমস্যার সমাধান অত্যন্ত সুন্দরভাবে করা সম্ভব। তাঁর এই ত্যাগ এবং পবিত্রতা আজও যুব সমাজের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
তথ্যসূত্র- ইন্টারনেট

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊