উত্তরবঙ্গের মুকুটে নয়া পালক, পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ডঃ মহেন্দ্রনাথ রায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের শিক্ষাজগতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ঘোষিত পদ্ম পুরস্কারের তালিকায় নাম উঠল উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা রসায়নের অধ্যাপক ডঃ মহেন্দ্রনাথ রায়ের (Mahendra Nath Roy)। সাহিত্য ও শিক্ষা (Literature & Education) বিভাগে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৬ সালের ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হলেন তিনি। তাঁর এই প্রাপ্তিতে খুশির জোয়ার ভাসছে গোটা উত্তরবঙ্গ তথা রাজ্যের শিক্ষমহল।
ডঃ মহেন্দ্রনাথ রায় (Mahendra Nath Roy) কেবল একজন অধ্যাপক নন, তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজেকে শিক্ষকতা ও গবেষণার কাজে উৎসর্গ করে রেখেছেন। তাঁর কর্মজীবন শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি রসায়ন বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে সহজভাবে ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরেছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডঃ রায়ের (Mahendra Nath Roy) তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত ৮৫ জনেরও বেশি গবেষক তাঁদের পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, যা এক বিরল কৃতিত্বের নজির। তিনি কেবল ছাত্রদের পথপ্রদর্শকই নন, নিজেও একজন উঁচুদরের লেখক। রসায়ন ও বিজ্ঞান বিষয়ক মোট ১৪টি বই রচনা করেছেন তিনি।
তবে তাঁর (Mahendra Nath Roy) সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান হল ‘ন্যানোজাইম’ (Nanozyme) বা ন্যানো-প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা। ন্যানোজাইম ডেভলপমেন্টের ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা বিজ্ঞানমহলে নতুন দিশা দেখিয়েছে। তাঁর এই অগ্রণী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপই তাঁকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করা হলো।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবার যে ১১ জন কৃতি সন্তান পদ্ম সম্মান পাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ডঃ মহেন্দ্রনাথ রায় অন্যতম। উত্তরবঙ্গের মতো জায়গা থেকে উঠে এসে জাতীয় স্তরে নিজের ও রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করায় তাঁকে নিয়ে গর্বিত আপামর এলাকাবাসী। আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে তিনি এই সম্মান গ্রহণ করবেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, ডঃ মহেন্দ্রনাথ রায়ের এই সম্মান প্রাপ্তি উত্তরবঙ্গের নবীন প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় আরও বেশি করে উৎসাহিত করবে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊