Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

দিনহাটায় তীব্র জলসংকট! সমাধানের আশ্বাসে ৩ সপ্তাহের 'ডেডলাইন', কী বললেন ভাইস চেয়ারম্যান?

দিনহাটায় তীব্র জলসংকট! সমাধানের আশ্বাসে ৩ সপ্তাহের 'ডেডলাইন', কী বললেন ভাইস চেয়ারম্যান?

Dinhata Municipality, Water Crisis, Sabir Saha Chowdhury, PHE Department, MED, AMRUT 2.0 Project, Drinking Water Supply, Udayan Guha, Cooch Behar News, দিনহাটা জলসংকট

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: পানীয় জলের হাহাকারে বিপর্যস্ত দিনহাটা শহর। শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় কল দিয়ে জল পড়ছে না, আর যেখানে পড়ছে তাও পানের অযোগ্য। এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে বুধবার পুরসভায় জরুরি বৈঠক ডাকলেন পুর কর্তৃপক্ষ। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (PHE) এবং মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরে (MED)-র আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান অপর্ণা দে নন্দী ও ভাইস চেয়ারম্যান সাবির সাহা চৌধুরী। বৈঠক শেষে ভাইস চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানালেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

পুরসভা সূত্রে খবর, দিনহাটা শহরে বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘অম্রুত ২.০’ প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু অভিযোগ, কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ধীরগতির কারণে শহরজুড়ে বিপর্যয় নেমে এসেছে। নতুন পাইপলাইন বসাতে গিয়ে পুরনো লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মেশিন অকেজো হয়ে পড়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান সাবির সাহা চৌধুরী জানান, "শহরের আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট বা আইপি মেশিনটির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ, যার ফলে পরিশ্রুত জল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।"

এদিনের বৈঠকে পুর কর্তৃপক্ষ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের কড়া বার্তা দিয়েছেন। সাবির সাহা চৌধুরী বলেন, "পুরো প্রজেক্ট শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ ততদিন অপেক্ষা করতে পারবে না। তাই আমরা পিএইচই (PHE) ও এমইডি (MED)-কে দুই সপ্তাহের ডেডলাইন দিয়েছি। তবে কাজের সুবিধার্থে আমরা শহরবাসীকে জানাচ্ছি যে, আগামী ২০-২৫ দিন বা তিন সপ্তাহের মধ্যে জল সংকট মেটাতে আমরা বদ্ধপরিকর।"

জলকষ্ট দূর করতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান জানান, মহরম মাঠ ও জলের ট্যাঙ্কি মোড়ে নতুন মেশিন বসানো হয়েছে এবং জ্যাম হয়ে থাকা লাইনগুলো পরিষ্কারের কাজ চলছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী তথা দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন পুর কর্তৃপক্ষ। উদয়ন বাবু নিজে পিএইচই দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুরসভার দাবি, বর্তমানে জল সরবরাহের দায়িত্ব পিএইচই থেকে এমইডি-তে হস্তান্তরিত হওয়ার সময় কিছু প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে এদিনের রেজোলিউশনের পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুরসভা। এখন দেখার, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে দিনহাটার সাধারণ মানুষ এই তীব্র জলকষ্ট থেকে মুক্তি পান কিনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code