SSC Recruitment Case : হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে ভেস্তে গেল 'পেছন দরজা' দিয়ে নিয়োগের চক্রান্ত, দাবি বিকাশ-শামিমের
কলকাতা, ৭ই জুলাই, ২০২৫: এসএসসি (SSC) নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত বঙ্গ রাজনীতিতে ফের নতুন মোড়। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata Highcourt) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এক স্পষ্ট বার্তায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ও আদালতের নির্দেশে যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আদালতের কড়া ভাষায়, “দাগি অযোগ্যদের কোনোভাবেই ফের সুযোগ দেওয়া যায় না।” এই নির্দেশের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধারা আবারও বদলে যাচ্ছে।
আইনজীবীদের অভিযোগ: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করেছিল রাজ্য
চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে দুই আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Bhattacharjee) ও ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim) আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। হাইকোর্টের এই রায় প্রসঙ্গে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Bhattacharjee) বলেন, "রাজ্য সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছিল, তাই আদালতে যাওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টও স্পষ্ট করে দিল যে দাগি অযোগ্যরা পরীক্ষায় বসতে পারবে না।"
আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim) বলেন, "অযোগ্যদের সঙ্গে সরকার যে রয়েছে সেটা তো পরিষ্কার। পরীক্ষার নামে এবারেও পিছনের দরজা দিয়ে তাদের চাকরি পাইয়ে চেষ্টা করেছিল সরকার। আদালত সেটা বুঝতে পেরেছে বলেই দাগি অযোগ্যদের আবেদন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে।"
নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে ৩০ মে-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তবে আদালতের শর্তে
এসএসসি-র ৩০ মে-র নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রায় ৪৪ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে কলকাতা হাইকোর্টের এই সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, নিম্নলিখিত শর্তগুলি মেনে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে:
- ২০১৬ সালের বাছাই বিধি মেনেই নিয়োগ হবে।
- দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রার্থী, বা যাঁদের চাকরি আদালতের নির্দেশে বাতিল হয়েছে, তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়বেন।
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
২০১৬ সালের দুর্নীতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যার ফলস্বরূপ প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআই তদন্তে এই অনিয়মের একের পর এক প্রমাণ উঠে আসে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এসএসসি এবং রাজ্য সরকার ২০২৫ সালে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তবে সেই বিজ্ঞপ্তির আইনি বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী, যার পরিপ্রেক্ষিতেই হাইকোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ রায় এল। আদালতের এই কড়া অবস্থান নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ