নিজস্ব সংবাদদাতা, সংবাদ একলব্য: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (WBLA 2026) সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবার প্রথম থেকেই আটঘাট বেঁধে নামছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে সমস্ত জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) উদ্দেশ্যে ভোটকর্মীদের (Polling Personnel) এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত এক বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ, ইভিএম (EVM) ও ভিভিপ্যাট (VVPAT) পরিচালনার খুঁটিনাটি এবং পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballot) প্রয়োগের নিয়মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বদল ও কড়াকড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকার মূল বিষয়গুলি তুলে ধরা হলো:
প্রশিক্ষণের রূপরেখা ও নিয়মাবলি
- র্যান্ডমাইজেশন ও প্রশিক্ষণ: ভোটকর্মীদের প্রথম র্যান্ডমাইজেশনের পরেই প্রথম দফার প্রশিক্ষণ শুরু করতে হবে। এরপর অবজার্ভারের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় র্যান্ডমাইজেশনের পর দ্বিতীয় দফার (পার্টি-ভিত্তিক) প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।
- বিশেষ ইভিএম প্রশিক্ষণ: প্রিসাইডিং অফিসার এবং ফার্স্ট পোলিং অফিসারদের জন্য EVM ও VVPAT-এর ওপর বিশেষ 'হ্যান্ডস-অন' প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। মক ড্রিল (Mock Drill) বাধ্যতামূলক এবং এই বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে 'স্যাটিসফ্যাকশন সার্টিফিকেট' নেওয়া হবে।
- ছোট ব্যাচে প্রশিক্ষণ: প্রশিক্ষণের মান উন্নত করতে এবং পারস্পরিক আলোচনা সুবিধাজনক করতে ৪০-৫০ জনের ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
- সারাদিনের সেশন: প্রিসাইডিং এবং ফার্স্ট পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ সারাদিন ব্যাপী হবে, যাতে ভোটের সমস্ত দিক এবং তাঁদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।
- মপ-আপ প্রশিক্ষণ: যাঁরা কোনো কারণে প্রশিক্ষণে অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁদের জন্য বিশেষ 'মপ-আপ' প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি বাধ্যতামূলক।
নতুন নিয়ম ও গুরুদায়িত্ব
- নতুন নির্দেশিকা সম্পর্কে অবগত করা: ফর্ম ১৪এ (Form 14A), বিকল্প নথির ব্যবহার, ৪৯এমএ (49MA) নিয়মে ভোটদান, ভোটের হিসাব এবং নতুন প্যাকেটিং সিস্টেম সম্পর্কে বিশদে বোঝাতে হবে।
- হাতে-কলমে কাজ: মক পোল, C-R-C (Clear-Read-Clear), ব্যালট স্লিপ ক্লিয়ার করা, মক পোল সার্টিফিকেট তৈরি এবং ECINET অ্যাপের ব্যবহার সম্পর্কে প্রত্যেককে পারদর্শী হতে হবে।
পোস্টাল ব্যালট (PB) ও EDC সংক্রান্ত কড়া নির্দেশ
- ফর্ম পূরণ: প্রশিক্ষণের প্রথম দিনেই সমস্ত ভোটকর্মীদের ফর্ম ১২ (Form 12) এবং ১২এ (12A) দেওয়া হবে এবং পূরণ করা ফর্ম ওই দিনই জমা নেওয়া হবে।
- ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারেই ভোটদান: এবার থেকে নির্বাচন ডিউটিতে থাকা পোস্টাল ব্যালট ভোটারদের শুধুমাত্র নির্ধারিত ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারেই (Facilitation Centre) ভোট দিতে হবে। অন্য কোনোভাবে (যেমন ডাকযোগে) ভোটদান গ্রাহ্য হবে না।
- ভোটদানের প্রক্রিয়া: ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারে ফার্স্ট পোলিং অফিসার সচিত্র পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখবেন। সেকেন্ড পোলিং অফিসার বাঁ হাতের তর্জনীতে অমোচনীয় কালি লাগাবেন এবং থার্ড পোলিং অফিসার পোস্টাল ব্যালট ইস্যু করবেন।
- গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা: ভোটিং কম্পার্টমেন্টে গিয়ে ভোট দেওয়ার পর নির্দিষ্ট খামে (13A ও 13B) ব্যালট ভরে সিল করে ড্রপবক্সে ফেলতে হবে। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার সময় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন এবং গোটা পর্বের ভিডিওগ্রাফি করা হবে।
- রিয়েল-টাইম অ্যাটেনডেন্স: পোর্টালে (emms.wb.gov.in) ভোটকর্মীদের উপস্থিতি রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে আপডেট করতে হবে।
কমিশনের এই নির্দেশিকা থেকে স্পষ্ট, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোনো রকম ত্রুটি বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটকর্মীরা যাতে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে এবং নির্ভুলভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন, তার জন্যই এই নিশ্ছিদ্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
বিধানসভা নির্বাচন এবং সরকারি কর্মীদের ডিউটি সংক্রান্ত সমস্ত জরুরি আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ