World Cancer Day: নবজাতকরাও এখন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে! কারণ কি জলবায়ু পরিবর্তন? জানুন বিস্তারিত
ডেস্ক রিপোর্ট: ক্যান্সার কেবল আর বয়স্ক বা তরুণদের ব্যাধি নয়, এই মারণ রোগ এখন থাবা বসাচ্ছে সদ্যোজাতদের শরীরেও। বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে সামনে এল এক উদ্বেগজনক তথ্য—জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে এখন ৩ থেকে ৬ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যেও ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইন্ডিয়ান ক্যান্সার সোসাইটি এবং এইমস (AIIMS)-সহ দেশের একাধিক বড় হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সমস্ত ক্যান্সারের ঘটনার মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশই শিশু।
শিশুদের ক্যান্সার: ভারতের বর্তমান ছবি ও পরিসংখ্যান
গবেষণা বলছে, ভারতে প্রতি বছর ০ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৭৫,০০০ শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী এই সংখ্যাটি বছরে ২ লক্ষেরও বেশি। ভারতে শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে ক্যান্সারটি দেখা যায় তা হলো লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার। এরপরই রয়েছে লিম্ফোমা, ব্রেন টিউমার, নিউরোব্লাস্টোমা, রেটিনোব্লাস্টোমা এবং সারকোমা (হাড় বা নরম টিস্যুর ক্যান্সার)।
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো সুস্থ হওয়ার হার। উন্নত দেশগুলোতে যেখানে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠে, সেখানে ভারতে এই হার মাত্র ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হলো সচেতনতার অভাব এবং দেরিতে রোগ নির্ণয়।
কেন আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা?
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ধূমপান বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ক্যান্সারের বড় কারণ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। গবেষণায় দেখা গেছে:
- মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা পিতামাতার কাছ থেকে জিনের মাধ্যমে এই রোগ পায়।
- বাকি ক্ষেত্রে পরিবেশগত কারণ, রেডিয়েশন বা গর্ভাবস্থায় মায়ের কোনো ক্ষতিকর সংস্পর্শ শিশুদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের পরোক্ষ প্রভাবও এখন নবজাতকদের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাবা-মায়েরা কোন লক্ষণগুলি দেখে সতর্ক হবেন?
ডাক্তারদের মতে, শিশুদের ক্যান্সার অনেক সময় কোনো প্রাথমিক লক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ দেখা দিতে পারে। তবে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
- ক্রমাগত জ্বর ও দুর্বলতা: দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ক্রমশ ওজন কমে যাওয়া।
- ব্যথা: হাড় বা জয়েন্টে কারণ ছাড়াই ব্যথা।
- ফোলা অংশ: ঘাড়, বগল বা কুঁচকিতে কোনো গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া।
- ব্রেন টিউমারের লক্ষণ: সকালে মাথাব্যথা, বমি, কথা বলতে সমস্যা বা হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো।
- চোখের সমস্যা: চোখের মণি সাদা হয়ে যাওয়া (রেটিনোব্লাস্টোমা), চোখ ফুলে যাওয়া বা চোখের পাতা আলগা হয়ে যাওয়া।
নারী বনাম পুরুষ: মৃত্যুহার কার বেশি?
সাধারণ মানুষের ধারণা যে ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুহার বেশি, কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গ্লোবোকনের তথ্য বলছে উল্টো কথা।
- বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রতি ১২ জন পুরুষের বিপরীতে ৯ জন নারী মারা যান।
- পুরুষদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ফুসফুসের ক্যান্সার।
- নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার বা ব্রেস্ট ক্যান্সার সবচেয়ে সাধারণ।
- তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৫০ বছরের কম বয়সী নারীদের মধ্যে ক্যান্সারের প্রকোপ এখন পুরুষদের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ভয় নয়, প্রয়োজন সময়মতো চিকিৎসা
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাঃ নীতেশ রোহাতগি অমর উজালা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, "ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভাবনা বড়দের চেয়ে বেশি, যদি তা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে।"
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় হলে: ১. চিকিৎসার তীব্রতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। ২. চিকিৎসার খরচ কমে। ৩. চুল পড়া, মুখের আলসার বা রক্তাল্পতার মতো সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। ৪. পরবর্তী জীবনে হৃদরোগ বা প্রজনন সমস্যার ঝুঁকি কমে।
চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসার পরেও নিয়মিত ফলোআপ বা চেক-আপ অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে হাজার হাজার শিশুর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊