বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেল ভারত ! 'ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে', মন্তব্য এলন মাস্কের
বিশ্ব অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF Report 2026)-এর সাম্প্রতিক তথ্য এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি এখন পশ্চিম থেকে ক্রমশ পূর্বের দেশগুলোর দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে ভারতের এগিয়ে যাওয়ার চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খোদ টেসলা প্রধান এলন মাস্ক।
আইএমএফের ২০২৬ (IMF Report 2026) সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক প্রকৃত জিডিপি (Real GDP) প্রবৃদ্ধিতে চীন এবং ভারত যৌথভাবে ৪৩.৬ শতাংশ অবদান রাখবে। এর মধ্যে এককভাবে ভারতের অবদান থাকবে ১৭ শতাংশ, যা ভারতকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে। সেই তুলনায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থাকবে মাত্র ৯.৯ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান সম্বলিত একটি চার্ট শেয়ার করে বিলিয়নেয়ার এলন মাস্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন যে, "ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে।" এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, অর্থনৈতিক আধিপত্য এখন আর কেবল পশ্চিমাদের হাতে নেই।
মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বাণিজ্যিক উত্তেজনা চরমে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর ভারী শুল্ক আরোপ করেছেন। এতদসত্ত্বেও, এশিয়ার এই দুই অর্থনীতির উত্থান প্রমাণ করে যে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক শক্তির ভরকেন্দ্র পূর্ব দিকে সরে আসছে।
আইএমএফের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি ২০২৬ সালে ৩.৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে, যা ২০২৫ সালের অক্টোবরের অনুমানের চেয়ে কিছুটা ভালো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বৈশ্বিক অর্থনীতির এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে প্রযুক্তিতে বিশাল বিনিয়োগ একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়াও, বিভিন্ন দেশের সরকারের আর্থিক সহায়তা, অনুকূল আর্থিক পরিস্থিতি এবং বেসরকারি খাতের শক্তিশালী অবস্থান বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তবে আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, প্রযুক্তি খাতের প্রত্যাশা কমে গেলে বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে তা প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আইএমএফের (IMF Report 2026) এই প্রতিবেদনটি ভারতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে উন্নত কর্মক্ষমতা এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে শক্তিশালী গতির কারণে ২০২৫ সালের জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.৭ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৭.৩ শতাংশ করা হয়েছে।
যদিও ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে ৬.৪ শতাংশে স্থিতিশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রেও ভারত স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালে তীব্র হ্রাসের পর মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে চীনের মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊