ভারত-EU বাণিজ্যে বাংলাদেশ ভয়ে, পোশাক শিল্প রক্ষায় এফটিএ-র ডাক ইউনূসের
সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে সাম্প্রতিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশী ভারতের সাথে ইইউ-এর এই ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের একচেটিয়া আধিপত্য খর্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায়, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই শিল্পকে বাঁচাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে দ্রুত অনুরূপ বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে 'এভরিথিং বাট আর্মস' (EBA) স্কিমের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করে আসছে। এর ফলে বাংলাদেশি পোশাক সেখানে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি হয়। অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্য রপ্তানিতে এতদিন ইউরোপে ৯ থেকে ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো।
তবে ভারত-ইইউ নতুন বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় টেক্সটাইল, চামড়া ও সামুদ্রিক পণ্য শূন্য শুল্কে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারবে।ভারতের সুবিধা: ভারতের নিজস্ব তুলা উৎপাদন এবং সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply chain) অত্যন্ত শক্তিশালী। শুল্ক উঠে গেলে তারা বাংলাদেশের চেয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারত ইউরোপে পুরোপুরি শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, এলডিসি (LDC) বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাবে। ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপিত হলে তা ভারতের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। এটি পোশাক শিল্পের অর্ধেকেরও বেশি বাজারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সম্প্রতি ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং ইউরোপীয় চেম্বার অফ কমার্স (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে এক বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধা ফুরিয়ে যাবে। তাই ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে হলে এখনই এফটিএ বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।
আলোচনায় ড. ইউনূস জাপানের সাথে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (EPA) উদাহরণ টানেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের সাথে চুক্তির ফলে সেখানে ৭,৩০০টিরও বেশি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। ইইউসহ অন্যান্য দেশের সাথেও একই মডেলে চুক্তি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
পাশাপাশি, দেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়াতে এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি ইইউ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন।
ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজও এফটিএ আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এলডিসি মর্যাদা থেকে বের হওয়ার পর বাংলাদেশ বড় ধরনের বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। তাই দেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজারকে রক্ষা করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ সরকার এখন আঞ্চলিক বাণিজ্যের এই পটপরিবর্তন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পোশাক খাতকে সুরক্ষিত রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊