'ক্যামেরার সামনে আসার লোভ'! চিনা রোবটকে নিজেদের বলে দাবি, বিতর্কে অধ্যাপক নেহার ঘাড়েই দোষ চাপাল গ্যালগোটিয়াস
নিজস্ব প্রতিবেদন: ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ (India AI Impact Summit 2026)-এ চিনা রোবট কুকুরকে নিজেদের আবিষ্কার বলে চালানোর ঘটনায় তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছিল গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়। এবার সেই বিতর্কে নতুন মোড়। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি আঙুল তুলল তাদেরই এক অধ্যাপকের দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, পণ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ‘ক্যামেরার সামনে থাকার উৎসাহে’ ওই অধ্যাপক ভুল তথ্য ছড়িয়েছেন।
টানা তিনবার বিবৃতি বদলানোর পর বুধবার গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় একটি চূড়ান্ত ব্যাখ্যা জারি করেছে। সামিটে সৃষ্ট বিভ্রান্তির জন্য তারা নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে থাকা আমাদের প্রতিনিধি পণ্যটির প্রযুক্তিগত উৎস সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র ক্যামেরার সামনে থাকার অদম্য উৎসাহে তিনি তথ্যগতভাবে ভুল দাবি করেছেন।"
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার, যখন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, অধ্যাপক নেহা সিং একটি রোবট কুকুরের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, "ওরিয়ন (Orion)-এর সাথে পরিচিত হোন। এটি গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অফ এক্সিলেন্স দ্বারা তৈরি।" তিনি আরও দাবি করেন, এই রোবট নজরদারি ও পর্যবেক্ষণে সক্ষম।
কিন্তু ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা ধরে ফেলেন যে, রোবটটি আসলে চিনা রোবোটিক্স কোম্পানি ‘ইউনিট্রি’ (Unitree)-র তৈরি। এরপরই শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘চুরি’ এবং ‘প্রতারণা’র দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।
এই ঘটনাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে অভিহিত করে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট কর্তৃপক্ষ গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়কে এক্সপো ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয় বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ফুটেজে দেখা গেছে, তাদের স্টলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। যদিও অধ্যাপক নেহা সিং দাবি করেছেন, তারা এমন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পাননি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে পড়ে শেষমেশ দায় স্বীকার করেছেন অধ্যাপক নেহা সিং। বুধবার তিনি বলেন, "আমি হয়তো বিষয়টি সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারিনি। প্রচুর শক্তি এবং উৎসাহের সাথে খুব দ্রুত কথা বলার কারণে, আমি সাধারণত যতটা স্পষ্টভাবে কথা বলি, এবার হয়তো তা পারিনি। এই বিভ্রান্তির জন্য আমি দায়বদ্ধ।"
প্রথমে রোবটটিকে নিজেদের তৈরি বলে দাবি করলেও, পরে বিতর্কের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় জানায় তারা কখনোই এটি তৈরির দাবি করেনি। তারা কেবল শিক্ষার্থীদের এআই প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য রোবটটি ব্যবহার করছিল। তবে এই ‘ইউ-টার্ন’ বা ভোলবদলও তাদের মুখ রক্ষা করতে পারেনি।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊