Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

জিএসটির স্বস্তি উধাও! সাবান, তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে ৫% পর্যন্ত, মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ

জিএসটির স্বস্তি উধাও! সাবান, তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে ৫% পর্যন্ত, মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ

FMCG Price Hike, GST Impact, Inflation in India, Daily Essentials Price Rise, Rupee Devaluation, Dabur, Hindustan Unilever, Tata Consumer Products, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি, জিএসটি, এফএমসিজি

নিজস্ব প্রতিবেদন: গত বছরের সেপ্টেম্বরে জিএসটি (GST) হ্রাসের ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে যে সাময়িক স্বস্তি এসেছিল, তা এবার উধাও হতে চলেছে। সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট থেকে শুরু করে ভোজ্য তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম ফের আকাশছোঁয়া হওয়ার পথে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং টাকার দামের রেকর্ড পতনের কারণে এফএমসিজি (FMCG) কোম্পানিগুলি তাদের পণ্যের দাম ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


গত বছর জিএসটি কমানোর পর কয়েক মাস ধরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এফএমসিজি সংস্থাগুলির দাবি, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়নের ফলে উৎপাদন খরচ সামলানো আর সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই এই বাড়তি খরচের বোঝা এখন গ্রাহকদের কাঁধে চাপানো হচ্ছে। পরিবেশকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিটারজেন্ট, হেয়ার অয়েল, চকোলেট, নুডলস এবং সিরিয়ালের নতুন স্টক ইতিমধ্যেই বর্ধিত দামে বাজারে আসতে শুরু করেছে।


দেশের শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজি কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ডাবর ইন্ডিয়া সংস্থার সিইও মোহিত মালহোত্রা জানিয়েছেন, চলতি আর্থিক বছরের চতুর্থ প্রান্তিকেই কোম্পানি ২ শতাংশ দাম বাড়াচ্ছে। মুনাফা বিরোধী বা অ্যান্টি-প্রফিটিয়ারিং পদক্ষেপের কারণে এতদিন দাম বৃদ্ধি স্থগিত থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে আর তা সম্ভব হচ্ছে না।


টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস, ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল ডি'সুজা জানিয়েছেন, ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের শেষেই চায়ের দামে সামান্য বৃদ্ধি ঘটেছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী দাম নির্ধারণ করা হবে।


হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (HUL) সংস্থার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নিরঞ্জন গুপ্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হোম কেয়ার পণ্যের দাম শীঘ্রই বাড়বে। সাবান, ডিটারজেন্ট এবং শ্যাম্পু তৈরির কাঁচামাল (যেমন লিকুইড প্যারাফিন এবং সার্ফ্যাক্ট্যান্ট) মূলত অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় সার্ফ এক্সেল, রিন, ভিম এবং ডোমেক্সের মতো পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে।


বিশ্লেষকদের মতে, টাকার দামের পতন এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। বাণিজ্য ঘাটতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতার জেরে ৩০ জানুয়ারি ডলারের বিপরীতে টাকার দাম সর্বকালের সর্বনিম্ন ৯২.০২-এ পৌঁছেছে। এর ফলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কাঁচামালের খরচ একধাপে অনেকটাই বেড়ে গেছে।


বিশেষ করে প্রাতঃরাশের আইটেম যেমন ওটস এবং নির্দিষ্ট কিছু বাদাম আমদানি করতে এখন অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। 'বাগরিস' (Bagrrys)-এর মতো সংস্থা, যারা মুয়েসলি এবং ওটস তৈরি করে, তারাও জানিয়েছে যে তারা নির্বাচিত কিছু প্যাকেটের দাম বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে।


এফএমসিজি (FMCG) কোম্পানিগুলি আরও জানিয়েছে যে, গত এক বছরে নারকেল তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার ফলে সালফার এবং এন-প্যারাফিনের মতো রাসায়নিকের দামও বেড়েছে। এতদিন কড়া নজরদারির ভয়ে কোম্পানিগুলি জিএসটি কমানোর সুবিধা গ্রাহকদের দিলেও, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে তারা পিছু হঠতে বাধ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে, মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে এবার বড়সড় টান পড়তে চলেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code