রাজ্যে ১.৫১ কোটি ভোটারের তথ্যে অসংগতি! 'লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি' ও আনম্যাপডদের তালিকা প্রকাশ কমিশনের
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত 'লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি' (Logical Discrepancy) এবং 'আনম্যাপড' (Unmapped) ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শনিবার ২৪ জানুয়ারি, নির্ধারিত সময়সীমার একদম শেষলগ্নে, রাত সাড়ে ৯টার পর কমিশনের ওয়েবসাইটে এই তালিকা আপলোড করা হয়।
এই তালিকায় রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে, যা পূর্ববর্তী অনুমানের চেয়ে অনেকটাই বেশি। এখন প্রশ্ন হলো, সাধারণ ভোটাররা কীভাবে জানবেন এই তালিকায় তাঁদের নাম আছে কি না?
কীভাবে ভোটাররা তালিকা দেখতে পাবেন?
কমিশন সূত্রে খবর, শনিবার রাতে তালিকাটি ওয়েবসাইটে আপলোড করার পাশাপাশি সমস্ত জেলার ERO (Electoral Registration Officer) এবং AERO (Assistant Electoral Registration Officer)-দের কাছে বুথভিত্তিক তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন ও অফিশিয়াল অ্যাক্সেস: আপাতত এই তালিকা শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরাই দেখতে পাচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের জন্য: সাধারণ ভোটাররা রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে নিজেদের এলাকার নির্দিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে এই তালিকা দেখতে পাবেন।
কোথায় টাঙানো হবে: গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিস এবং শহরের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড অফিসে এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেখান থেকেই ভোটাররা যাচাই করতে পারবেন তাঁদের তথ্যে কোনো অসংগতি বা ম্যাপিংয়ের সমস্যা রয়েছে কি না।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল রাজ্যে এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ। কিন্তু শনিবার রাতে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেল সংখ্যাটি প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষে পৌঁছেছে। তথ্যের বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
- মোট নাম: প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ।
- তথ্যগত অসংগতি (Logical Discrepancy): প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্যে অসংগতি রয়েছে।
- আনম্যাপড ভোটার (Unmapped): প্রায় ৩১ থেকে ৩২ লক্ষ ভোটারকে কোনো নির্দিষ্ট বুথের সাথে ম্যাপ করা যায়নি বা ম্যাপিংয়ে সমস্যা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগের পরিসংখ্যানে তথ্যগত অসংগতি ছিল ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৩২ জনের এবং আনম্যাপড ভোটার ছিল ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন। নতুন তালিকায় সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট ২৪ জানুয়ারির মধ্যে তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও তালিকা প্রকাশে রাত গড়ানোয় প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে। কমিশন সূত্রে খবর, নির্ভুল তালিকা প্রকাশের স্বার্থে শনিবার দফায় দফায় রাজ্য কমিশনের দপ্তরে বৈঠক চলে। দিল্লি থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়া হয়। সিইও অফিসের এক কর্তা জানান, দিল্লি থেকে চূড়ান্ত তালিকা আসার পরেই তা রাত্রে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয় এবং জেলা স্তরে পাঠানো হয়।
রবিবার সকাল থেকে প্রতিটি বুথ ও ওয়ার্ড স্তরে এই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊