রাজ্যের স্কুলগুলিতে এবার NAAC এর ধাঁচে SSA র্যাঙ্কিং, শুরু হচ্ছে এপ্রিল থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। এতদিন শুধুমাত্র কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গুণমান যাচাইয়ের জন্য ‘ন্যাক’ (NAAC) বা ‘এনআইআরএফ’ (NIRF)-এর মতো র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু ছিল। এবার সেই একই ধাঁচে রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলির জন্যও চালু হচ্ছে ‘এসএসএ’ (SSA) বা ‘স্টেট স্কুল অ্যাক্রেডিটেশন’ র্যাঙ্কিং। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকেই এই নতুন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)-কে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘স্টেট লেভেল স্কুল অ্যাক্রেডিটেশন অথরিটি’ (State Level School Accreditation Authority) বা ‘এসএসএএ’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর স্কুল শিক্ষা দপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদকে এই দায়িত্ব অর্পণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির পঠনপাঠন, পরিকাঠামো এবং সার্বিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তাদের নির্দিষ্ট গ্রেড বা র্যাঙ্ক প্রদান করা।
গত ২৬ জানুয়ারি, সাধারণতন্ত্র দিবসে সল্টলেক বিদ্যাসাগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, স্কুলগুলির মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই শিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন লাভ করেছে।
সংসদ সভাপতি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই স্কুলগুলির গ্রেডেশন এবং র্যাঙ্কিংয়ের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “কলেজ বা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলির মতো এবার স্কুলগুলিকেও তাদের পারফরম্যান্সের বিচারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। এর ফলে স্কুলগুলির মধ্যে ভালো করার সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।”
স্কুলগুলিকে তাদের ফলাফলের ভিত্তিতে এবং পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে। যদিও মূল্যায়নের সম্পূর্ণ খুঁটিনাটি পদ্ধতি এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবে জানা গেছে এটি অনেকটা কলেজের ন্যাক (NAAC) পরিদর্শনের ধাঁচেই হবে। স্কুলগুলি তাদের প্রাপ্ত গ্রেড অনুযায়ী সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা অনুদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।
রাজ্য শিক্ষানীতির সুপারিশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংসদের মতে, এই র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু হলে স্কুলগুলি নিজেদের মানোন্নয়নে আরও বেশি সচেষ্ট হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুলের পরিবেশ, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি এবং ছাত্রদের ফলাফলের মতো বিষয়গুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের শিক্ষা মানচিত্রে এই নতুন ব্যবস্থা কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊