বিধানসভা ভোটের আগেই নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাজ্যের
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও হাজারো পরীক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশিত হলো উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের (একাদশ-দ্বাদশ) শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত মেধাতালিকা। বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করে। তবে এবারের তালিকা প্রকাশে নজিরবিহীন স্বচ্ছতার পথে হেঁটেছে কমিশন, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
অতীতে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার অত্যন্ত সতর্ক কমিশন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এবার শুধুমাত্র সফল বা প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের নামই নয়, প্রকাশ করা হয়েছে অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৬০৬ জন প্রার্থীর প্রত্যেকেই জানতে পারবেন তাঁদের বর্তমান অবস্থান—তাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন নাকি অনুত্তীর্ণ। পাশাপাশি প্রথা মেনে প্রকাশিত হয়েছে ওয়েটিং লিস্ট বা অপেক্ষমান তালিকাও। কমিশনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
কমিশন সূত্রে খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই শুরু হতে পারে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া। মোট ১২,৪৪৫টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য এই কাউন্সেলিং হবে। তবে সামনেই সাধারণতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি) এবং সরস্বতী পুজোর ছুটি থাকায়, ২৭শে জানুয়ারির আগে কাউন্সেলিং শুরু করা সম্ভব হবে না বলে বিকাশ ভবন সূত্রে খবর।
এসএসসি-র চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে স্কুল অ্যালটমেন্ট বা স্কুল বাছাই পর্ব সম্পূর্ণ করতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। মেধার ভিত্তিতে প্রার্থীরা কাউন্সেলিং পর্বে নিজেদের পছন্দমতো স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে রাজ্য সরকার যে 'যুদ্ধকালীন তৎপরতা'য় কাজ করছে, তা স্পষ্ট।
- গত বছর ১৪ই সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগের পরীক্ষা হয়।
- গত ৭ই নভেম্বর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়।
- জানুয়ারির শুরুতে মেধা তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও আইনি জটিলতায় তা আটকে যায়।
- হাইকোর্টের নির্দেশে গত ২৭শে ডিসেম্বর ১৫৪ জন প্রার্থীর তথ্য যাচাই এবং ৩০শে ডিসেম্বর ভেরিফিকেশন হয়।
- সর্বশেষ গত ৮ই জানুয়ারি ৪৯ জন প্রার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়া হয়।
- সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মাত্র দু'সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশ করা হলো।
সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই সময়সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে নারাজ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে রাজ্য। বুধবারের তড়িঘড়ি তালিকা প্রকাশ সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছারই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এখন দেখার বিষয়, কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া কতটা মসৃণভাবে সম্পন্ন হয় এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হবু শিক্ষকরা কবে নাগাদ ক্লাসরুমে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়াতে পারেন।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊