Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Bangladesh: ‘মবের মুলুক’ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ, ভারতকে খলনায়ক বানাতে ব্যস্ত ইউনুস সরকার! বিস্ফোরক শেখ হাসিনা

Bangladesh: ‘মবের মুলুক’ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ, ভারতকে খলনায়ক বানাতে ব্যস্ত ইউনুস সরকার! বিস্ফোরক শেখ হাসিনা

Sheikh Hasina, Muhammad Yunus, Bangladesh Interim Government, Anti-India Sentiment, Osman Hadi Death, Awami League, Bangladesh Mob Rule, Chittagong Indian Embassy Attack, শেখ হাসিনা, মহম্মদ ইউনুস, বাংলাদেশ রাজনীতি, ভারত বিদ্বেষ


সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলার বর্তমান অরাজক পরিস্থিতি নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামি লিগ নেত্রীর অভিযোগ, বাংলাদেশে বর্তমানে ‘মবের মুলুক’ বা মব রুল চলছে। তাঁর দাবি, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সাধারণ মানুষকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার পরিকল্পিত চেষ্টা চালাচ্ছে।

ওসমান হাদির মৃত্যু ও অরাজকতার অভিযোগ সম্প্রতি ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের রাজনীতি। এই ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন মুজিবকন্যা। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মৃত্যুকে হাতিয়ার করে দেশে যে তাণ্ডব চালানো হচ্ছে, তার সঙ্গে ন্যায়বিচারের কোনও সম্পর্ক নেই। হাদির মৃত্যুর পরেই চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় হাই কমিশন, সংবাদমাধ্যমের অফিস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’-এ হামলা চালায় মৌলবাদীরা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে হাসিনা বলেন, “ওসমান হাদির মৃত্যু দুঃখজনক। তবে বাংলাদেশের বর্তমান বিশৃঙ্খলতার সঙ্গে এই ঘটনাটি সরাসরি জড়িত। দেশে আইনের শাসন নেই বলেই বাংলাদেশ আজ এই অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রাসে পড়েছে।”

ভারত-বিদ্বেষ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা হাসিনার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। নিজেদের সেই ব্যর্থতা ঢাকতে তারা ‘ভারত কার্ড’ খেলছে। তিনি বলেন, “নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের পথে না হেঁটে অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থকরা সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বাংলাদেশের নিকটতম বন্ধু ভারতের বিরুদ্ধে জনতাকে খেপিয়ে তুলতে ব্যস্ত।” হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার এবং জামাতের মতো কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো সুপরিকল্পিতভাবে ভারতকে ‘শত্রুরাষ্ট্র’ হিসেবে দেগে দিচ্ছে। অন্যদিকে, একাত্তরের ঘাতক ও ধর্ষক রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াতে তৎপর ঢাকা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভারতের মতো পরীক্ষিত বন্ধুকে দূরে ঠেলে দিয়ে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়া বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।

ভিন্নমত দমনে ‘মব কালচার’ শেখ হাসিনার মতে, বাংলাদেশে এখন ভিন্নমত পোষণ করা অপরাধে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে মবের মুলুক বানাতে চাইছে তারা। সংবাদপত্রের অফিস জ্বালানো হয়েছে, কূটনীতিকদের অপমান ও হয়রান করা হয়েছে। হাদির সুবিচারের সঙ্গে এসবের যোগ কোথায়?” তাঁর দাবি, ন্যায়বিচার চাওয়ার আড়ালে আসলে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে আতঙ্কিত, নীরব ও নির্মূল করার নীল নকশা তৈরি করেছে সরকার। বিএনপি ও জামাতের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী হিংসা ও সংঘাতে লিপ্ত হয়ে তারা দেশকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে।

স্বাধীনতা ও নাগরিক সুরক্ষা জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে যারা ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন, তাদেরও একহাত নিয়েছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, আওয়ামি লিগের আমলে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারতেন। কিন্তু এখন দেশজুড়ে নাগরিক পতন বা ‘সিভিল কোলাপস’ দেখা যাচ্ছে। চরমপন্থীরা বুঝে গিয়েছে তাদের বিচার করার কেউ নেই, তাই তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

হাসিনার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। একদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের ভারত বিরোধী অবস্থান, অন্যদিকে হাসিনার এই কঠোর বার্তা— দুইয়ে মিলে আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code