Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ISRO: নতুন বছরেই বড় ধাক্কা ইসরোর! মহাকাশে ‘নিখোঁজ’ প্রতিরক্ষা উপগ্রহ ‘অন্বেষা’-সহ ১৬টি স্যাটেলাইট

নতুন বছরেই বড় ধাক্কা ইসরোর! মহাকাশে ‘নিখোঁজ’ প্রতিরক্ষা উপগ্রহ ‘অন্বেষা’-সহ ১৬টি স্যাটেলাইট

ISRO, PSLV-C62, Anwesha Satellite, DRDO, Space Mission Failure, Indian Space Research Organisation, Defense Satellite, ইসরো, অন্বেষা উপগ্রহ, মহাকাশ গবেষণা, শ্রীহরিকোটা

নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০২৬ সালের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)। নতুন বছরের প্রথম মিশনেই ব্যর্থতার মুখে পড়ল ইসরোর বহু প্রতীক্ষিত পিএসএলভি-সি৬২ (PSLV-C62) রকেট। সোমবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণের পর তৃতীয় পর্যায়ে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। যার ফলে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ‘অন্বেষা’ (Anwesha) সহ মোট ১৬টি উপগ্রহ মহাকাশে হারিয়ে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কী ঘটেছিল সোমবার সকালে? সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেয় পিএসএলভি-সি৬২। ইসরো সূত্রে খবর, উৎক্ষেপণের প্রথম কয়েক মিনিট সবকিছুই পরিকল্পনামাফিক চলছিল। রকেটের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু তৃতীয় ধাপে (Third Stage) পৌঁছনোর পরেই ছন্দপতন ঘটে। কন্ট্রোল রুমের স্ক্রিনে দেখা যায়, রকেটটি তার নির্ধারিত গতিপথ থেকে সরে যাচ্ছে। এরপরই গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে রকেটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল ‘অন্বেষা’? এই মিশনের ১৬টি উপগ্রহের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ ‘অন্বেষা’। এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষা নজরদারি উপগ্রহ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, এই উপগ্রহটি সক্রিয় হলে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেত। ‘অন্বেষা’-র বিশেষ কাজ ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত আলোর উৎস চিহ্নিত করা। সীমান্তে শত্রুপক্ষের গোপন আনাগোনা, সেনা বা অস্ত্র মোতায়েনের খবর নিখুঁতভাবে জানাতে সক্ষম ছিল এই উপগ্রহ। কিন্তু উৎক্ষেপণ বিভ্রাটে এই অমূল্য সম্পদটি মহাকাশে হারিয়ে যাওয়ায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরো কী বলছে? যদিও ইসরোর তরফে এখনও সরকারিভাবে এই মিশনকে ‘ব্যর্থ’ বলে ঘোষণা করা হয়নি। সংস্থার চেয়ারম্যান ভি নারায়াণন জানিয়েছেন, “১৬টি উপগ্রহ নিয়ে ঠিক কী সমস্যা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের বিজ্ঞানীদের দল ডেটা বিশ্লেষণ করছে। যাবতীয় তথ্য শীঘ্রই জানানো হবে।” তবে মহাকাশ গবেষক ও বিশ্লেষকদের মতে, পিএসএলভি রকেটের তৃতীয় পর্যায়ে সমস্যা দেখা দেওয়া মানে মিশন সফল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। রকেটের পে-লোডে থাকা উপগ্রহগুলি সম্ভবত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি এবং মহাকাশেই হারিয়ে গিয়েছে।

অতীতের ছায়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উল্লেখ্য, গত বছরও পিএসএলভি রকেটের একটি মিশন (ইওএস-০৯) ব্যর্থ হয়েছিল। সেই ব্যর্থতা ভুলে নতুন বছরে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছিল ইসরো। কিন্তু বছরের শুরুতেই এই ১৬টি উপগ্রহের নিখোঁজ হওয়া নিঃসন্দেহে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় একটি বড় ধাক্কা। এখন দেখার বিষয়, ইসরো দ্রুত এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধান করে পরবর্তী মিশনে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code