Mamata Banerjee: মমতাকে রুখতে ‘সুপ্রিম’ দরবারে ইডি, আইপ্যাক কাণ্ডে যুক্ত সিপি-ডিজির নাম
সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক : আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তরে তল্লাশি ঘিরে গত সপ্তাহে নজিরবিহীন সংঘাত দেখেছে কলকাতা। এবার সেই সংঘাতের জল গড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দান এবং প্রামাণ্য নথি ‘ছিনিয়ে’ নেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, এই মামলায় পক্ষ করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ শর্মা এবং ডিসি প্রিয়ব্রত রায়কেও।
গত ৮ জানুয়ারি, বুধবার পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরে কলকাতার আলিপুরে আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি চলাকালীনই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেখান থেকে বেশ কিছু ফাইল এবং নথি নিজের সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা দাবি করেছিলেন, “এগুলি আমার দলের নথি। নির্বাচনী রণকৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। ইডি বেআইনিভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এসব বাজেয়াপ্ত করতে চেয়েছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে দলের তথ্য চুরি করার ষড়যন্ত্র করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
ইডির অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ আধিকারিকরা তাঁদের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ নথি জোর করে নিয়ে গিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে দু’টি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে।
১. প্রথম মামলা: ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তরফে সংস্থা হিসেবে দায়ের করা হয়েছে।
২. দ্বিতীয় মামলা: তল্লাশিতে যাওয়া ইডির তিন আধিকারিক ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের হাত থেকে ফাইল ‘ছিনতাই’ করা হয়েছে।
এই মামলায় সিবিআইকেও (CBI) একটি পক্ষ বা পার্টি করা হয়েছে বলে খবর। ইডির দাবি, রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশ যেভাবে তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে, তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এই ঘটনার পর কলকাতা হাইকোর্টেও তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছিল— একটি ইডির তরফে, বাকি দুটি রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের তরফে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে গত শুক্রবার এই মামলার শুনানির কথা থাকলেও আইনজীবীদের বিক্ষোভে এবং এজলাসে তুমুল বিশৃঙ্খলার জেরে শুনানি হয়নি। আগামী ১৪ জানুয়ারি ফের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। কিন্তু হাইকোর্টের সেই শুনানির আগেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ইডির এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই দাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “ছয় বছর আগের একটি পুরনো মামলাকে এখন খুঁচিয়ে তোলা হচ্ছে শুধুমাত্র ভোটের আগে তৃণমূলকে ব্যস্ত রাখতে। ওইদিন ইডি আসলে তৃণমূলের নির্বাচনী ডেটা লুট করতে গিয়েছিল। দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সম্পদ রক্ষা করেছেন। এখন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ইডি আদালতে যাচ্ছে।”
আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় কী নির্দেশ দেয় এবং রাজ্য বনাম কেন্দ্রের এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊