ডিসেম্বরে ৩ মাসের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যবৃদ্ধি, চিন্তা বাড়িয়ে দামি সবজি ও প্রোটিন
নিজস্ব প্রতিবেদন: বছরের শেষে কিছুটা অস্বস্তি নিয়েই শেষ হলো ভারতের মুদ্রাস্ফীতির গ্রাফ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের খুচরো মূল্যস্ফীতি বা রিটেল ইনফ্লেশন (Retail Inflation) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৩৩ শতাংশে। যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। নভেম্বর মাসে এই হার ছিল মাত্র ০.৭১ শতাংশ। মূলত শাকসবজি, মাছ-মাংস এবং ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম বাড়ার ফলেই মূল্যবৃদ্ধির এই উর্ধ্বগতি বলে জানিয়েছে জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস (NSO)।
ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) বা কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ভিত্তিক তথ্য বলছে, সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি বাড়লেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি (Food Inflation) এখনও ঋণাত্মক বা নেগেটিভ জোনে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড করা হয়েছে (-) ২.৭১ শতাংশ। যদিও নভেম্বরের (-) ৩.৯১ শতাংশের তুলনায় এটি কিছুটা বেড়েছে। এর অর্থ হলো, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় দাম কম থাকলেও, নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বরে খাদ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে রান্নাঘরের বাজেটকে নতুন করে চাপে ফেলেছে প্রোটিন জাতীয় খাবার এবং মশলাপাতি।
NSO-র তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতির পারদ চড়ানোর পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিভাগ: ১. প্রোটিন আইটেম: মাছ, মাংস এবং ডিমের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ২. শাকসবজি ও মশলা: শীতকালীন সবজির দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে সবজি ও মশলার ঝাঁজ বেড়েছে। ৩. ডাল: সাধারণ মানুষের প্রোটিনের অন্যতম উৎস ডালের দামও উর্ধ্বমুখী। ৪. অন্যান্য: ব্যক্তিগত যত্ন বা পার্সোনাল কেয়ার পণ্যের দাম বাড়াও সামগ্রিক সূচককে ওপরের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ডিসেম্বরের এই পরিসংখ্যান ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) মুদ্রানীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার আরবিআই-কে ৪ শতাংশ (+/- ২ শতাংশ) মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বেধে দিয়েছে। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে বা ৬ শতাংশের ওপরে যাওয়া অর্থনীতির জন্য ভালো লক্ষণ নয়। ডিসেম্বরে ১.৩৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হলেও, তা এখনও আরবিআই-এর নিম্ন সহনশীলতা সীমা বা লোয়ার টলারেন্স লিমিট (২%)-এর নিচেই রয়েছে। এই নিয়ে টানা চার মাস খুচরো মূল্যবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে রইল। অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যবৃদ্ধি অতিরিক্ত কম থাকা গ্রামীণ অর্থনীতির দুর্বল চাহিদাকে নির্দেশ করে। তবে মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায়, আরবিআই সুদের হার কমানোর (Rate Cut) বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার।
সেপ্টেম্বরে ১.৪৪ শতাংশে পৌঁছানোর পর অক্টোবরে তা কমেছিল, কিন্তু ডিসেম্বরে ফের ১.৩৩ শতাংশে উঠে আসা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজারদর অস্থিতিশীল। বিশেষ করে প্রোটিন এবং মশলার দাম বাড়া মধ্যবিত্তের পকেটে চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও পরিসংখ্যানগতভাবে এটি এখনও আরবিআই-এর 'কমফোর্ট জোন'-এর নিচেই রয়েছে।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ