হাতির রোষের মুখে পড়লেন বনকর্মীরা! গুরুতর জখম ১, আহত আরও ২ বনকর্মী
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালবাজার: লোকালয়ে ঢুকে পড়া হাতির পালকে জঙ্গলে ফেরাতে গিয়ে উলটে হাতির রোষের (Elephant Attack) মুখে পড়লেন বনকর্মীরা (Forest Department) । হাতির হানায় গুরুতর জখম হয়েছেন এক বনকর্মী, আহত আরও দু'জন। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মাল ব্লকের কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বড়দিঘি ভোটডাঙ্গা ও নিচ চালসার মধ্যবর্তী এলাকায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিলিগুড়ির এক বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন এক বনকর্মী।
বনদফতর সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে লাটাগুড়ির জঙ্গল (Lataguri Forest) থেকে সাতটি হাতির একটি দল খাবার ও জলের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। বড়দিঘি ও নিচ চালসা এলাকায় হাতির পালটি আসতেই উৎসাহী জনতা ভিড় জমাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে কারণ হাতির পালটি মাঝখানে ছিল এবং চারপাশ থেকে মানুষ তাদের ঘিরে ফেলেছিল।
খবর পেয়ে মাল স্কোয়াডের সাতজনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বনকর্মীরা মাইকিং করে স্থানীয় মানুষদের সরে যাওয়ার ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযোগ, অতি উৎসাহী জনতা বনকর্মীদের নিষেধ শোনেননি। মানুষের কোলাহল ও ভিড়ে হাতিরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
ভিড় সামলে হাতি তাড়ানোর চেষ্টার সময় হঠাৎই দলের একটি হাতি বনকর্মীদের দিকে তেড়ে আসে। প্রাণ বাঁচাতে বনকর্মীরা দৌড় দিলে হাতিটি তাঁদের নাগাল পেয়ে যায়। বছর তিরিশের বনকর্মী রবিন রায় পড়ে গেলে হাতিটি তাঁর পেটে পা দিয়ে চাপ দেয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুই বনকর্মী আহত হন। পরে হাতিটি সরে গেলে অন্য সহকর্মীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত তিনজনের মধ্যে দু'জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও রবিন রায়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এই ঘটনার পরেও দমে যাননি বনকর্মীরা। রাতভর অপারেশন চালিয়ে অবশেষে শনিবার সকালে সাতটি হাতিকেই সফলভাবে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হন তাঁরা। স্থানীয়দের অসচেতনতা ও হঠকারী আচরণের জেরে বনকর্মীদের এভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বনদফতর।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊