মহাকাল মন্দির তৈরির নামে উচ্ছেদ! চরম উত্তেজনা শিলিগুড়িতে, বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন গৃহহীনরা
শিলিগুড়ি: মহাকাল মন্দির (Mahakal Temple) নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই প্রশাসন একাধিক দোকান ও বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু করেছে। হঠাৎ বুলডোজার চলতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্থানীয় মহিলারা। তাদের অভিযোগ, মন্দির তৈরির (Mahakal Temple) নামে গরিব মানুষের পেটে লাথি মারছে সরকার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ থেকে সিপিএম নেতা জীবেশ সরকার—সকলেই সরব হয়েছেন এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এসজেডিএ (SJDA)-র জমিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা আরতি ঝা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “নোটিশ তো দেয়ইনি, উল্টে আমাদের ঘরদোর ভাঙতে চলে এসেছে। আমরা মহাকাল মন্দির নিয়ে খুশি, কিন্তু মাঝখান থেকে আমাদের ঘর ভাঙা কেন? আমরা গরিব মানুষ, ঝাড়ু-পোছা করে খাই। আমার স্বামী নেই, পাঁচটা মেয়েকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? চা বাগানে কাজ নেই, এখন থাকার জায়গাও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা সরস্বতী অধিকারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “শিলান্যাসের সময় এক কথা বলেছিল, এখন অন্য কথা। আমরা কি গরু-ছাগল যে তাড়িয়ে দিলেই চলে যাব? মমতা দিদি বলেছিলেন গরিবদের দেখবেন, এটাই কি তার নমুনা? আমাদের থাকার জায়গা দিন, তারপর যা খুশি করুন। নয়তো আমাদের মেরে ফেলুন, তারপর ভাঙুন।”
উচ্ছেদ অভিযানকে (Mahakal Temple Eviction) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ তীব্র আক্রমণ করেন রাজ্য সরকারকে। তিনি বলেন, “তৃণমূল এতদিন মানুষ ঠকাচ্ছিল, এখন ভগবানকেও ঠকাচ্ছে। এদের সাথে যারা থাকবে, তারা জ্বলেপুড়ে মরবে। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা—মমতা ব্যানার্জির হাত যারা ধরেছে, তাদের সর্বনাশ হয়েছে। এবার মানুষ এই ভণ্ড ধার্মিকদের বিদায় দেবে।”
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা জীবেশ চক্রবর্তী বলেন, “সরকারের কাজ মন্দির-মসজিদ বানানো নয়, সরকারের কাজ স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল তৈরি করা। এসজেডিএ-র এই জমিতে প্রকল্প হওয়ার কথা ছিল। সেখানে মন্দির তৈরির নাম করে গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষ মেনে নেবে না। বিজেপি এবং তৃণমূল—দুই সরকার মিলেই ধর্মের রাজনীতি করে গরিব মারছে। অবিলম্বে এই উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে।”
উচ্ছেদ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া একচুল জমিও তারা ছাড়বেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊