সরস্বতী পুজোয় রণক্ষেত্র দিনহাটা কলেজ! তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কোন্দলে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া পুলিশের, পণ্ড উৎসব
দিনহাটা: বিদ্যার দেবীর আরাধনার দিনও অশান্তি এড়ানো গেল না কোচবিহারের দিনহাটা কলেজে। শুক্রবার সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজ ছিল কলেজ চত্বরে। কিন্তু বেলা গড়াতেই ছন্দপতন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের জেরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলেজ প্রাঙ্গণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠি উঁচিয়ে পুলিশ তেড়ে গেলে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে আসা সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়ারা প্রাণভয়ে দৌড়ে পালাতে বাধ্য হন।
সকাল থেকেই দিনহাটা কলেজে ধুমধাম করে সরস্বতী পুজো হচ্ছিল। বসন্তের আবহে বহু ছাত্র-ছাত্রী এবং স্থানীয় মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন কলেজ মাঠে। উৎসবমুখর পরিবেশেই হঠাৎ করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। নিমেষের মধ্যে তা হাতাহাতি এবং সংঘর্ষে গড়ায়। আচমকা এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মাঠে উপস্থিত দর্শনার্থীরা।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। মারামারি থামাতে এবং ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বলে অভিযোগ। পুলিশের তাড়া খেয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যায় কলেজ মাঠ। উৎসবের আনন্দ আতঙ্কে পরিণত হয়।
দিনহাটায় শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সরস্বতী পুজোর মতো পবিত্র দিনেও শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির এই কদর্য রূপ দেখে হতবাক এলাকাবাসী। সাধারণ পড়ুয়াদের প্রশ্ন, শিক্ষার চত্বরে পুজোর দিনেও কেন এমন অশান্তি? যদিও পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কলেজ চত্বরে পুলিশি টহলদারি চলছে।
কোচবিহার থেকে বাপের বাড়ি দিনহাটায় বেড়াতে আসা রত্না রায় নামে এক দর্শনার্থী জানান, তিনি প্রতি বছরই মেয়েকে নিয়ে কলেজে ঠাকুর দেখতে আসেন। এবারও এসেছিলেন আনন্দ করতে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দেখেন ডিজে বাজার স্থানে গোলমাল শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি অপ্রীতিকর হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, "পুরো সরস্বতী পুজোটা আমাদের ভেস্তে গেল। পুলিশ এসে সবাইকে বের করে দিল। প্রতি বছর যতটা মজা করি, এবার আর তা পারলাম না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল"।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊