স্কুল ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ, পুলিশি অভিযানে আটক ৪ যুবক! চাঞ্চল্য দিনহাটার বামনহাট হাইস্কুলে
দিনহাটা: স্কুলের সামনে বখাটে যুবকদের আড্ডা, বেপরোয়া বাইক চালানো এবং ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবশেষে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে দিনহাটা-২ নম্বর ব্লকের বামনহাট ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বামনহাট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বর থেকে ইভটিজিং-এর অভিযোগে চার যুবককে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্কুলের ছাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের টিফিনের সময় বা ছুটির সময় বহিরাগত কিছু যুবক এবং স্কুলেরই কিছু ছাত্র বাইক নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায়। এক ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, "স্কুলের বাউন্ডারির বাইরে বাইক নিয়ে কিছু ছেলে ঘোরাঘুরি করে। আমাদের দেখলেই নানারকম বাজে কথা বলে এবং খারাপ ইঙ্গিত করে। আমরা ভয়ে থাকি। বাড়িতে ও স্কুলেও জানিয়েছি, কিন্তু এটা রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।"
স্কুল সংলগ্ন এক দোকানদারও এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন ৪-৫ জন যুবক বাইক নিয়ে এসে তীব্র গতিতে যাতায়াত করে এবং স্কুলের সামনে আড্ডা মারে। বারণ করা সত্ত্বেও তারা শোনে না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অশোক রায় এই সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, "স্কুলের বাইরে এবং স্টেশন চত্বরে কিছু ছেলেপেলে আড্ডা মারে, এটা আমরা জানি। আমরা ছাত্রছাত্রীদের সতর্ক করি। কিন্তু বাউন্ডারির বাইরে কী হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা স্কুলের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না। তবে আমরা জিআরপি, লোকাল ক্লাব ও পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম।"
আটককৃতরা যদি স্কুলেরই ছাত্র হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "স্কুল চলাকালীন বা ১১টার সময় যদি কোনো ছাত্র বাইরে ঘুরে বেড়ায় এবং ইভটিজিং করে, তবে প্রশাসন আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের কিছু বলার নেই। তবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে টিফিনের সময় স্কুলের গেট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে যাতে কেউ বাইরে যেতে না পারে।"
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ পুলিশ সাদা পোশাক ও ভ্যানে করে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। সেই সময় ছাত্রীদের উত্যক্ত করার সময় চার যুবককে হাতেনাতে ধরা হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, আটক ওই চার যুবক নিজেদের নাবালক এবং ওই বিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী বলে দাবি করেছে।
এই ঘটনার পর অভিভাবক মহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, তারা বামনহাট স্টেশন চত্বর ও স্কুল এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহলদারির দাবি জানিয়েছেন।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊