CEC-র বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল ও ইন্ডিয়া জোট: সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের নোটিশ ঘিরে চড়ছে পারদ
নিজস্ব প্রতিবেদন, সংবাদ একলব্য: আগামী ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংঘাতের সাক্ষী হতে চলেছে ভারতীয় সংসদ। নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছাল। এবার খোদ দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব (Impeachment Motion) আনতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ বিরোধী দলগুলো।
অভিশংসন প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁর সাংবিধানিক পদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। বিরোধীদের দাবি:
- ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
- লোকসভার ১২০ জন এবং রাজ্যসভার ৬০ জন সদস্য ইতিমধ্যেই এই অভিশংসন প্রস্তাবের নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন।
- বৃহস্পতিবারই সংসদে এই নোটিশ জমা দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না
ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে কলকাতার ধর্মতলায় গত ৬ মার্চ থেকে একটানা ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ১১৪ ঘণ্টা পর গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় তিনি সেই ধর্না তুলে নেন। ধর্না তোলার কারণ হিসেবে তিনি জানান:
- সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকায় অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা তৃণমূলের আন্দোলনের এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধ: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে এবং বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা রেখে আপাতত রাজপথের লড়াই সংসদে এবং আদালতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
- তবে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, "খেলা এখনও শেষ হয়নি, খেলা চলবে সুপ্রিম কোর্টে।"
তৃণমূলের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার পাল্টা কটাক্ষ করে বলেছেন, "যাদের দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভরসা নেই, তারা পাকিস্তান বা বাংলাদেশে গিয়ে নির্বাচন লড়ুক।" অন্যদিকে, কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলো এই অভিশংসন প্রস্তাবে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে।
লোকসভার স্পিকারের অপসারণের নোটিশ নিয়ে আলোচনার পরেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অভিশংসন নিয়ে সরগরম হতে পারে সংসদ। ভারতের ইতিহাসে সিইসি-র বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল এবং এর ফলে নির্বাচন কমিশনের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জাতীয় রাজনীতি এবং রাজ্য রাজনীতির সমস্ত ব্রেকিং খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ