Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

'নেতাজিকে আর নির্বাসনে রাখবেন না! দয়া করে ওনাকে দেশে ফিরতে দিন।'- আবেগঘন আর্জি কন্যা অনিতার

৭৮ বছর পরেও ‘নির্বাসিত’ নেতাজি! চিতাভস্ম দেশে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফের আবেগঘন আর্জি কন্যা অনিতার

Netaji Subhas Chandra Bose, Anita Bose Pfaff, Netaji ashes return, Renkoji Temple Japan, Taihoku plane crash, Indian Independence, PM Narendra Modi, DNA test Netaji ashes, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, অনিতা বসু পাফ, রেনকোজি মন্দির


কলকাতা: ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস যাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ, সেই দেশনায়ক কি আজও পরাধীন? স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও কেন নিজের মাতৃভূমিতে ঠাঁই হলো না তাঁর? নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) ১২৯তম জন্মবার্ষিকীতে ফের একবার এই অস্বস্তিকর অথচ মর্মান্তিক প্রশ্নটি তুলে ধরলেন তাঁর কন্যা অনিতা বসু পাফ (Anita Bose Pfaff)। সুদূর জার্মানি থেকে তিনি আরও একবার ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানালেন— নেতাজির চিতাভস্ম অবিলম্বে ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক।

অনিতা বসু পাফ (Anita Bose Pfaff) এক ঐতিহাসিক তথ্যের উল্লেখ করে জানান, সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhas Chandra Bose) একদা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি জীবনে কোন জিনিসটিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান বা ঘৃণা করেন? উত্তরে নেতাজি বলেছিলেন, “নির্বাসনে থাকা।” ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, যে মানুষটি আজীবন দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করলেন, মৃত্যুর পরেও তাঁর নশ্বর দেহ বা চিতাভস্ম আজ ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদেশের মাটিতে ‘নির্বাসিত’ হয়ে পড়ে আছে।

অনিতা (Anita Bose Pfaff) মনে করিয়ে দেন, ১৯৪৫ সালের সেই ঘটনার পর টোকিওতে বসবাসকারী ভারতীয়দের অনুরোধে জাপানের রেনকোজি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নেতাজির (Netaji Subhas Chandra Bose) চিতাভস্ম ‘কয়েক মাসের জন্য’ সংরক্ষণ করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু সেই ‘কয়েক মাস’ আজ ৮০ বছরে পরিণত হয়েছে। অনিতার আক্ষেপ, ভারত স্বাধীন হওয়ার ৭৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও, দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানের পার্থিব অবশেষ আজও স্বদেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

অর্থনীতিবিদ অনিতা বসু পাফ (Anita Bose Pfaff) অতীতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি চান, বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। তাঁর কথায়, নরসিংহ রাও সরকারের আমলে জাপান থেকে চিতাভস্ম ফেরানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতেই তার সফল রূপায়ণ হোক। অনিতার কাতর আর্জি, ‘‘নেতাজিকে আর নির্বাসনে রাখবেন না! দয়া করে ওনাকে দেশে ফিরতে দিন।’’ তিনি চান, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদাও এবং সঠিক ধর্মীয় রীতি মেনে ভারতে তাঁর বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হোক।

নেতাজির (Netaji Subhas Chandra Bose) অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আবেগের অন্ত নেই। অনেকের বিশ্বাস, ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইওয়ানের তাইহোকু বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি। তবে অনিতা বসু পাফ মনে করেন, বিগত দিনে প্রকাশিত অন্তত ১১টি তদন্ত রিপোর্ট এবং নথিপত্র ওই বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্বকেই জোরালো করে। তিনি বলেন, “তাইপেইয়ের বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু মেনে নেওয়াই উচিত।”

বিতর্ক অবসানের জন্য রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্ম যে আদতে সুভাষচন্দ্র বসুরই, তা প্রমাণ করতে নিজের ডিএনএ (DNA) নমুনা দিয়ে সাহায্য করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন অনিতা (Anita Bose Pfaff)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code