২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫% ভারতীয় নারী একাকী জীবন কাটাবে- আর কী বলছে গবেষণা
ভারতের সামাজিক কাঠামোয় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে TOI Lifestyle-এর Love Bytes অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে। মনোবিদ ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. রচনা খান্না সিং এক গবেষণার ভিত্তিতে জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫% ভারতীয় নারী একক থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির গভীর পরিবর্তনের প্রতিফলন।
ড. সিং-এর মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ:
- আর্থিক স্বাধীনতা: নারীরা এখন আগের তুলনায় বেশি কর্মজীবী ও উপার্জনক্ষম। ফলে তাঁরা নিজের জীবনযাত্রা ও সম্পর্কের বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।
- ক্যারিয়ার অগ্রাধিকার: অনেক নারী বিবাহ বা মাতৃত্বকে পিছিয়ে রেখে পেশাগত উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছেন।
- সামাজিক চাপের হ্রাস: শহরাঞ্চলে একক জীবনধারা এখন অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। বিয়ে বা সন্তানধারণকে আর বাধ্যতামূলক সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
- ডিজিটাল যুগের সম্পর্ক জটিলতা: অনলাইন ডেটিং, ghosting, commitment phobia—এই সবই সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে, ফলে অনেকেই একক থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
Morgan Stanley-এর একটি সমীক্ষায়ও বলা হয়েছে, ২৫–৪৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫% একক ও সন্তানহীন থাকতে পারেন। এই প্রবণতা অর্থনীতিতে ‘Sheconomy’ নামে এক নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছে, যেখানে নারীর ক্রয়ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সম্ভাব্য প্রভাব:
- বিবাহের সংজ্ঞা বদলাবে: ঐতিহ্যবাহী বিবাহের ধারণা থেকে সরে গিয়ে LAT (Living Apart Together) বা সহবাসহীন সম্পর্কের দিকে ঝুঁকতে পারেন অনেকে।
- পরিবার কাঠামোয় পরিবর্তন: একক মা, সমলিঙ্গ পরিবার, বা child-free জীবনধারা আরও স্বীকৃতি পাবে।
- নীতিগত পরিবর্তন: কর্মস্থলে ফ্লেক্সিবল সময়, childcare সুবিধা, এবং gender-neutral নীতিমালা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ভারতীয় নারীদের একক থাকার প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং সমাজের গভীর রূপান্তরের প্রতিচ্ছবি। এই পরিবর্তন সম্পর্ক, বিবাহ ও পরিবার কাঠামোয় নতুন সংজ্ঞা ও বাস্তবতা নিয়ে আসবে, যা আগামী দশকে ভারতীয় সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তুলবে।
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊