দেশজুড়ে ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা সঙ্কটে: ম্যাক্স ও উত্তর ভারতে বাজাজ অ্যালিয়ানজ গ্রাহকদের ভোগান্তি
কলকাতা: দেশের স্বাস্থ্য বীমা পরিষেবায় এক বড় ধাক্কা লেগেছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় বিমা সংস্থা এবং হাসপাতালের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিমা গ্রাহকরা। ম্যাক্স হেলথকেয়ারের সমস্ত হাসপাতাল থেকে এবং উত্তর ভারতের বাজাজ অ্যালিয়ানজ জেনারেল ইনস্যুরেন্সের অধীনে থাকা হাসপাতালগুলিতে ক্যাশলেস চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ম্যাক্স হাসপাতালে বন্ধ ক্যাশলেস পরিষেবা
নিভা বুপা, স্টার হেলথ, এবং কেয়ার হেলথ ইন্সুরেন্সের মতো শীর্ষস্থানীয় বিমা সংস্থাগুলি ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে ম্যাক্স হাসপাতালের কোনো শাখায় আর ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে না। এর ফলে এই বিমা সংস্থাগুলির গ্রাহকদের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ প্রথমে নিজেদের পকেট থেকে দিতে হবে। হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথি, যেমন— ডিসচার্জ সার্টিফিকেট, বিল, প্রেসক্রিপশন, আধার ও প্যান কার্ড ইত্যাদি জমা দিলে পরে সেই টাকা রিইম্বার্স করা হবে।
বাজাজ অ্যালিয়ানজ এবং উত্তর ভারতের হাসপাতালগুলির মধ্যে বিবাদ অন্যদিকে, বাজাজ অ্যালিয়ানজ জেনারেল ইনস্যুরেন্সের পলিসি হোল্ডাররাও বড় সমস্যার মুখে পড়েছেন। অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথকেয়ার প্রোভাইডারস-ইন্ডিয়া (AHPI)-এর নির্দেশে ১ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তর ভারতের বেশ কিছু হাসপাতাল বাজাজ অ্যালিয়ানজের গ্রাহকদের জন্য ক্যাশলেস সুবিধা বন্ধ করে দিচ্ছে। AHPI-এর এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো হাসপাতালগুলির দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। তাদের অভিযোগ, বাজাজ অ্যালিয়ানজ কম রিইম্বার্সমেন্ট রেট দিচ্ছে, বিলের টাকা দিতে দেরি করছে এবং প্রি-অথরাইজেশন ও ডিসচার্জ রিপোর্টেও অযথা সময় নিচ্ছে।
কেন এই সঙ্কট?
AHPI, যা দেশের ১৫,০০০-এর বেশি হাসপাতালের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে চিকিৎসা খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মীদের বেতন, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য খরচ বছরে প্রায় ৭-৮% হারে বাড়ছে। অথচ, বাজাজ অ্যালিয়ানজ তাদের রিইম্বার্সমেন্ট রেট বাড়াতে রাজি নয়, বরং ক্ষেত্র বিশেষে তা কমানোর কথা বলছে। হাসপাতালগুলির বক্তব্য, এই পুরনো এবং কম হারে পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে অসম্ভব। AHPI-এর ডিরেক্টর জেনারেল ডঃ গিরধর জ্ঞানী জানিয়েছেন, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে চিকিৎসার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই পরিস্থিতিতে বিমা গ্রাহকরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বিশেষত জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে, যখন দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তখন নগদ টাকা জোগাড় করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এই দুই বড় ঘটনার জেরে দেশের স্বাস্থ্য বীমা ক্ষেত্র এবং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার চূড়ান্ত মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊