'সরকারের অনুমতি ছাড়া ভিনধর্মে জমি বিক্রি করা যাবে না' - অসমে হিমন্ত সরকারের নয়া নির্দেশ
গুয়াহাটি: অসমে এবার জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত নতুন এবং কঠোর নিয়ম চালু করলো হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকার। সম্প্রতি রাজ্যের ভূমি এবং রাজস্ব দফতর একটি নির্দেশ জারি করে জানিয়েছে যে, এখন থেকে চা বাগান, সত্র বা মঠ এবং জনজাতিদের জমি সরকারের অনুমতি ছাড়া ভিনধর্মে বিক্রি করা যাবে না। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো, রাজ্যের ভূমি-সম্পদকে সুরক্ষিত করা এবং বেআইনিভাবে জমি হস্তান্তর বন্ধ করা।
কী আছে এই নতুন নির্দেশে?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার জমি বিক্রির ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে।
* চা বাগান: চা বাগান হিসেবে চিহ্নিত জমি যা এখনও টি প্ল্যান্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা যাবে না। জমি বিক্রি করতে হলে তা কেবল চা বাগানের উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হবে, এই মর্মে সরকারের থেকে অনুমতি নিতে হবে।
* সত্র ও মঠের জমি: সত্র বা মঠের নামে থাকা জমিগুলি শুধু সেই ধর্মাবলম্বীদের কাছেই বিক্রি করা যাবে। কোনো ভিনধর্মের ব্যক্তির কাছে এই জমি বিক্রি করতে হলে ভূমি ও রাজস্ব বিভাগের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক।
* জনজাতিদের জমি: জনজাতি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জমি এখন থেকে শুধু জনজাতিদের কাছেই বিক্রি করা যাবে। এই ধরনের জমি কোনো অ-জনজাতি ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতে হলে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হবে।
এই নিয়ম শুধু জমি বিক্রির ক্ষেত্রেই নয়, লিজ বা অন্য কোনো ধরনের হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
সরকারের উদ্দেশ্য
রাজ্য সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, অসমের সাংস্কৃতিক এবং আর্থসামাজিক কাঠামোকে রক্ষা করা। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা একাধিকবার বলেছেন যে, কিছু অসাধু চক্র রাজ্যের নির্দিষ্ট এলাকার জমিগুলি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের জনজাতি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি ক্ষতির শিকার হচ্ছে, তেমনই রাজ্যের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যও হুমকির মুখে পড়ছে। এই নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে সরকার সেই অপচেষ্টা রোধ করতে চায়।
প্রতিক্রিয়া
সরকারের এই নতুন নির্দেশের পর বিভিন্ন মহল থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসছে। রাজ্যের কিছু জনজাতি সংগঠন এবং ধর্মীয় নেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই নিয়ম রাজ্যের ভূমিপুত্রদের অধিকার রক্ষা করবে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে বিভেদমূলক এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে তার ধর্ম পরিচয়ের ভিত্তিতে সম্পত্তি হস্তান্তর থেকে বিরত রাখা সংবিধানের পরিপন্থী। বিরোধীরা এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।
সামগ্রিকভাবে, অসমে এই নতুন ভূমি আইন একটি বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। এই আইন রাজ্যের ভূমি-সম্পদ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে কতটা সফল হয়, তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে।
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊