জম্মু ও কাশ্মীরের সোনমার্গ টানেলের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরে জি-মোর টানেলের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গাদকারি, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা-সহ অন্যান্যরা। এদিন জি-মোর টানেল উদ্বোধনের পরে ভিতরে ঢুকে সেটি পরিদর্শনও করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রুটম্যাপ, নির্মাণকাজ নিয়েও জানতে চান। এছাড়া নির্মাণকারী সংস্থার আধিকারিক এবং নির্মাণকাজে যুক্ত থাকা কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন মোদি। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
জোজিলা টানেল প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশই হল জি-মোর টানেল। শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কে প্রায় সাড়ে ৬ কিমি দীর্ঘ এই জি-মোর টানেল তৈরি করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,৬৫০ ফুট উচ্চতায় সম্পন্ন হয়েছে এই নির্মাণকাজ। ২০১৫ সালে শুরু হয়েছিল টানেলের কাজ। কাশ্মীরের গান্ধেরবালের গগনগীর এবং সোনমার্গকে যুক্ত করেছে দু’লেনের এই দ্বিমুখী টানেল। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২,৭০০ কোটি টাকা। এই টানেল জম্মু ও কাশ্মীরের অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভৌগলিক অবস্থানগত দিক থেকেও এই টানেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জানা যাচ্ছে, এই টানেলটি লাদাখকে কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে সংযুক্ত করল। এছাড়া এবার থেকে সোনমার্গও সারা বছরই পর্যটকদের জন্য খোলা থাকবে। আশা করা হচ্ছে আগামী ২০২৮ সালের মধ্যেই জোজিলা টানেল প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হবে। তার ফলে ভারী তুষারপাতের মধ্যেও সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে কার্গিল, লেহর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে।
মোদী বলেন, “সমস্যা সত্ত্বেও আমাদের সংকল্প কখনো টাল খায়নি”। তিনি শ্রমিকদের সংকল্প এবং দায়বদ্ধতার জন্য এবং কাজ সম্পূর্ণ করতে সবরকম বাধার মোকাবিলা করার জন্য প্রশংসা করেন। তিনি সাত জন শ্রমিকের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন।
সুন্দর তুষারাচ্ছাদিত পাহাড় এবং মনোরম আবহাওয়ার প্রশংসা করে মোদী বলেন, সোশাল মিডিয়ায় সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক ছবিগুলি দেখার পর তাঁর জম্মু ও কাশ্মীরে আসার আগ্রহ বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর আগেকার দিনের কথা বলেন, যখন তিনি প্রায়ই দলের হয়ে কাজ করার সময়ে এই অঞ্চলে আসতেন। তিনি সোনমার্গ, গুলমার্গ, গান্দেরবাল এবং বারামুলার মতো এলাকায় অনেকটা সময় কাটানোর কথা বলেন, যেখানে কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা পায়ে হেঁটে তাঁকে অনেক কিলোমিটার যেতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রবল তুষারপাত সত্ত্বেও জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ তাঁদের উষ্ণতা দিয়ে সেই শীতকে অনুভব করতে দেননি।
আজকের দিনটি বিশেষ দিন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে উৎসবের পরিবেশ। তিনি প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভের সূচনার বিষয়ে বলেন, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ পুণ্যস্নানের জন্য জড়ো হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পাঞ্জাব এবং উত্তরভারতের অন্যান্য অংশে লোহড়ি উৎসবের যেমন উল্লেখ করেন, তেমনই উল্লেখ করেন উত্তরায়ণ, মকর সংক্রান্তি এবং পোঙ্গলের মতো উৎসবের। তিনি শুভেচ্ছা জানান এই উৎসব উদযাপনকারী প্রত্যেককে। প্রধানমন্ত্রী উপত্যকার ৪০ দিনের চিল্লাইকালান সমস্যার কথা বলেন এবং মানুষের সহ্যশক্তির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই সময়টি নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে পর্যটন গন্তব্যের জন্য যেমন সোনমার্গ, সারা দেশের বহু মানুষ সেখানে গেছেন, কাশ্মীরের মানুষের আতিথেয়তা বরণ করার জন্য।
জম্মু ও কাশ্মীরের যুবাদের জন্য নতুন সুযোগ সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, জম্মু এবং অবন্তিপোরায় এইমস তৈরির কাজ দ্রুত এগোচ্ছে, ফলে চিকিৎসার জন্য দেশের অন্য জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জম্মুর আইআইটি, আইআইএম এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অসাধারণ শিক্ষাদান করছে। তিনি স্থানীয় শিল্পী, কারু শিল্পীদের ভূমিকার উপর জোর দেন, যাঁরা পিএম বিশ্বকর্মা কর্মসূচি এবং জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের অন্যান্য উদ্যোগের সুযোগ পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পকে আকর্ষণ করতে লাগাতার প্রয়াস করা হচ্ছে। প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে যুব সমাজের জন্য কয়েক হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীর ব্যাঙ্কের উন্নত পরিষেবার প্রশংসা করেন, যাঁদের ব্যবসা গত চার বছরে ১.৬ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২.৩ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাঙ্কের ক্ষমতা বাড়ায় যুব সমাজ, কৃষক, ফুল চাষী, দোকানদার এবং উদ্যোগপতিরা ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in




0 মন্তব্যসমূহ