অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত নিজেই জানালেন নওশাদ, দরকার দলীয় অনুমতি 

Naushad


কুলপি:-

ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোট ময়দানের লড়াইয়ের প্রস্তাব বারবার জানিয়েছে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। নওশাদ সিদ্দিকীর বারবার এহেন মন্তব্যে সরগরম হয়ে ওঠে বাংলার রাজনীতি। সম্প্রতি প্রথম পর্যায়ে আই এস এফ এর পক্ষ থেকে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে । সেই প্রার্থী তালিকায় নেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের নাম কিংবা ভাঙড়ে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর নাম। এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশ নওশাদ সিদ্দিকীকে তির্যকপূর্ণ মন্তব্য করতে ছাড়েনি। অনেকের নওশাদ সিদ্দিকীকে ভীতু বলে আখ্যা দিয়েছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে নওশাদ সিদ্দিকী দাঁড়ালে গো হারান হারবে এমনটাই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সমস্ত জল্পনার ইতি টানলো না নওশাদ সিদ্দিকী। 



বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের আইএসএফের প্রার্থী অধ্যাপক অজয় কুমার দাসের সমর্থনে কুলপির আই এস এফের দলীয় কার্যালয়ে কর্মী বৈঠক করলেন ভাঙড়ে বিধায়ক তথা আইএসএফের সভাপতি নওশাদ সিদ্দিকী। নওশাদ সিদ্দিকী বলেন ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই। প্রথম দিন থেকেই আমি এই কথা বলে আসছি এখনো পর্যন্ত আমি এই কথাই বলবো। জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না। শুধু কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকে অনুমতি পেলেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে আইএসএফের হয়ে লড়াই করব। আমি ভীতু নই আর আমি মরার ভয় পাই না। আমাদের দলের দ্বিতীয় পর্যায়ে যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হবে সেই প্রার্থী তালিকায় চোখ রাখুন। 



তিনি আরও বলেন, ডায়মন্ড হারবার নিয়ে আমাদের দলের রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে একাধিক মতামত উঠেছে। আমি কিন্তু আমার মানসিকভাবে ১০০ শতাংশ প্রস্তুত লড়াই করার জন্য। আইএস এফের জন্যই নওশাদ সিদ্দিকী। নওশাদ সিদ্দিকীর জন্য আইএসএফ নয়। রাজ্য কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শওকত মোল্লার একের পর এক দায়িত্ব পাচ্ছে। তৃণমূলের ভরসায় এখন শওকত মোল্লা। এই বিষয়ে নওশাদ সিদ্দিকীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যাকে বলেছিল যে তুই বোম বাঁধিস তার বিশ্বস্ত সৈনিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন সওকাত মোল্লা। যাকে ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন ক্রিমিনাল বলে আখ্যা দিয়েছে সেই ব্যক্তি যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন তাহলে আর কি বলা যাবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার বলেছে লোকসভা নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক হিংসা হবে না গণতন্ত্রের রক্ষা করার লড়াই। শওকত মোল্লার ওপর যদি দায়িত্ব থাকে তাহলে তিনি গণতন্ত্র রক্ষা করবে নাকি গণতন্ত্রকে বিপন্ন করবে সেটা বলা যাবে না। যেভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থীদের কে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি সেভাবেই কি লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীদেরকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেবেনা নাকি বিভিন্ন বুথ গুলোকে দখল করে ছাপ্পা দেবে। আইএসএফ লড়াইয়ের ময়দান থেকে পালাবে না চোখে চোখ রেখে লড়াই করবে আইএসএফ। এই কর্মী বৈঠকে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জল্পনা আবারও দিয়ে রাখলো নওশাদ সিদ্দিকী।