Breaking

Saturday, October 09, 2021

তৃণমূল নেতার খুনের দুবছর কেটে গেলেও ন্যায় বিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রী কাছে কাতর আবেদন নিহত কুরবান শা এর পরিবারের

তৃণমূল নেতার খুনের দুবছর কেটে গেলেও ন্যায় বিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রী কাছে কাতর আবেদন নিহত কুরবান শা এর পরিবারের


কুরবান শা



পাঁশকুড়া,সুজিত মণ্ডল


দুর্গা পুজায় যখন বাঙালিরা উৎসব মুখী, তখন শোকাচ্ছন্ন গোটা পাঁশকুড়া এলাকা বাসী। কারন তাদের প্রিয় নেতাকে দুষ্কৃতির হাতে খুন হতে হয়েছিল সেদিন।




দিনটা ছিল ২০১৯ সালের ৭ ই অক্টোবর , দুর্গাপুজোর নবমীর রাত। সেদিনেই দুষ্কৃতীদের হাতে নিজের দলীয় কার্যালয়ে খুন হতে হয়েছিল পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তথা পাঁশকুড়া তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি কুরবান আলি শা।



এক ছেলে এক মেয়েকে ও স্ত্রী কে নিয়ে তাঁর ছোট্ট পরিবার। সারাদিনের পনেরো ঘণ্টা দলের কাজে সময় দিতেন। স্ত্রী সায়েদা সাবেনা বানু খাতুন দলের কাজে ব্যস্ত থাকত ।তিনি ওই এলাকার অঞ্চল প্রধান। মৃত্যুর দুবছর কেটে গেলেও এখনও ন্যায় বিচার পেলো না কুরবানের পরিবার। এই কেশের মূল অভিযুক্ত আনিসুর রহমান এখনও জেলবন্দী। আজ তাঁর দ্বীতিয় বার্ষিক স্মরণ সভা, কিন্তু সেই সভায় এলাকার কোনো বড় নেতৃত্বকে আসতে দেখা গেল না।



মৃত কুরবান আলি শার দাদা আফজল আলি শা। কুরবান হত্যা মামলায় তাঁর দাদা আফজল শা বলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ আমার ভাই কুরবান শার মৃত্যুর ন্যায় বিচার যেন পাই, কারন আমার ভাই রাজনৈতিক দলে কাজ করার জন্য মৃত্যুর মুখে ঢোলে পড়েছে। দোষীদের যেন কঠোর শাস্তি হয়। আমরা অসহায় বোধ করছি। পরবর্তী পরিকল্পনা হিসেবে বলেন সুপ্রিম কোর্ট যা রায় দেবে তা মেনে নেব, তবে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ভরসা রয়েছে আমাদের। আশা করি বিচার পাবো তাঁর। তবে সবসময় আতঙ্কে রয়েছি আমারও, প্রাননাশ হতে পারে যে কোনো মূহুর্তে। আজকের দিনে মৃত্যু হয়েছিল আমার ভাইয়ের। তাঁর উদ্দেশ্যে আজ রক্তদান শিবির ও স্মরণ সভা চলছে মাইশোরা তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে।



কুরবান হত্যার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন তাঁর স্ত্রী সায়েদা সাবেনা বানু খাতুন ,বলেন দুবছর কেটে গেলেও আমার স্বামীর মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো হয়নি ।অপরাধীরা বহাল তবিয়তে ঘুরছে, পুলিশ এখনও পর্যন্ত খুনের কিনারা করতে পারেনি। কোর্টের ভেতরে আমায় মারধর করা হয় বার বার হেনস্তার স্বীকার হচ্ছি ।তাই সুপ্রীম কোর্টে গিয়েছি যাতে আমার স্বামীর ন্যায় বিচার পাই। ওরা বলতে পারত আমার স্বামীকে পদ থেকে সরে যেতে, সরে যেত সে, হিংসা থাকলে হাত পা ভাঙ্গতে পারত, তা বলে প্রানে মেরে ফেলল ওরা। ছোটো বাচ্চাদের নিয়ে একা থাকতে হয়।



এদিন যেহেতু দলীয় কার্যালয়ে রক্ত ঝরেছিল এলাকার জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা নিহত কুরবান শা। তাই এলাকার মানুষ এবং যাঁরা কুরবান শার অনুগামী তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে দ্বীতিয় বার্ষিক স্মরনসভায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করল।



এদিন প্রায় ৭০ জন মতো রক্তাদাতা রক্ত দেন। এমনকি দুঃস্থদের হাতে নতুন বস্ত্রও তুলে দেওয়া হয়, তুলে দেন কুরবানের দাদা আফজল আলি শা, এবং পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি শেখ হানিফ মহম্মদ।

No comments:

Post a Comment

পৃষ্ঠা