ডিএ মামলায় নয়া মোড়: বকেয়া মেটাতে তৈরি হচ্ছে নতুন পোর্টাল, আপলোড করতে হবে সার্ভিস বুক! সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি রাজ্যের
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) বা ডিএ মামলায় ফের নতুন চমক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির কাছে রাজ্যের পেশ করা রিপোর্ট এবং মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়াকে মসৃণ করতে রাজ্য সরকার একটি নতুন ডিজিটাল পোর্টাল তৈরি করতে চলেছে, যেখানে সমস্ত যোগ্য কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের নিজেদের 'সার্ভিস বুক' স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
বকেয়া ডিএ-র সময়কাল দু'ভাগে বিভক্ত
বকেয়া ডিএ-র হিসাবের সুবিধার্থে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়কালকে রাজ্য সরকার দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে:
- ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫: এই সময়ের বেতন ও ভাতার তথ্য কর্মীদের সার্ভিস বুকে ম্যানুয়ালি (হাতে লেখা) রয়েছে। ২০১৬ সালের আগে রাজ্যের স্যালারি সিস্টেম পুরোপুরি কম্পিউটারাইজড ছিল না। তাই এই সময়ের বকেয়া ডিএ হিসাব করার জন্যই মূলত নতুন পোর্টালটির প্রয়োজন।
- ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ২০১৯: ২০১৬ সাল থেকে স্যালারি সিস্টেম অনলাইনে চলে আসায় এই সময়ের বকেয়া হিসাব করতে সরকারের খুব একটা সমস্যা হবে না।
কী করতে হবে নতুন পোর্টালে?
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ের তথ্য ডিজিটাইজ করার জন্য একটি ইমেল-ভিত্তিক (Email-based) পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। এমপ্লয়ি এবং পেনশনারদের এই পোর্টালে লগ-ইন করে (ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে) নিজেদের সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। পাশাপাশি, বেসিক পে (Basic Pay) সহ কিছু নির্দিষ্ট তথ্য পোর্টালে ইনপুট হিসেবে দিতে হবে। ৭ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে পোর্টালটি রেডি করে এবং ১৪ মার্চের মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গোটা বিষয়টি কর্মীদের জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রুপ-ডি কর্মীদের বকেয়াও কি প্রভিডেন্ট ফান্ডে?
সুপ্রিম কোর্টের কমিটি ৫,৭৭৯ জন গ্রুপ-ডি কর্মীকে তাঁদের বকেয়া ডিএ নগদে (Cash) দেওয়ার সুপারিশ করেছিল, কারণ তাঁদের বেতনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু রাজ্য সরকার আবেদনে জানিয়েছে যে, তারা গ্রুপ-ডি কর্মীদের বকেয়া টাকাও প্রভিডেন্ট ফান্ডে (PF) দিতে চায়। স্বাভাবিকভাবেই, অন্যান্য গ্রুপ (A, B, C) কর্মীদের টাকাও প্রভিডেন্ট ফান্ডেই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি রাজ্যের
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশের ওপর রাজ্য সরকার একটি মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন (Modification Application) জমা দিয়েছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন এবং গত ৫ ফেব্রুয়ারি পেশ হওয়া 'ভোট অন অ্যাকাউন্ট' বাজেটে বকেয়া মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকার যুক্তি দেখিয়ে রাজ্য সরকার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে।
সুপ্রিম কোর্ট এর আগে অবিলম্বে ২৫ শতাংশ বকেয়া এবং বাকি ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্য সরকার এই ২৫ শতাংশ বকেয়া এবং প্রথম কিস্তির টাকা মেটানোর জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় চেয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের এই সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি মঞ্জুর করে কি না, সেটাই দেখার।
আপাতত রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনারদের নজর ওই নতুন পোর্টালের দিকে। পোর্টাল চালু হলে কীভাবে সার্ভিস বুক আপলোড করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছেন সকলে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ও ডিএ মামলার সমস্ত আপডেট পেতে চোখ রাখুন: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ