বকেয়া ডিএ মামলা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত কমিটির রিপোর্ট কি জমা পড়ল? উত্তরের খোঁজে নয়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) বা ডিএ মামলার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ডিএ মামলার শুনানিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে এই কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই কমিটির রিপোর্ট ইতিমধ্যে জমা পড়েছে কি না বা সেই রিপোর্টে বকেয়া মেটানোর কী রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি। অন্ধকারে থাকা রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এবার তাই সরাসরি তথ্য জানার অধিকার আইন বা আরটিআই (RTI)-এর দ্বারস্থ হলেন।
RTI-এর মূল বিষয়বস্তু কী?
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন এবং ইউনিটি ফোরামের পক্ষ থেকে দায়ের করা এই আরটিআই-তে মূলত পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে:
- প্রথমত: সুপ্রিম কোর্টের ৫ মে এবং পরবর্তী নির্দেশিকাগুলি মেনে চলার জন্য রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?
- দ্বিতীয়ত: ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Arrears of Dearness Allowance) মেটানোর যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকর করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
- তৃতীয়ত: গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ (SLP C No. 20686 of 2022) অনুযায়ী যে কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল, তা কি গঠিত হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তবে সেই কমিটি কি রাজ্য সরকারের কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে?
- চতুর্থত: কমিটির জমা দেওয়া রিপোর্টে কি ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট 'পেমেন্ট শিডিউল' (Schedule of Payment) বা সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
- পঞ্চমত: যদি পেমেন্ট শিডিউল তৈরি হয়ে থাকে, তবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মেটানোর জন্য সেই শিডিউলের প্রতিলিপি বা বিস্তারিত তথ্য অবিলম্বে প্রদান করতে হবে।
আইনজীবী করুণা নন্দীর পরামর্শে পরবর্তী পদক্ষেপ
সূত্রের খবর, ইউনিটি ফোরামের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করা বিশিষ্ট আইনজীবী করুণা নন্দীর (Karuna Nundy) সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তিতেই এই আরটিআই-এর বয়ানটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টে সময় নষ্ট করার কৌশল হিসেবেই রাজ্য সরকার বারবার টালবাহানা করছে। এখন আরটিআই-এর জবাবে রাজ্য সরকার কী উত্তর দেয় বা আদৌ কোনো সন্তোষজনক তথ্য প্রকাশ করে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সরকারি কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী কমিটি গঠনের পর বকেয়া মেটানোর একটা আশা তৈরি হলেও, প্রশাসনের নীরবতা সেই আশাকে ক্রমশ উদ্বেগে পরিণত করছে। আরটিআই-এর জবাব এলে আগামী দিনগুলোতে ডিএ মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারী।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ