কলকাতা, সংবাদ একলব্য: আগামী ৪ মে, সোমবার রাজ্যজুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলপ্রকাশ। আর এই ভোটগণনার দিন রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণার দাবিতে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ। রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কায় ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ছুটির দাবি তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-এর তরফ থেকে স্কুল ছুটির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও, রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের নীরবতা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
কেন ছুটির দাবি তুলছেন শিক্ষকরা?
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন শিক্ষক গ্রুপে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো ৪ তারিখের স্কুল খোলা রাখার যৌক্তিকতা। শিক্ষকদের মূল বক্তব্য হলো, সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে এবং বেলা ১১টার মধ্যেই অনেক আসনের জয়-পরাজয়ের ট্রেন্ড বা চূড়ান্ত চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে। ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিজয় মিছিল বা সাময়িক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দুপুরবেলা বা বিকেলে স্কুল ছুটি হলে ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের বাড়ি ফেরার পথে চরম ভোগান্তি বা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পাহাড় এবং জেলার ভিন্ন চিত্র
রাজ্য সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও, পাহাড়ে কিন্তু ইতিমধ্যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জিটিএ (GTA), দার্জিলিং-এর ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টর অফ স্কুলস (D.I.) একটি সরকারি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন যে, ভোটগণনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আগামী ৪ মে সোমবার জিটিএ-র আওতাধীন সমস্ত বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।
অন্যদিকে, মেদিনীপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। উত্তেজনার পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে ফলাফলের দিন অর্থাৎ ৪ মে স্কুলগুলিকে মর্নিং সেশনে (সকালের শিফটে) চালানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে বেলা বাড়ার আগেই পড়ুয়ারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।
শিক্ষা দপ্তরের নীরবতায় বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ
পাহাড়ের স্কুলগুলোতে ছুটি ঘোষণা এবং মেদিনীপুরে শিফট বদলের খবর সামনে আসার পর রাজ্যের অন্যান্য জেলার শিক্ষকদের মধ্যেও ছুটির দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর বা বিকাশ ভবনের তরফ থেকে ভোটগণনার দিন স্কুল বন্ধ রাখা বা মর্নিং শিফটে চালানোর বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। শিক্ষা দপ্তরের এই নীরবতায় শিক্ষক মহলে যেমন ক্ষোভ বাড়ছে, তেমনই উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যেও। এখন দেখার বিষয়, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী রবিবারের মধ্যে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর পড়ুয়াদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কি না।
শিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি এবং স্কুল সংক্রান্ত লেটেস্ট খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ