নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলাফল ঘোষণা। ওই বিশেষ দিনটিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জোরালো দাবি জানাল শিক্ষক মহল। এই মর্মে শনিবার, ২ মে 'অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' (APGTWA) এবং 'বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন' (BGTA)-এর পক্ষ থেকে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের সচিব এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিইও (CEO)-কে লিখিত আবেদন ও ইমেল পাঠানো হয়েছে।
APGTWA-এর আবেদন ও জননিরাপত্তার উদ্বেগ
'অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' (APGTWA)-এর পক্ষ থেকে শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে, যার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরেও। আবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে একটি সংবেদনশীল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে গণনাকেন্দ্রগুলির সংলগ্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং রাজনৈতিক দলগুলির বিজয় মিছিলের কারণে সাধারণ জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো ওই আবেদনে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে:
- গণনাকেন্দ্র ও তৎসংলগ্ন রাস্তায় রাজনৈতিক জমায়েতের কারণে গণপরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
- ফলাফল পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষত ছাত্রী এবং মহিলা শিক্ষাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
- বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা নিজ জেলার সীমানা পেরিয়ে দূরবর্তী প্রান্তের বিদ্যালয়ে কর্মরত। যানচলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকলে তাঁদের পক্ষে কর্মস্থলে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
APGTWA-এর পক্ষে সম্পাদক চন্দন গড়াই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, এই উৎসবমুখর বা উত্তেজনাকর আবহে ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওইদিন সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা。
BGTA-এর ইমেল বার্তা
অন্যদিকে, একই দিনে 'রানাঘাট ওবিআর বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন' (BGTA)-এর রাজ্য সভাপতি ধ্রুব পদ ঘোষালও স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব এবং নির্বাচন কমিশনের সিইও-কে একটি ইমেল মারফত ৪ মে 'বিশেষ ছুটি' (Special Holiday) ঘোষণার আবেদন জানিয়েছেন।
BGTA তাদের ইমেলে রাজ্যের অতীত ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, বাংলায় নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর বিজয় মিছিল এবং ভোট পরবর্তী হিংসা (Post-poll violence) একটি সাধারণ প্রবণতা। এই পরিস্থিতিতে ৪ মে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং যানজট সৃষ্টি হতে পারে। স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এবং শিক্ষকরা এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক সংগঠনগুলির এই যৌক্তিক আবেদনটি ইতিবাচকভাবেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নবান্ন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা ও সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার, জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার এই জোড়া আবেদনকে মান্যতা দিয়ে রাজ্য সরকার পড়ুয়া ও শিক্ষকদের সুরক্ষায় আগামী ৪ মে ছুটি সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে কি না।
শিক্ষা দপ্তরের সমস্ত নির্দেশিকা ও লেটেস্ট খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ