Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

সত্যিই কি বড় বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গ? ২৪ ঘণ্টায় ২৩ বার ভূকম্পন, জেনে নিন বিস্তারিত

২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ২৩টি ভূকম্পন, বড় বিপদের আশঙ্কা কি?

Sikkim earthquake, North Bengal tremors, Darjeeling earthquake update, 23 earthquakes in 24 hours, Seismic Zone V India, National Center for Seismology, Earthquake safety, উত্তরবঙ্গে ভূমিকম্প, ভূকম্পন সতর্কতা


সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বারবার কম্পন অনুভূত হচ্ছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই অঞ্চল এবং সংলগ্ন নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশে মোট ২৩ বার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নানা জল্পনা ও আতঙ্ক তৈরি হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে অকারণে ভয় না পেয়ে এই মুহূর্তে সঠিক সতর্কতা অবলম্বন করাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। 


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে সিকিমের মাঙ্গান, গ্যালশিং, নামচি এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং সহ বেশ কিছু এলাকায় এই কম্পনগুলি বারবার অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এদের মাত্রা ছিল মূলত ২.০ থেকে ৪.৬-এর মধ্যে। আজ সকালেও সিকিম ও দার্জিলিং সংলগ্ন অঞ্চলে ৩.৪ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। বারবার একই অঞ্চলে এমন ছোট থেকে মাঝারি কম্পন বা 'আর্থকোয়াক সোয়ার্ম' (Earthquake Swarm) স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকদের মনে স্বভাবতই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো তথ্যে অনেকের মধ্যেই একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ভূমিকম্পের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে এই অঞ্চলগুলিকে হয়তো পাঁচ বা ছয় নম্বর সিসমিক জোনে (Seismic Zone) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিক তথ্যের খাতিরে একটু সংশোধন করে নেওয়া ভালো, ভারতের ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) অনুযায়ী দেশে সর্বোচ্চ সিসমিক জোন হলো 'ফাইভ' (Zone V)। ভারতবর্ষে ৬ নম্বর জোন বলে বৈজ্ঞানিকভাবে কিছু নেই।


তবে এটিও সত্যি যে, সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও বিস্তীর্ণ এলাকা সিসমিক জোন ফোর (IV) এবং ফাইভ (V)-এর অন্তর্গত। অর্থাৎ, ভূতাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলগুলি বরাবরই অতি-মাত্রায় ভূমিকম্পপ্রবণ।


অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, এই ছোট ছোট ভূকম্পনগুলি কি সম্ভাব্য বড় কোনো বিপদের পূর্বাভাস? ভূ-তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর দুটি দিক রয়েছে- 

প্রথমত, টেকটনিক প্লেটের চলনের ফলে মাটির নিচে যে বিপুল শক্তি জমা হয়, তা এই ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মুক্ত হয়ে যায়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই হঠাৎ করে আসা একটি প্রলয়ংকারী বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশ কিছুটা কমে যায়। 

দ্বিতীয়ত, হিমালয়ের পাদদেশের এই অঞ্চলটি ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায়, এখানে বড় ভূমিকম্পের ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি সব সময়ই থেকে যায়। ছোট কম্পনগুলো বড় বিপদের নিশ্চিত অ্যালার্ম না হলেও, এলাকাটির ভূতাত্ত্বিক সংবেদনশীলতা বারবার প্রমাণ করে।

এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গে বা পাহাড়ের দিকে ঘুরতে যাওয়া পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অকারণে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। এর বদলে মানসিক প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ। ভূমিকম্প অনুভূত হলে লিফট ব্যবহার না করা, দ্রুত খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসা, গুজব থেকে দূরে থাকা এবং প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশিকা মেনে চলাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

সাংবাদিকের ছবি

Sangbad Ekalavya Digital Desk 

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।। 

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code