মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, ঘোষণা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চরমে তুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এক যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি এবং সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এই অভাবনীয় ঘটনার পর ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই ভয়াবহ হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন। খামেনির এই মৃত্যু ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এবং সমগ্র অঞ্চলে চরম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিদের একজন খামেনি এখন মারা গেছেন।" ইরানের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণকে সম্পূর্ণ ন্যায্য বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাহত করতে এই ধরনের সামরিক অভিযান সপ্তাহজুড়েই অব্যাহত থাকবে।
খামেনির মৃত্যুর খবরে যখন সরকার শোক পালন করছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে। খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের অনেক জায়গা থেকে সাধারণ মানুষের আনন্দ উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই এটিকে একটি 'নতুন সূচনার লক্ষণ' হিসেবে দেখছেন। প্রখ্যাত ইরানি অধিকারকর্মী ও সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদ রাস্তায় মানুষের উদযাপনের একটি ভিডিও শেয়ার করে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, "আমি কি স্বপ্ন দেখছি? হ্যালো, নতুন পৃথিবী।" তিনি আরও বলেন, "প্রতিদিন সকালে আমি পড়ি যে আলী খামেনির হাতে আমার জনগণ নিহত হচ্ছে, কিন্তু আজ সকালে পাওয়া এই খবর আমার জীবনের সেরা খবর। আমি কেবল দৌড়াতে এবং আনন্দে চিৎকার করতে চাই।"
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে টানা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে আসীন ছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের নেতা এবং প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশের আধ্যাত্মিক নেতা হওয়ার পাশাপাশি সরকার, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের ওপর তাঁর একচ্ছত্র ও চূড়ান্ত আধিপত্য ছিল।
গত কয়েক মাস ধরে চলা ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার চূড়ান্ত পরিণতি এই হামলা। ইসরায়েল দাবি করেছে যে, এই যৌথ হামলায় ইতিমধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীকেও হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান সম্প্রতি উচ্চমানের সেন্ট্রিফিউজ তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য অত্যাবশ্যক।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান কড়া প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক জবাব দেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊