Assembly Election 2026: বকেয়া মেটাতে রাজ্যকে চাপ কমিশনের
কলকাতা: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে (Assembly Election 2026) অবাধ ও সুষ্ঠু করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। একদিকে যেমন ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) কাজের পরিধি বাড়ানো হলো, তেমনই অন্যদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার (SIR) সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বকেয়া পারিশ্রমিক দ্রুত মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়াল সিইও দপ্তর।
নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পরিবর্তে বিএলও (BLO)-দেরই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ বিলি করতে হবে। সিইও দপ্তর সূত্রে খবর, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী এটি বিএলও-দেরই কাজ। কিন্তু গত প্রায় দেড়-দু’দশক ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই নিয়ম মানা হচ্ছিল না। সাধারণত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরাই এই দায়িত্ব পালন করতেন। কমিশনের আশঙ্কা, এর ফলে ভোটারদের প্রভাবিত করার সুযোগ থাকে। তাই ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রাখতে এবার বিএলও-দের দিয়ে এই কাজ করানো বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। SIR প্রক্রিয়ার শেষে এই নতুন নির্দেশে বিএলও-দের কাজের চাপ আরও বাড়ল।
ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR-এর সঙ্গে যুক্ত কর্মী, বিশেষত বিএলও, ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং এইআরও-দের (Assistant Electoral Registration Officer) অনেকেরই ভাতা বা পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে। এই নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের খবর প্রকাশ্যে আসছিল। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া চিঠি দিয়েছে সিইও দপ্তর।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সদ্য পেশ হওয়া রাজ্য বাজেটে একাধিক জনমোহিনী ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বকেয়া মেটানোর জন্য কমিশনের এই চিঠি আসলে রাজ্যের ওপর প্রশাসনিক চাপ বাড়ানোরই কৌশল।
ভোটার তালিকা স্বচ্ছ রাখতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এবার থেকে যাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁদের শুধু বাদ দেওয়ার খবর দিলেই হবে না, ঠিক কী কারণে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হলো, তা নির্দিষ্ট করে চিঠি দিয়ে জানাতে হবে।
এছাড়াও, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল কিছু কিছু বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি শেষ করার জন্য কমিশনের কাছে অতিরিক্ত কয়েকদিন সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। যদিও শুনানির চূড়ান্ত দিনক্ষণ দিল্লির নির্বাচন সদনই স্থির করবে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊